ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

মশার হাত থেকে বাঁচতে ‘স্পেশাল ড্রেস কোড’ সাজেশন দিলেন সাঈদ খোকন!

মেয়র সাঈদ খোকন মুগ্ধ করেই যাচ্ছেন। গত এক মাস তিনি যেসব কার্যকলাপ দেখালেন, ডেঙ্গু সমস্যা ঘিরে তাতে একটা কথাই মনে হয়েছে, মানুষ এমন নির্লজ্জ কিভাবে হয়? ডেঙ্গু নিয়ে শুরু থেকেই অবহেলা লক্ষ্যণীয়। তার উপর তিনি ডেঙ্গুর বিস্তারকে অস্বীকার করে এটাকে গুজবের সাথেও তুলনা দিলেন। আবার দাবি করলেন, তার সিটি কর্পোরেশন ভুল পথে নেই।

প্রধানমন্ত্রী বড় আশা করে বোধহয় মেয়র হানিফের পুত্র খোকনকে মেয়র পদে নমিনেশন দিয়েছিলেন। সাঈদ খোকন নিজের পিতার নাম তো ডুবাচ্ছেনই, একই সাথে জনগণকেও নিয়েও ভালো তামাশা শুরু করেছেন। জানি না, তিনি পদত্যাগ করার ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন কিনা। তবে, তিনি যে উদ্ভট উদ্ভট ভাবনা ভাবতে পারেন, সেটা তার সাম্প্রতিকতম বক্তব্য হতেই পরিষ্কার।

সাঈদ খোকন

তিনি রবিবার “কোরবানির বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মসজিদের ইমামদের মাঝে স্প্রে বিতরণ” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। সাঈদ খোকন যেখানেই বক্তব্য রাখছেন, সেখানেই তিনি কিছু একটা হৈ চৈ ফেলে দেয়া আজগুবি কথা বলবেন, এটা এখন রীতি হয়ে গেছে। এদিনও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি এই প্রোগ্রামে জনগণের জন্য মশা থেকে বাঁচার ঐতিহাসিক এক ফর্মূলা উপস্থাপন করেন। বলেন,

“মসজিদে মুসল্লিরা যখন নামাজ পড়তে আসেন, কমবেশি অনেকেই আজকাল পায়জামার সঙ্গে মোজা পরে আসেন। এটা হচ্ছে সচেতনতার লক্ষণ। আমরা যদি লম্বা পাঞ্জাবি পরি, পায়জামা পরি, পায়জামার সঙ্গে একটা মোজা পরি। তাহলে আমরা নিরাপদে থাকতে পারব।”

সাঈদ খোকনের কথা শুনে মনে হলো, এখন প্রচণ্ড শীতকাল চলছে। এইসময় শুধু পায়জামা না, পায়জামার উপর দিয়ে আরেকটা প্যান্ট, গায়ে শাল, গলায় মাফলার, পায়ে মোজা, বুট জুতা এসব পড়লে জনগণ খুব আরাম পাবে।

সাঈদ খোকন আরো বলেন, “বাসায় যে থাকবে, আমাদের সন্তান, তাদেরও বলব লম্বা জামা পরে থাকতে। একটু পা ঢেকে রাখতে। এভাবে ছোট ছোট সচেতনতা আমাদের এই শহরের মানুষের জীবনকে নিরাপদ করতে পারে। এটা আপনারা দয়া করে বলবেন।”

মেয়রের এই কথা শুনে আমি আজ কম্বল, লেপ নামিয়ে রেখেছি। দুইটা জামা সেলাই করে লম্বা করে নিয়েছি সাইজে। মেয়রের টোটকা বলে কথা। মশা এবার কামড়ানোর জায়গাই খুঁজে পাবে না। মশারাও ডিপ্রেশনে পড়ে যাবে।

এই কথা ভেবেই একটু চিন্তায় আছি। বুদ্ধির ঢেকি এই মেয়রের বুদ্ধির কারণে মশারা যদি জনগণকে কামড়াতে না পেরে, তাকে গিয়ে কামড়ায় তখন কি হবে? তিনি জনগণের জন্য ড্রেস কোড আবিষ্কার করলেও বয়ান দেয়ার দেবার সময় তার পরণে ছিল পোলো শার্ট।

সাঈদ খোকন,

মেয়র আপনি পোলো শার্ট পরে কেন ঘুরেন! আপনি সম্ভব হলে জোব্বা পরে ঘুরুন। হাতে গ্লাভস লাগিয়ে রাখুন। পায়ে মোজা রাখুন। পাজামার তলায় স্কিনটাইট কিছু একটা পড়ুন। মশার হাত থেকে আপনাকেও বাঁচতে হবে মেয়র। তা না হলে, কে আমাদের এমন বাণী দিয়ে হাসিয়ে যাবে? কে ভাববে জনগণের কথা? কার মাথা থেকে আসবে এসব তত্ত্ব?

মাথার কথা বলতেই মনে পড়লো, আপনার যে মাথা এটি সংরক্ষণ করে রাখার মতো। এই মাথার যত্ন নেয়া জরুরি। মশা থেকে এই মাথা রক্ষা করতে আপনি চাইলে হেলমেট পরে ঘুরতে পারেন। মিডিয়ার সামনে এসে হেলমেট খুলে কথাবার্তা বলেই আবার ঢুকে গেলেন ভিতরে।

সবচেয়ে ভাল হয়, আপনি যদি আপাদমস্তক বোরকা পরে ঘোরার অভ্যাস করতে পারেন। শরীর পুরাটাও কাভার হবে, কি বলেন? আশা করি, নিজের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজের জন্যেও একটা ড্রেস কোড ঠিক করে ফেলবেন। আপনারও নিরাপত্তা হলো, আমাদেরও বিনোদনের উৎস ঠিক থাকলো…

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button