অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

সৌদি আরবের ‘হালাল নাইটক্লাব’ এবং কিছু কথা

পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আরব সাগরের বুকে ছোট ছোট অনেকগুলো দ্বীপজুড়ে বিকিনি বিচ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব- এটা তো পুরনো খবর। প্রিন্স সালমান ক্ষমতায় আসার পরে সেদেশে সিনেমা হল চালু হয়েছে গতবছর, নারীরা মাঠে খেলা দেখা এবং নিজেরা ড্রাইভিং করার অনুমতি পেয়েছেন, এগুলোও অনেকে জানেন। তবে আপাতত ব্রেকিং নিউজ হচ্ছে, ইউরোপ-আমেরিকার মতো সৌদি আরবও প্রবেশ করতে যাচ্ছে ‘নাইটক্লাব’ সংস্কৃতিতে। জেদ্দায় উদ্বোধন হতে যাওয়া এই ক্লাবটিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবী করছে ‘হালাল নাইটক্লাব’ হিসেবে। অবশ্য, নাইটক্লাবের মধ্যে হালাল কোথায় আছে সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন!

দুবাইভিত্তিক বিখ্যাত নাইটক্লাব চেইন ব্র‍্যান্ড ‘হোয়াইট’ এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে এই নাইটক্লাবটি। দুবাই এবং বৈরুতে হোয়াইটের বেশকিছু নাইটক্লাব আছে। তবে সেগুলোর কোনটার গায়েই এই ‘হালাল নাইটক্লাব’ ট্যাগ লাগানো হয়নি। কট্টর রক্ষণশীল দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে তাই এই নাইটক্লাবের আগমনটাকে বিস্ময়ের চোখে দেখছেন অনেকেই।

কি থাকছে এই ‘হালাল’ নাইটক্লাবে? কেনই বা এটাকে হালাল হিসেবে দাবী করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ? জানা গেছে, এই নাইটক্লাবে মদ জাতীয় কোন পণ্য পাওয়া যাবে না। সৌদি আরবে মদ বেচাকেনা নিষিদ্ধ, শাস্তির বিধানও রয়েছে মদ কেনা-বেচার ওপরে। নাইটক্লাবেও সেই আইন বলবৎ থাকবে।

 

তবে আছে অন্যান্য অনেক সুযোগ-সুবিধা, যেগুলো সৌদি আরবের বাস্তবতায় অসম্ভব কল্পনা। এই নাইটক্লাবে থাকছে বিলাসবহুল ক্যাফে এবং লাউঞ্জ। পাওয়া যাবে হালাল খাবার। হালাল নাইটক্লাবে ওয়াটারফ্রন্ট থাকবে, এর সঙ্গে থাকবে বিশ্বের খ্যাতনামা মিউজিক গ্রুপের পরিবেশনা। পছন্দমতো ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক, ডিজে মিউজিক, হিপহপ মিউজিক উপভোগ করা যাবে হালাল নাইট ক্লাবে, থাকবে লাইভ পারফরম্যান্সের ব্যবস্থাও। বাইরের দেশগুলো থেকে শিল্পী ভাড়া করে আনা হবে শ্রোতাদের গান শোনানোর জন্যে।

হালাল নাইটক্লাবের পুরো একটা ফ্লোরজুড়ে থাকবে নাচের ব্যবস্থা। নারী-পুরুষ সবার জন্য এ ফ্লোর উন্মুক্ত থাকবে। একসঙ্গে নাচানাচিও করা যাবে গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। হোয়াইটের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই এখানে পাওয়া যাবে। তবে এই নাইটক্লাব কি শুধু বিবাহিতদের জন্যে, নাকি অবিবাহিতরাও এখানে আসার সুযোগ পাবে, সেটা এখনও জানানো হয়নি।

সৌদি আরবের এই হালাল নাইটক্লাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে গতকাল থেকে। উদারপন্থী অনেকে যেমন সাধুবাদ জানাচ্ছেন এটাকে, তেমনই কট্টরপন্থীরা সমালোচনা করছেন। ‘ডিস্কো ইন জেদ্দা’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে টুইটারে এই বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন সৌদি নাগরিকেরা। নাইটক্লাবের এই ‘হালাল’ শব্দটা নিয়ে অনেকে মজাও করছেন।

আগে ভাবতাম বিশ্বের বুকে বিনোদন প্রদানকারী দেশ হিসেবে শুধু পাকিস্তানপি টিকে আছে বুঝি। এখন দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের বড়ভাই হিসেবে সেখানে আবির্ভূত হয়েছে সৌদি! নিজেদের আরাম আয়েশ আর সুবিধার জন্যে ইসলামকে যেভাবে খুশি সেভাবে ব্যবহার করা এই জাতিটা এবার নাইটক্লাবকেও হালাল বানিয়ে ফেলেছে! একটা দেশে নাইটক্লাব থাকতেই পারে, সেখানে গানবাজনা হবে, নাচানাচি হবে, যার খুশি সে মদ খাবে, যার মদ্যপানের ইচ্ছে হবে না, সে বসে বসে জুস গিলবে, কোন সমস্যা নেই।

কিন্ত জোর করে নাইটক্লাবের নামের আগে ‘হালাল’ বিশেষণটা যোগ করে দেয়ার কি মানে? মদ নেই, তাই নাইটক্লাব হালাল হয়ে গেল? গানের তালে নারী-পুরুষের একসঙ্গে নাচানাচি করা কি ইসলামসম্মত? এটাকে ‘হালাল’ বলা হবে কোন যুক্তিতে? আপনি নাচানাচি করেন, অন্যকিছুও করেন, কিন্ত নিজের কাজটাকে সঠিক বানানোর জন্যে সেটাকে ইসলামের আবরণে মোড়ানোর চেষ্টা কেন করা হবে? নিজেদের ভোগবিলাসের জন্যে হালাল-হারামের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে এখন সৌদি আরব!

আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছে, সৌদি আরবের নাম শুনলেও যাদের অর্গাজম হয়ে যায়। পিতৃভূমির চেয়েও বেশি ভালোবাসে তারা এই দেশটাকে, কারণ এটা নবীজি (সা) এর জন্মভূমি। এজন্যেই তারা সৌদি আরবের হাজারটা পাপাচার দেখেও না দেখার ভান করে। সৌদি আরবের নিকৃষ্ট পশুরা যখন আমাদের দেশ থেকে কাজ করতে যাওয়া নারী গৃহকর্মীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালায়, তখনও এরা সাফাই গায়, নবীর দেশকে নিয়ে কিছু না বলতে!

সৌদি আরব যখন নির্বিচারে ইয়েমেনের মানুষের ওপর গণহত্যা চালায়, তখন এরা চোখ বুজে কানে আঙুল দিয়ে বসে থাকে। তাদের ভাষায়, সব নাকি ইসলামকে ধ্বংস করতে পশ্চিমা মিডিয়ার অপপ্রচার! আজ হালাল নাইটক্লাবের ব্যাপারে এই লোকগুলোর মতামত জানতে মন চাইছে। আমি নিশ্চিত, নাইটক্লাবের এই হালাল ভার্সন নিয়েও এরা কোন না কোন যুক্তি দাঁড় করিয়ে ফেলবে। কারণ এদের মাথা থেকে পশ্চাৎদেশ, সবকিছুই ওই সৌদির কাছে বর্গা দেয়া…

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button