সিনেমা হলের গলি

তিনি আঙুরলতা, তিনি দেবী, তিনিই সর্বজয়া!

নাটকে তিনি আঙুরলতা, চলচ্চিত্রে তিনি দেবী সরোজিনী। পদ্মায় নিজেকে বিসর্জন দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন সর্বমহলে। এই মুহুর্তে বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা অভিনেত্রী, যার নামেই প্রকাশ পায় তাঁর প্রতিভার ঝলকানি। তিনি সর্বজয়া, নাম তাহার জয়া আহসান।

নব্বই দশকের শেষভাগ মডেলিং এর মাধ্যমে মিডিয়া জগতের সাথে পরিচয়, এরপর টিভি নাটক। দেখতে স্নিগ্ধ, অভিনয় ভালো হলেও এসেই জনপ্রিয়তা পাননি, নিষ্প্রভই ছিলেন। ২০০৫ সালে ‘এনেছি সূর্যের হাসি’ ও ‘অফবিট’ করার পর নাট্যজগতে নতুনভাবে আলোচিত হতে থাকে জয়ার নাম।

এরপর টিভি নাটকে ব্যস্ততা। কাজ করেন হাটকুঁড়া, ৬৯, এফ এম সংবাদ, গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প, নির্জন স্বাক্ষর, শঙ্খবাস থেকে তারপরও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে, পাঞ্জাবীওয়ালা, চৈতা পাগল, আমাদের গল্প। হয়ে উঠেন টেলিভিশন জগতের শীর্ষ অভিনেত্রী।

নাটকের জয়যাত্রার পর চলচ্চিত্রেও তিনি সফল। মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ এ স্বল্প উপস্থিতি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর ২০১০ সালে নুরুল আলম আতিকের চলচ্চিত্র ‘ডুবসাঁতার’ এ প্রধান চরিত্রে প্রথম অভিনয়। প্রথম ছবিতেই বেশ প্রশংসিত।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেরা নারী চরিত্রগুলোর নাম উঠে আসলে নি:সন্দেহে ‘বিলকিছ’ চরিত্রটি থাকবে। আর ‘গেরিলা’ ছবিতে এই চরিত্রেই নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন জয়া। সর্বমহলে প্রশংসিত হবার পর শুরু হয় নতুন অধ্যায়। নাট্যজগত থেকে বিদায় জানিয়ে নিয়মিত হন চলচ্চিত্রে। কাজ করেন চোরাবালি, ফিরে এসো বেহুলা, জিরো ডিগ্রীর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্রে। এছাড়া কাজ করেছেন বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র পূর্নদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনীর সিরিজে। যদিও এতে তাঁর ভক্তরা হতাশ হয়েছেন। দেশভাগের করুন চিত্র নিয়ে ‘খাঁচা’য় অভিনয় করে পেয়েছেন ভূয়শী প্রশংসা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে জাতীয় পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন।

হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘দেবী’ সিনেমায় রানু চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক দর্শকসাড়া পেয়েছেন, ছবিটি হয়েছিল বছরের সেরা ব্যবসাসফল সিনেমা। এছাড়া রয়েছে বিউটি সার্কাস, পেয়ারার সুবাসের মতো অপেক্ষমান ছবি।এতে বুঝাই যাচ্ছে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে নিজেকে আরো উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাবেন। সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আহমদ ছফার আত্বজীবনীমূলক উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘অলাতচক্র’ সিনেমায়।

আমাদের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে যারা দেশের বাইরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের মধ্যে নির্দ্বিধায় নাম থাকবে জয়ার নাম। অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ দিয়ে ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক। এই ছবি দিয়ে লাল গালিচায় হাঁটেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। এরপর একটি বাঙ্গালি ভূতের গপ্পো, রাজ কাহিনী, ঈগলের চোখ, এক যে ছিল রাজার মতো চলচ্চিত্র। ‘বিসর্জন’ ছবিতে অভিনয় দিয়ে নিজেকে করেছেন অনন্য। এই বছর কন্ঠ ও বিজয়া দিয়ে নিজেকে আরো সমাদৃত করেছেন।

দেশের এই শীর্ষ অভিনেত্রী বর্ণিল ক্যারিয়ারে অর্জন করেছেন বেশ কিছু পুরস্কার। স্বল্প সময়েই অর্জন করেছেন তিনটি জাতীয় পুরস্কার, মুক্তির অপেক্ষায় থাকা চলচ্চিত্রের নামগুলো দেখলেই বোঝা যায়, জাতীয় পুরস্কার আরো ঘরে তুলবেন। এই তালিকায় শাবানা, ববিতাদের সাথে নিজের নাম লেখাবেন। এছাড়া সাতটি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অর্জন করেছেন বেশ কিছু পুরস্কার। ভারতেও পেয়েছেন পুরস্কার। অচিরেই হয়তো খেতাব পাবেন ‘পুরস্কার কন্যা’ হিসেবে।

আজ এই মেধাবী অভিনেত্রীর জন্মদিন, শুভকামনা রইল। ব্যক্তিজীবন কিংবা মিডিয়া ভুবন সব মাধ্যমেই আলো ছড়াক, এই প্রত্যাশা করি। শুভ জন্মদিন জয়া আহসান!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button