মনের অন্দরমহল

আমার সাথে যা হয়েছে, জবাবে আমি যা করেছি…

Ispita Nag:

কেন জানি না আজ নিজের সাথে হওয়া প্রতিটা সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্ট নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করছে। আদৌ কি হ্যারেস হয়েছিলাম আমি? সেই ছোট থেকেই শুরু করি যখন বয়স সাত। নিজেরই কোনো এক নিকটাত্মীয় যেদিন আমায় কুৎসিতভাবে পেটে আর পিঠে হাত বুলিয়েছিল সেদিন কী হয়েছিলো আমার সাথে?

আট বছর বয়সে যেদিন কোনো এক আঙ্কেল স্নেহ করার নাম দিয়ে দুপায়ের ভাঁজটায় হাত দিতেই যাচ্ছিল, সেদিন আসলেই কী হয়েছিল? দশ বছর বয়সে যখন আমি সাইকেল চালাতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে গিয়েছিলাম, সেদিন আমাকে তোলার নাম দিয়ে যে দাদাটা আমার দেহের বামপাশের সংবেদনশীল জায়গায় হাত প্রায় বাড়িয়েই ফেলেছিল, তিনি সেদিন কী করেছিলেন?

এগারো বছর বয়সে যখন কলোনির সবাই মিলে এক ভাবীর ঘরে ‘কারাতে’ মুভি দেখছিলাম সেদিন ভাবীর দেবর আমার কানে চুমু এঁকে দেয়াটা কী ছিল? সে বয়সেই যখন আরেকজন ব্যাক্তি আমাকে ছোট ভেবে কাঁধে হাত দিয়েছিল সেটা কী ছিল? বারো বছর বয়সে যে ছেলেটা আমি সন্ধ্যায় কারেন্ট যাওয়ায় ছাদে বসে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে চেপে ধরতে চেয়েছিল, সে কী করছিল? পনের বছর বয়সে যে মানুষটা আমার ঘরের দরজা খোলা পেয়ে আমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুঁতে গিয়েছিল, সেটা কী?

ষোল বছর বয়সে যখন কোনো এক ভাইয়ের প্রেমিকাকে মিলানোর জন্য তার সাথে তার প্রেমিকার সহিত দেখা করতে যাচ্ছিলাম সিএনজিতে, সেদিন বড় ভাই পিঠের পিছন থেকে সামনে আর উপরের দিকে হাত চালাতে চেয়েছিল, সেদিন আমি কি তাকে সুযোগ দিচ্ছিলাম?

এরপর যখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলাম ভর্তি শেষে সেদিন যে বন্ধুটা আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আমার হাতটা চেপে ধরেছিল, তখন আমি কী করছিলাম? ঢাকায় এসে কিছুদিন পর যখন তাকে (!!) বলেছিলাম আমার আপনাকে সত্যি দরকার কিন্তু সে ফিরেনি। তার দুদিন পর যখন প্রথম প্রেজেন্টেশন দিয়ে শাড়ি পরে বিআরটিসির লোকাল বাসে বসে পাশের সিটের এক নেপালি নাগরিক যে কিনা বাংলাদেশে কর্মসূত্রে আছে, আমার পাশে নিচু কন্ঠে বলেছিল, চলুন নেমে যাই। শুনেছি বাংলাদেশী মেয়েরা খুব এক্সপার্ট এসব দিকে, তাকে কি আমি কিছুই বলিনি?

কি মনে হয়, প্রতিটা ক্ষেত্রে আমি প্রশ্রয় দিয়েছি? কিচ্ছু কেন করিনি। আজ কেন সবার অ্যাটেনশন নিচ্ছি। তবে বলি মুদ্রার ওপিঠের কাহিনী।

মা খুব ছোট বেলাতেই আমাকে বলত কেউ যদি তোমার এই জায়গায় ঐ জায়গায় স্পর্শ করতে চায় তাহলে দিবা না,কাউকে চুমু খেতে দিবা না৷ কারো খুব কাছে যাবা না। ফলস্বরূপ সাত বছর বয়সে ঐ নিকটাত্মীয়কে সেদিন নতুন গজানো দাঁত দিয়ে কামড় কেটেছিলাম, এরপর তিনি আর কোনোদিন আমার সাথে এমন করেননি৷

আট বছর বয়সে ঐ আঙ্কেলটা আমার পায়ের ভাজে হাত রাখার আগেই আমি তার হাতে কলম দিয়ে ছেদ করে রক্তাক্ত করেছিলাম তখন অনেকটা বুঝতাম এসব। দশ বছর বয়সে যে দাদা আমার বামপাশটায় হাত প্রায় দিয়েই ফেলছিল তার গোপনাঙ্গে কেডস পরা পা দিয়ে একটা লাথি মেরেছিলাম। সেদিন যে বুঝে গিয়েছিল এলাকায় নতুনত্বের সূচনা হয়ে গেছে।

এগারো বছর বয়স মানে আমি তখন যথার্থই বড় হয়েছি এসব দিক বুঝতে। সে ভাবীর দেবরকে থাপড়ে কান ধরে টানতে টানতে নিচ তালায় সবার সামনে এনে মিটিং বসিয়েছিলাম। এতো গায়ের জোড় কোত্থেকে ভাবা হচ্ছে? সাহস ছিল, আর মায়ের দেয়া শক্তি।

বারো বছর বয়সে যে ছেলেটা চেপে ধরতে চেয়েছিল আজ সে না জানি মোটা গাছের প্রহার খেয়ে কোথায় পালিয়েছে। ষোল বছর বয়সে যে ভাইটা আমার দেহকে নিজের সম্পত্তি ভাবতে চেয়েছিল, জানি না তার পুরুষাঙ্গে আর হাতের ভাজে এখনো ব্লেড আর সেফটিপিনের প্রচন্ড খোঁচার দাগ পাওয়া যায় নাকি।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে সীমা অতিক্রম করা বন্ধুটাকে কি করেছিলাম? গায়ের সম্পূর্ণ শক্তিতে তার হাতটা মুচড়ে দিয়েছিলাম সাথে বোনাস হিসেবে চড়।

সেই নেপালের মানুষটা কে আমি সেদিন ছাড়ি নি। কি করেছি তা বুঝে নেয়ার ক্ষমতা সবার আছে। তবু বলি। আমি বলেছিলাম উচ্চ স্বরে-“বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ৷ আমি এদেশের মেয়ে। আর তাই এখানে ছোট থেকে মুসলমানি ব্যাপারটার সাথে খুব পরিচিত৷ এখানেই তোর পুরুষাঙ্গ কেটে হাতে দিয়ে দিবো, মেয়ে দেখলেই যদি দাঁড়িয়ে যায় তাহলে তা কেটে হাতে দিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলার কিছু মেয়ে তো আছেই যারা এক্সপার্ট।”

নিজের সাথে হওয়া এসব ঘটনা আজ লিখেই ফেললাম, আরো আছে। তবে আর বলবো না। এবার যার যা, ভাবার ভাবতে পারুন।

আরও পড়ুন-

 

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button