ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

হজ চিকিৎসক সহায়ক দলে এরা কারা?

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরবে চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য একটা চিকিৎসক দল পাঠানো হয়। এই চিকিৎসক দলকে সহায়তা দেয়ার জন্য একটি সহায়ক দলেরও প্রয়োজন হয়। এদের কাজ হলো, ক্লিনিকে রোগীদের সৃষ্ট ময়লা, আবর্জনা পরিষ্কার, ক্লিনিক পরিচ্ছন্ন রাখা, রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ গ্রহণে সহযোগিতা করা। এছাড়া, যেসব রোগী শয্যায় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সহায়তাকারী সদস্যরা বাংলাদেশের হাসপাতালে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন, ঠিক সেভাবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

অর্থাৎ, চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর একজন রোগীর সেবায়, দেখাশোনায় যা যা করা দরকার সেই কাজগুলো করবেন সহায়তা দলের সদস্যরা৷

hajj

এই কাজটির গুরুত্ব কতখানি তা ভিক্টিম না হলে বোঝানো কঠিন। একজন চিকিৎসক সর্বক্ষণ রোগী দেখবেন না। তিনি রুটিন চেক দিবেন, পরামর্শ দিবেন। কিন্তু রোগীকে তত্ত্বাবধানে একজন সহায়তাকারী দরকার হয়। যাকে চাইলেই পাওয়া যাবে সাহায্য প্রাপ্তির জন্য৷ তাই একজন সহায়তাকারীর ভূমিকা এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে দেশ থেকে বহুদূরে বিদেশের মাটিতে একজন হজ যাত্রীর সেবায় নিয়োজিত সহায়তাকারীদের দায়িত্ব তো আরো বেশি।

আমাদের দেশ থেকে এবছর হজ যাত্রীদের জন্য একটি চিকিৎসক সহায়ক দল গঠন করা হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় দ্বারা গঠিত এই দলে সদস্য সংখ্যা ১১৮ জন। ভাবতে ভাল লাগে, ১১৮ জন মানুষ সৌদি আরবে হজ যাত্রীদের সেবায় সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে যাচ্ছেন। কিন্তু, বাস্তবতা বড় তিক্ত। আপনি শুনে হয়ত তাজ্জব হয়ে যাবেন, সৌদি আরবে যারা হজ যাত্রীদের চিকিৎসক সহায়ক দলের সদস্য হিসেবে যাচ্ছেন তাদের কারোই চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো অভিজ্ঞতাই নেই!

হজ চিকিৎসক সহায়ক দলে

১১৮ জনের বিশাল বহরে মাত্র দুইজন লোকের সরাসরি হাসপাতালে কাজের অভিজ্ঞতা আছে। এই দুজন হলেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ওয়ার্ডবয় মিজানুর রহমান এবং রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মো. জসিমউদ্দিন।

হজ চিকিৎসক সহায়ক দলে

এই দুইজন ছাড়া আর কারো হাসপাতালে কাজের কোনোরকম অভিজ্ঞতা নাই। অথচ, তারাই হজ যাত্রীদের সেবা সহায়তাকারী দলের বহরে ঢুকে পড়েছেন। তারা কিভাবে এই দলে জায়গা পেলেন, তারা কারা আসলে? তালিকার দিকে একটু লক্ষ্য করলে অবাক হয়ে যেতে হয়। জাগো নিউজের প্রকাশিত তালিকা বলছে, তালিকায় মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে আশকোনা হজ অফিস ঢাকার সহকারী হজ অফিসার আছেন। এখানে আছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সহ ইসলামী ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা, সহকারী পরিচালক, হিসাবরক্ষক, ফিল্ড অফিসার, ফিল্ড সুপারভাইজার, খাদেম, মুয়াজ্জিন, জাতীয় সংসদের সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর, সহকারী সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর। এমনকি আছেন রাজধানীর ধানমন্ডি গভর্মেন্ট বয়েজ হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক, দুদকের কমিশনারের গানম্যান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ ও এসবির এএসআই, কনস্টেবল রয়েছেন। এ ছাড়া অধিকাংশই অফিস সহায়ক ও গাড়িচালক।

এই হলো অবস্থা! এরা কি নিজেরা জানেন, এরা হজ যাত্রীদের চিকিৎসক সহায়ক দলের সদস্য হিসেবে সৌদিতে যাচ্ছেন এবং এদের কাজ কি? এরা কি রোগীদের ধারে কাছেও থাকবেন নাকি সৌদি ভ্রমণ করে, হজ করে দেশে এসে হাজী সাব টাইটেল নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন? আশ্চর্যের কথা হলো, হজ যাত্রীদের জন্য গঠিত চিকিৎসক সহায়ক দলের সদস্য হিসেবে তালিকায় নাম উঠাতে নাকি তদবির চলে, লবিং চলে, অর্থের লেনদেনও হয়। কারণ, এই দলের সদস্য হিসেবে নাম লেখাতে পারলে একেকজন সদস্য কয়েক লাখ টাকা বেতনভাতা পান। এ কারণে, এ মনোনয়নকে কেন্দ্র করে অবৈধ লেনদেন চলে! এই তালিকা করা হয় প্রভাবশালীদের সুপারিশ নিয়ে। সরকার হজ যাত্রীদের সেবায় অর্থ খরচ করলেও, এই খরচের সুফল পায় না হজ যাত্রীরা।

দুর্নীতি মোটামুটি সব স্তরে প্রবেশ করেছে বহু আগেই। ধর্মটাও বাদ গেল না। এরা কেমন দুর্নীতিবাজ ভাবতে অবাক লাগে, জাহান্নামের লাইনে দাঁড়িয়েও এরা হয়ত তদবির করবে, লবিং করবে, কিছু টাকা ঘুষ সাধবে পাপী তালিকা থেকে নাম উঠিয়ে দেয়ার জন্যে। এরা এমন নিকৃষ্ট। এরা মানে যারা অবৈধভাবে তালিকা নিজেদের নাম উঠিয়েছে, যারা এই সু্যোগ করে দিচ্ছে, যারা সুপারিশ করে দিচ্ছে — সবাই। এইসব চোরদের ধর্ম আসলে কি?

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button