অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

স্মরণকালের ভয়াবহতম অগ্ন্যুৎপাতের মুখোমুখি আইসল্যান্ড?

আইসল্যান্ড কি দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে? আগামী আট থেকে বাহাত্তর ঘন্টার মধ্যে ভয়াবহ মাত্রার অগ্ন্যুৎপাতের শিকার হতে পারে ইউরোপের এই দেশটি। গত চার দিনে ছোট ও মাঝারি মিলিয়ে চারশোর বেশীবার ভূমিকম্প হয়েছে আইসল্যান্ডে। বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন, বড় ধরণের অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বাভাস এটি।

দুইদিন আগেই মাউন্ট ফ্যাগ্রাডালসফলের উত্তর-পূর্ব অংশে একটানা চল্লিশটি আলাদা ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, শেষোক্ত ভূকম্পনটি রেকাভিক শহর থেকেও অনুভূত হয়েছিল, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল চার। অগ্ন্যুতপাত বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানোক্যাফে বলছে, প্রতি তিন থেকে সাত বছরের মধ্যে আইসল্যান্ডে অগ্ন্যুতপাত হওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনাই। তবে মাত্রাটা সীমার মধ্যেই থাকে।

২০১০ সালে সর্বশেষ যখন বড় ধরণের আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভার মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল, সেবার প্রায় তিন মাস ইউরোপের অনেক জায়গার আকাশ ঢেকে ছিল ছাইয়ের মেলায়। বিমানযাত্রাও বিঘ্নিত হয়েছিল চরমভাবে, আইসল্যান্ডের পর্যটন খাত মোটামুটি পথে বসে গিয়েছিল।

ভলকানোক্যাফে-তে কার্ল রেনিবার্গ লিখেছেন, মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই শান্ত সুনীবিড় জনপদে এমন দুর্যোগের ঘনঘটা আগে দেখেননি তিনি। আরো লিখেছেন-

‘আমরা জানতে পেরেছি যে ভূমিকম্পের ফলে প্রাথমিক জলোচ্ছ্বাসটা সৃষ্টি হতে পারে। জ্বলন্ত লাভার সঞ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং কোনকিছুই এখন আমাদের হাতে নেই। আমরা শুধু প্রার্থনা করতে পারি যেন অগ্ন্যুতপাতটা ভূকম্পনে রূপ না নেয়।’

এমন পরিবেশ পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকেরা অনেকটাই নিশ্চিত যে, এক থেকে সাতদিনের মধ্যেই অগ্ন্যুতপাত ঘটে যাবে। কিন্ত লাভার উদগীরণের বেগ অনেক বেশী, চার ঘন্টায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়েছে তপ্ত কণিকা। ধারণা করা হচ্ছে মূল অগ্ন্যুৎপাতটির খুব বেশী দেরী নেই আর। তবে উদগীরণটা থেমে গেলে অগ্ন্যুতপাতটাও থেমে যাবে, এমনটা মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্ত সেটার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভূমিকম্পসহ খারাপ কোন পরিস্থিতিই অপেক্ষা করছে এখানকার মানুষের জন্যে। অগ্ন্যুৎপাত না হবার সম্ভাবনা এখনও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা, কিন্ত সুখবর পাবার সম্ভাবনা কম বলেই জানানো হয়েছে তাদের তরফ থেকে। যদিও আইসল্যান্ডের মেট অফিস থেকে এটিকে দুর্যোগ হিসেবে মানতে অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বলছে, এটি নিয়মিত প্রাকৃতিক একটি ঘটনা।

মাউন্ট ফ্যাগ্রাডালসফলে যে পরিমাণ ভূমিকম্প হয়, সেগুলোর এক শতাংশও আমরা অনুভব করি না। শেষবার টানা ভূকম্পন হয়েছিল ২০০৪ সালে, সেটার মাত্রাও চার থেকে সাড়ে চারের মধ্যেই ছিল। এখানে ভূমিকম্প খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, হরহামেশাই আমরা এগুলোর মুখোমুখি হই। তবে এক জায়গাজুড়ে একটানা ভূকম্পন হওয়াটাও ভালো কোন ব্যপার নয়- বৃটেনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলছিলেন আইসল্যান্ডের ট্যুর গাইড গানার ব্রিগসন।

আইসল্যান্ডের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি জ্বালামুখগুলোর অন্যতম হচ্ছে বারদারবুঙ্গা, বছর তিনেক আগে এখান থেকে একটানা ছয় মাস লাভা নির্গত হয়েছিল, যদিও পরিমাণ খুব বেশী ছিল না। হলুরাউন লাভা ফিল্ডে হওয়া এই অগ্ন্যুতপাতে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, প্রায় ষোলশো ভুকম্পন অনুভূত হয়েছিল এটির কারণে, সর্বোচ্চটির মাত্রা ছিল সাড়ে চার।

আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ এবং এই বিষয়ে উৎসাহীরা এখন দমবন্ধ এক পরিস্থতিতে অপেক্ষা করছেন কী ঘটে সেটির জন্যে…

ইন্ডিপেন্ডেন্ট অবলম্বনে

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button