খেলা ও ধুলা

ভারত ম্যাচে কি বাংলাদেশকে ‘বান’ মারে কেউ!

সুযোগটা এসেছিল, অনেকগুলো শেষ বলের হারের ক্ষতের প্রলেপ দেয়ার। তাদের প্রতি প্রত্যাশা ছিল, মাশরাফিদের ক্ষতে প্রলেপ দিতে পারবেন তো হৃদয়রা? ভারতকে হারাতে পারলে ফাইনালে উঠে যেতেন যুবারা। শেষ উইকেটে তখন মিনহাজুর রহমান আর রকিবুল হাসান। খেলায় তখন ২২ বলে যখন ৩ রান দরকার, অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালের টিকেট বাংলাদেশের যুবাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু একি করলেন মিনহাজ?

একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের ফেসবুক লাইভে দেখা গেলো, নন স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে মিনহাজের পাগলাটে দৌড়! পরিণতি? রান আউট, বাংলাদেশের ২ রানের হার। হাতের মুঠোয় থাকা ফাইনালের টিকেট হাতছাড়া। মিনহাজকে কাঠগড়ায় তলা যায়, কিন্তু ম্যাচ শেষে হতাশায় উইকেটে যেভাবে পড়ে রইলেন দুইজন, তাদের প্রতি প্রশ্ন তোলাটাই কেমন অমানবিক দেখায়।

এমন রানআউটের হারে পুরনো কোন হারের স্মৃতি মনে পড়েছে? টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের সেই হার। তিন বলে প্রয়োজন দুই রান। পরপর দুই বলে বাতাসে বলটা ভাসিয়ে খেলে মুশফিক-রিয়াদের আত্মাহুতি। এরপর মুস্তাফিজের রানআউট! হতাশায় মুষড়ে পড়া।

যুবাদের এশিয়া কাপের এই আসরে অভিষেক হয়েছে ৮ ক্রিকেটারের, শ্রীলংকার সাথে হেরেছে প্রথম ম্যাচ। পাকিস্তানকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আবার, হংকংকে হারিয়ে উঠেছে সেমিফাইনালে। ভারতের সাথে বোলিংটা হয়েছে বেশ। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর বিপক্ষে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে আলোচনায় আসা পেসার শরিফুল ইসলামের গতির ঝড়ে ১৭২ রানে গুটিয়ে গিয়েছে ভারত। কিন্তু টপঅর্ডারের যাচ্ছেতাই ব্যাটিংয়ে ৬৫ রানে ৫ উইকেট নেই। এরপর শামীম-আকবর আলীর প্রতিরোধ, বুক চিতিয়ে লড়াই করা ষষ্ঠ উইকেট জুটি ৭৪ রান যোগ করে ফাইনালের স্বপ্ন দেখিয়েছিল বাংলাদেশকে। ১৩৯ থেকে ১৭০, ৩১ রানে পাঁচ উইকেট হারানো এবং সাথে যোগ করুন শেষ ব্যাটসম্যান মিনহাজের পাগলাটে রানআউট। সব এলোমেলো হয়ে গেল।

গতকাল ৩৯ বলে বাংলাদেশের দরকার ১২ রান, ভারতের ১ উইকেট। রানআউট হবার আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৩ বলে ৩ রান। তিনটি সিঙ্গেল রান দুরুত্ব যখন, তখনই সেই পুরোনো গল্প। আরও একবার তীরে এসে তরি ডুবল বাংলাদেশের। কিন্তু এই আক্ষেপের শেষ কোথায়? সিনিয়র কিংবা যুব দল— সবখানে কি শুধু দুঃখের গল্পই লেখাই হবে?

ম্যাচ শেষে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে শামীম কেবল এতটুকুই বললেন, ‘এমন হারের কষ্টটা তো বলে বোঝানো যাবে না। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছি ম্যাচটা শেষ করে আসার।’

ম্যাচ শেষে শামীমের মতন অমন কান্নাভেজা হতাশামাখা মুখ দেখা গিয়েছে এর আগেও, জাতীয় দলের অনেকেই এমন ম্যাচ হেরে কেঁদেছেন। এই কাঁদানোর তালিকায় সবচেয়ে বেশীবার এসেছে এই ভারতের নাম। গত ৯ বছরে ৬টা ফাইনাল হেরেছে বাংলাদেশ, যার তিনটিই এশিয়া কাপ। দুইবারই প্রতিপক্ষ ভারত, একবার পাকিস্তান। ২০১২-তে পাকিস্তানের সাথে দুই রানে হার, এইতো সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে শেষ বলে হার। শ্রীলংকায় নিদহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের সাথে জিতে যাওয়া ম্যাচে দিনেশ কার্তিকের দানব হয়ে উত্থান, সৌম্যের দারুণ বোলিং করেও শেষ বলের ছক্কায় বাংলাদেশের হেরে যাওয়া। আর কিছুদিন আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে অল্প রান নিয়েও জমজমাট লড়াইয়ের পর শেষ বলে হার। আর কত?

মাসখানেক আগে ফুটবলেও অনুর্ধ্ব-১৬ সাফের ফাইনালে ভারতের সাথে ১-০ গোলের হার। ভারত যেন এক দুর্বোধ্য ফাঁদ। ভারত ম্যাচে যেন বাংলাদেশকে ‘বান’ মারে কেউ, জিততে দিবে না সে! এই বান ঠেকাব কীভাবে? এই ফাঁদ থেকে বাংলাদেশ নিজেকে টেনে তুলবে কবে? আর কত ফাইনাল কিংবা শেষ বলের হার থেকে মিলবে মুক্তি!

আরও পড়ুন-

Facebook Comments

Tags

Tanvir Hossain Jony

“আমি পথ কিংবা গন্তব্যহীন, ভীষণ বেখেয়ালিপনা আমার সব নিউরন জুড়েই। তবুও এমন কিছু করে মরতে চাই, যেন আমার মৃত্যুর খবর পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় হরফে লিখা হয়, শোক নেমে আসে গোটা দেশ জুড়ে!”

Related Articles

Back to top button