অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

পর্যটকদের নাম ডোবাচ্ছেন ভারতীয়রা?

অল্প কয়েকদিন আগের কথা, অনলাইনে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ায় বেড়াতে গিয়ে এক ভারতীয় পরিবার উঠেছিল হোটেলে, চেকআউট করে যখন তারা হোটেল ছাড়বেন, তখন হোটেলের সিকিউরিটি গার্ডদের কাছে খবর আসে, হোটেলের রুম থেকে শ্যাম্পু-সাবান, তোয়ালে, হেয়ার-ড্রায়ার, এমন কী রুমে সাজানো পেইন্টিংগুলো গায়েব হয়ে গেছে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সেই পরিবারের সদস্যদের লাগেজ চেক করে হোটেল কর্তৃপক্ষ, আর লাগেজ থেকে প্রত্যেকটি জিনিসই উদ্ধার করা হয়। তল্লাশীর পুরো ভিডিওটি হোটেলের এক কর্মচারী মোবাইলে ধারণ করেছিলেন, সেটাই পরে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে।

সুইজারল্যান্ডের আল্পসে আর্ক-অন সিয়েল নামের একটা হোটেল আছে। সুইজারল্যান্ড দেশটা ছবির মতো সুন্দর, সাজানো গোছানো। আল্পস শহরটাও সেই সৌন্দর্য্যের ভাণ্ডার খুলে বসেছে। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এই শহরে বেড়াতে আসেন, এদের মধ্যে কয়েক হাজার ভারতীয় পর্যটকও আছেন।

সেই হোটেলটার ডায়নিঙে একটা নোটিশ ঝোলানো হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল- “ভারতীয় অতিথিদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন ব্রেকফাস্ট ব্যুফে থেকে খাবার না সরান এবং হোটেলের করিডর ও ব্যালকনিতে প্রচন্ড চেঁচামেচি না করে অন্য অতিথিদের অসুবিধে না ঘটান। অন্যথা হোটেল কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।”

হর্ষবর্ধন গোয়েঙ্কা নামের ভারতীয় এক শিল্পপতি সেই হোটেলে উঠেছিলেন, নোটিশটা দেখে সেটার ছবি তুলে তিনি টুইটারে পোস্ট করেন। নোটিশটা দেখে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করলেও, তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ভারতীয় এবং উপমহাদেশীয়রা ট্যুরিস্ট হিসেবে সত্যিই তো খুব উগ্র, চিৎকারবাজ (লাউড), উদ্ধত (রুড) এবং অন্যের সংস্কৃতির প্রতিও সহনশীল নয়।

হর্ষবর্ধনের সেই টুইটের সঙ্গে অনেকেই একমত পোষণ করেছেন। এই ঘটনার পরে বিবিসি এই সংক্রান্ত একটা প্রতিবেদনের জন্যে একটা জরিপ চালিয়েছিল, সেখানে স্বয়ং ভারতীয়রাও বলেছেন যে, কিছু ভারতীয় পর্যটকের কারণে তাদেরকেও ইউরোপ বা আমেরিকায় গিয়ে সীমাহীন লজ্জার মুখোমুখি হতে হয়।

ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ায় এখন এই অভিযোগগুলো প্রতিনিয়তই উঠছে। সোয়াশো কোটি মানুষের বিশাল দেশ ভারত, সেই দেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষ অন্যান্য দেশে বেড়াতে যায়। সবার আচার-ব্যবিহার বা মূল্যবোধ একইরকম হবে না, কিন্ত অনেক জায়গায় গিয়ে ভারতীয় পর্যটকেরা অন্য মানুষজনের বিরক্তির কারণ হচ্ছেন, নিজেদের কৃতকর্মের কারণে অভিযুক্ত ও হাসির পাত্র বনে যাচ্ছেন বলেই প্রসঙ্গটা উঠছে বারবার।

ইন্দোনেশিয়ায় বেড়াতে যাওয়া ভারতীয় সেই পরিবারের কথাই ধরুন। পুরো পরিবারের সদস্যরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে সেখানে ঘুরতে গিয়েছেন, তাদের কোন দরকার ছিল না হোটেল থেকে কয়েকশো টাকা দামের শ্যাম্পু-সাবান, তোয়ালে বা হেয়ার-ড্রায়ার চুরি করার। পরে যখন ধরা পড়েছেন, তখন বারবার সেগুলোর দাম দিয়ে দেয়ার কথাও বলেছেন। হোটেলের এক কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় বলছিলেন, ‘ইটস নট এবাউট মানি, ইটস অল এবাউট ডিগনিটি এন্ড সেলফ রেসপেক্ট।’

এই প্রবণতাটা শুধু ভারতীয় নয়, পুরো উপমহাদেশের অনেক মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান। আমাদের দেশের লোকজনও বাইরের দেশে হোটেলে উঠলে এরকম সাবান-তোয়ালে ব্যাগে ভরে নিয়ে আসে। এমনকি বিমানে মুখ মোছার জন্যে যে টাওয়েল দেয়া হয়, সেটাও নিয়ে আসতে শুনেছি অনেককে। এছাড়া বেড়াতে গিয়ে মদ খেয়ে মাতাল হওয়া বা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তো আগে থেকেই আছে। আমাদের এসব বাজে স্বভাব যদি অব্যহত থাকে, কে জানে, হয়তো অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় হোটেলে ঢোকার আগেই লেখা দেখবো- ‘উপমহাদেশীয় পর্যটক নিষিদ্ধ!’

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button