এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

সত্যিকার ভালোবাসা বলেও হয়তো কিছু আছে!

জোনাথন গ্রান্ট ও লরা ব্রাউনিং ভালোবেসে বিয়ে করেছিল ২০১২ সালে। সুখে পরিপূর্ণ ছিল নেভি সিল জোনাথন গ্রান্ট আর পিলাটিস ইন্সট্রাক্টর লরা ব্রাউনিং এর সংসার। কিন্তু এত সুখ কি আর বেশিদিন কপালে সয়? ৫ম বিবাহ বার্ষিকী আসতে না আসতেই তাদের সুখের সংসারে ‘নজর’ লেগে গেল। কল্পনাও করতে পারেনি তারা বিয়ের মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় জীবন এমন বিধ্বংসী রূপ দেখাবে তাদের!

২০১৭ সালের মার্চ মাস। জোনাথন আর লরার সুখের সংসারে নেমে এল অভিশাপ। মারাত্মক এক গাড়ি এক্সিডেন্টের শিকার হলো জোনাথন। পেশাগত কারণে তিনবার দেশের বাইরে যুদ্ধ করে ফেরত আসা জোনাথন গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে কতল হয়ে কোমায় চলে গেল। লরার জীবনে শুরু হলো কালো এক অধ্যায়। তবুও, প্রিয় মানুষটিকে এমন অসার দেখেও ভেঙে না পরে আশায় বুক বেধে রইলো লরা। কবে সুস্থ হবে ভালোবাসার মানুষটি? কবে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসবে? কিন্তু জোনাথনের অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। টানা দুইমাস কোমায় থেকে, যখন ডাক্তাররাই সংশয়ে ভুগছিলেন- হয়তো জোনাথনকে আর বাঁচানো যাবে না, নিজের পায়ে কখনোই উঠে দাঁড়াতে পারবে না সে, ঠিক তখনই সাড়া দিল জোনাথন। এক্সিডেন্টের দুইমাস পর কোমা থেকে বের হয়ে আসলো ঠিকই, কিন্তু ব্রেইনে আর শরীরে মারাত্মক আঘাতের কারনে দেহটাই আর আগের মতো নাড়াতে পারে না জোনাথন। কথাও জড়িয়ে জড়িয়ে আসে, স্পষ্ট নয়।

Image Source: daily mail

মানসিকভাবেও প্রচন্ড দুর্বল হয়ে পরলো জোনাথন। এই পরিস্থিতিতে ভালোবাসার মানুষের হাতটা শক্ত করে ধরলো লরা। সে নিজেও যেহেতু পেশায় শরীরচর্চাবিদ, তার মনে হয়তো বিশ্বাস ছিল- আপ্রাণ চেষ্টা আর ভালোবাসায় ভালোবাসার মানুষটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবে সে। তার ভাষায়- ‘ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি জোনাথনকে সুস্থ করতে সাহায্য করবো কিনা! আমি শুধু মাথা ঝাকিয়ে কোমর বেঁধে নেমে পরলাম।’

এরপর? সাধনা হয়তো একেই বলে! সত্যিকার অর্থে মন থেকে চাইলে যে চাওয়া বিফলে যায় না, তারই প্রমান মেলে কোমা থেকে মুক্তির মাস তিনেক পর৷ এই তিনটি মাস জোনাথনের সাথে আঠার মতো লেগে ছিল লরা৷ নাওয়া-খাওয়া ভুলে স্বামীকে কীভাবে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনবে, সেই সাধনাতেই ব্রত ছিল সে। আর এজন্য ডাক্তার-ফিজিশিয়ানদের সাহায্য তো নিয়েছেই, তাছাড়াও জোনাথনের শরীর-মন শক্ত করতে অন্যান্য অনেক থেরাপিও দিয়েছে জোনাথনকে।

Image Source: daily mail

ফলস্বরূপ, এক্সিডেন্টের ৫ মাস পর প্রথমবারের মতো নিজ পায়ে উঠে দাঁড়ায় জোনাথন। তাকে সুস্থ করতে গত তিনমাসে স্ত্রীর সংগ্রাম তিনি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছে দেখেই হয়তো প্রথমবার দাঁড়িয়েই স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে চুমু দেয় সে। ইমোশনাল এই ভিডিওটি লরা তার ইন্সটাগ্রাম আইডিতে শেয়ার করলে তা ভাইরাল হয়ে পরে। অনেকেই উৎসাহিত হয় ভিডিওটি দেখে।

এখন আগের চেয়ে অনেক সুস্থ আছে জোনাথন। নতুন করে জীবন শুরু করেছে তারা। যখন চারদিকে শুধু ভাঙনের গল্প, কারণ হিসেবে মেয়েদেরই দায়ী করা হয়, তখন লরার মতো মেয়েরা উদাহরণই হয়ে থাকে। সত্যিকার ভালোবাসা বলেও হয়তো কিছু আছে, এমনটাই মনে হয় তখন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button