সিনেমা হলের গলি

কেমন হলো চলচ্চিত্রে তাহসানের অভিষেক?

যদি একদিন মুক্তির আগে সিনেমা নিয়ে তাহসানের সাথে কথা হচ্ছিল। তারকাদের সমালোচনা নিয়ে কথা উঠলো, খানিকটা আক্ষেপ নিয়েই তাহসান বললেন, ‘আমি তো চঞ্চল চৌধুরী নই, আমি তার মতো মেথড এক্টিং করতে পারবো না। আমি আমার সামর্থ্যের মধ্যে যতোটা সম্ভব, সেটাই করছি। আমি জানি আমার মধ্যে কমতি আছে, গত ছয় বছর ধরে সবসময় নিজেকে আরেকটু বেটার করার চেষ্টা করছি। অথচ আমার অভিনয়ের ভুল না ধরে অনেকে সমালোচনা করেন কেন আমি একইসঙ্গে গান, মডেলিং, অভিনয় সবকিছু করছি এটা নিয়ে! একটা মানুষ কি একের বেশি কাজ করতে পারবেন না? এই প্রশ্নটাই কি সত্যজিত রায়কে কেউ করেছেন, তিনি কেন শুধু লেখালেখি না করে সিনেমা বানাচ্ছেন?’ কথাটা যুক্তিযুক্ত অবশ্যই!

যদি একদিন নিয়ে আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলেন তাহসান নিজেই। গায়ক থেকে অভিনেতা বনে যাওয়া তাহসান এই সিনেমা দিয়েই পা রেখেছেন চলচ্চিত্রের বিশাল দুনিয়ায়। বিপরীতে আছেন ওপার বাংলার নায়িকা শ্রাবন্তী। মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত সিনেমাটা মুক্তি পেয়েছে গত শুক্রবারে। সিনেমা নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র, কারো কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে, আবেগকে স্পর্শ করে গিয়েছে। অনেকে আবার এটাকে বলেছেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত মেলোড্রামায় ভর্তি সিনেমা।

তবে তাহসানের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন প্রায় সবাই। সিনেমা দেখে যে দর্শক চোখেমুখে মুগ্ধতা নিয়ে বেরিয়েছেন, তিনি যেমন তাহসানকে স্ততিতে ভাসিয়েছেন, তেমনই সিনেমা দেখে বিরক্ত হওয়া দর্শকও অভিনয় করেছেন তাহসানের অভিনয়ের। যদি একদিনের কাস্টিং ঘোষণার পরে অনেকেই বলেছিলেন, বড় পর্দায় তাহসানকে মোটেই মানাবে না, কিংবা তাহসান ‘ফিল্মি’ প্রোডাক্ট নন। তবে সেসব সমালোচনায় জল ঢেলে দেয়ার কাজটা তাহসান নিজেই করেছেন।

অভিনেতা তাহসানকে নিয়ে সমালোচনা ছিল, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে, কারণ অভিনয়টা তার স্ট্রং জোন নয়। অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষাও নেই তার। তার অভিনয়ে ন্যাকামির পরিমান বেশি, আরোপিত একটা ভাব সবসময়ই থাকে। তাহসানের অভিনয়টাকে অভিনয়ই মনে হয়, কখনও সেটা অতি অভিনয়ও হয়ে যায়, বাস্তবের সাথে মিল থাকে সামান্যই। সিনেমাতেও এমন কিছু হয় কিনা, সেই শঙ্কাটা ছিলই।

তবে যদি একদিন মুক্তি পাবার পরে শঙ্কার সেই কালো মেঘটা সরে গিয়ে সূর্যের হাসিতে উদ্ভাসিত আকাশ। সিনেমায় তাহসান একজন বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, রাইসা নামের মেয়েটার সঙ্গে তার রসায়নটা জমেছে দুর্দান্ত। পর্দায় দেখে একবারের জন্যেও মনে হয়নি যে রাইসা আসলে তাহসানের মেয়ে নয়! ইমোশনাল এটাচমেন্টের জায়গাগুলোতেও তিনি যথেষ্ট সাবলীল, অতি অভিনয় ছিল না তেমন কোথাও। অভিনয়টাকে ‘অভিনয়’ না বানানোর প্রাণপণ চেষ্টা ছিল তাহসানের, ক্ষেত্রবিশেষে সেখানে তিনি সফলও। হ্যাঁ, যদি একদিনে তাহসানের অভিনয় নিখুঁত নয়, তবে খুঁতের পরিমাণটা সেখানে নগণ্যই বলা চলে।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, তাহসান চেষ্টা করেছেন, যে চেষ্টাটা নাটকে অনেকসময় চোখে পড়ে না। সিনেমা যে নাটকের চেয়ে অনেক আলাদা একটা মাধ্যম, সেটার গুরুত্ব তাহসান অনুধাবন করেছেন এবং সেটার জন্যে বেশ প্রস্তুতি নিয়ে আঁটঘাট বেঁধেই কাজে নেমেছেন, এটা তার অভিনয় দেখলেই বোঝা যাবে। সিনেমার মেকিংটা আরেকটু ভালো হলে তাহসানের অভিনয়টা হয়তো আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠতো, সে যাই হোক, নির্মাণে তো আর তাহসানের হাত নেই, নিজের কাজটা তিনি ঠিকঠাক করার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছেন।

তাহসান বলেছিলেন, সিনেমা খারাপ হলে সেটার পুরো দায়ভার তিনি নিতে চান। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, দর্শক যদি সিনেমাটা গ্রহণ না করেন, তাহলে কি বড় পর্দায় তাকে আর দেখা যাবে না? তাহসান শুরুতে সরাসরি ‘না’ ই বলে দিলেন! কিন্ত সিনেমা তো টিমওয়ার্ক, সেটা ভালো বা খারাপ হওয়ার পেছনে তাহসানের চেয়ে অন্য কারো ভূমিকা বেশি হতেই পারে। সেই যুক্তিটা তাহসান মেনে নিলেন, তবুও বললেন, তিনি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখেই সিদ্ধান্তটা নেবেন। সিনেমায় অভিনয়ের ব্যাপারে তাহসান কি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। দর্শকদের প্রশংসাই বলে দিচ্ছে, ‘অভিনেতা তাহসান’কে সিনেমায় তারা দেখতে চান আবারও!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button