সিনেমা হলের গলি

এমনকি জর্জ আর আর মার্টিনও ফাইনাল সিজন নিয়ে হতাশ!

গেম অফ থ্রোনস, টেলিভিশন সিরিজ ইতিহাসের এক ফেনোমেনন বলা হয় যাকে। দীর্ঘ ৮ সিজন, শত শত ক্যারেক্টার, ফ্যান্টাসির দুনিয়া, ফ্যানদের অপেক্ষা, কতসহস্র মতবাদ ও প্রেডিকশন – সব কিছুর শেষ হয়ে গেল আজ। সিরিজের শেষ সিজনের শেষ এপিসোডটি এইচবিও’র পর্দায় মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথে যেন একটি ঐতিহাসিক এন্টারটেইনিং ট্যুরও শেষ হয়ে গেল। কিন্তু, এত দীর্ঘ সিরিজটি যেন রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প ফ্যানদের কাছে, শেষ হয়েও হইলো না শেষ টাইপ একটা আক্ষেপ ঘুরে ফিরছে হাওয়ায় হাওয়ায়। অনেকের মতে, শেষ সিজনটি প্রত্যাশার স্তরকে ছুঁয়ে যেতে পারেনি। হতে পারতো আরো দুর্দান্ত। অনেকে বলছেন, যেভাবে গল্প বিল্ডআপ হয়েছিল সেই তুলনায় ফিনিশিংয়ে দূর্বলতা, বড্ডএকটি তাড়াহুড়ো করে মুড়িয়ে দেয়া হলো গল্পের ডালপালা।

জর্জ আর আর মার্টিন এই সিরিজ লেখার যাত্রা শুরু করেছিলেন ১৯৯১ সালে। তার সিরিজ ‘আ সং অফ আইস এন্ড ফায়ার’ এর প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। ফ্যান্টাসির এক নতুন দুনিয়া তিনি হাজির করেন পাঠকদের সামনে। একেকটা বই লিখতে তিনি ৫/৭ সময় ব্যয় করে ফেলেন। বিশ বছরের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো গোটা সিরিজ শেষ করতে পারেননি। এখনো দুটি বই প্রকাশের অপেক্ষায়।

এই সিরিজের জন্য ফ্যান্টাসি ফিকশন কেন্দ্রিক অনেকগুলো পুরষ্কারও জিতেছেন তিনি। এত বৈচিত্র্যময় একটি প্লট এবং এত বিস্তৃত গল্পের সীমা যে, তিনি নাকি এই সিরিজের বই নিয়ে সিনেমা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিলেন। তার ধারণা ছিল, সিনেমায় এই সিরিজকে ধারণ করা সম্ভব হবে না। তবে, অবশেষে জর্জ আর আর মার্টিনের ফিকশনের জগতটা টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে নির্মিত হয়। এইচবিও এই দায়িত্ব নেয়, বিপুল বাজেট ও সময় নিয়ে কাজ শুরু হয়। শুরু হয় পর্দায় গেম অফ থ্রোনসের গল্প।

এই সিরিজটি গোটা দুনিয়ার প্রায় সব দেশের সিরিজপ্রেমীদের এক ভিন্নস্বাদের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। এক রোলার কোষ্টার রাইডের মধ্যে দিয়ে দর্শকরা ঘুরে বেরিয়েছেন গত আট সিজন। অনেক অনুভূতি ও আবেগের জন্ম দিয়ে সিজনটি শেষ হয়ে গেল বটে, তবে কতটুকু প্রত্যাশা শেষপর্যন্ত পূরণ করতে পারলো? ফাইনাল সিজন একেকটি এপিসোডের পর দর্শকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তারা খুশি নন, স্ক্রীপ্ট রাইটারদেরকে দুষছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, জর্জ আর আর মার্টিন মূল বইয়ের লেখক হলেও সিরিজে তিনি ছিলেন না সবসময়ের জন্য। প্রথম কয়েকটি সিজনের কিছু এপিসোড তিনি লিখেছেন এবং পরে সম্ভবত ৫ম সিজন থেকে তিনি দূরে সরে ছিলেন। কারণ, তার নিজের কাজ শেষ করা বাকি। আগেই বলেছি, গোটা সিরিজটি এখনো তিনি নিজেই লিখে শেষ করতে পারেননি। এযাবত পাঁচটি বই রিলিজ হয়েছে, আরো দুটি বই প্রকাশিত হবে সামনে। অথচ টেলিভিশনের পর্দায় ইতিমধ্যে গল্পের সমাপ্তি টানা হয়ে গেছে যদিও মূল বইয়ের সাথে টেলিভিশন সিরিজের অনেক পার্থক্য আছে।

জর্জ আর আর মার্টিন, গেম অফ থ্রোনস
image source – commicbook.com

যাইহোক, আসল লেখক এখনো গল্প শেষ করতে পারেননি, কিন্তু টেলিভিশন সিরিজ শেষ হয়ে গেল! ব্যাপারটা অদ্ভুত। তাই জর্জ আর আর মার্টিন কেমন বোধ করছেন, সিরিজটি তার কেমন লাগলো সেটা জানা যেতেই পারে। তিনি বিস্ময়কর মন্তব্য দিয়েছেন। তার মন্তব্য শুনে ফ্যানদের মন খারাপ হয়ে যেতেই পারে। তিনি বলেছেন, গেম অফ থ্রোনস যেভাবে এইচবিও দেখিয়েছে সেটা আসলে গল্পের প্রতি পুরোপুরি সৎ থাকার উদাহরণ না। যদি বইয়ের মতো, কিংবা গল্পের রিদমের সাথে সৎ থেকে সিরিজটি চলতো তাহলে হয়ত আরো পাঁচটা সিজন করতে হতো। জর্জ আর আর মার্টিনের কাছেও এটাই যুক্তিযুক্ত, তিনিও মনে মনে চেয়েছিলেন আরো কয়েকটা সিজন হোক।

তিনি আরো একটি মন্তব্য করেছেন যা ফ্যানদের খুশি করতে পারে স্পেশালি যেসব ফ্যানরা সিরিজ রাইটারদের লেখা অপছন্দ করে সমালোচনা করেছেন তাদের। মার্টিন বলেন, শো রানার ডেভিড বেনিওফ এবং ডিবি ওয়েইসের ক্রিয়েটিভ ভিশনের সাথে তার ক্রিয়েটিভ ভাবনার মতগত পার্থক্য আছে। এমন হয়েছে কোনো ক্যারেক্টারের রেটিং যদি বেশি হয়, শো রানাররা তাকে দিয়ে আরো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চান। কিন্তু, গল্পের স্বার্থ ভাবলে হয়ত সেই ক্যারেক্টারের জার্নি আগেই শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল।

Art Image Courtesy: Jireh Ber Villafuerte | Behance

সার্সেই লেনিস্টার, জন স্নো, ডেনেরিস টার্গেরিয়ান – এই চরিত্রগুলোর অভিনেতারা পর্যন্ত নিজেদের হতাশা লুকাতে পারেননি। তাদেরও আশাবাদ ছিল সিজন নাম্বার আট আরো ভাল হতে পারত! যাইহোক, বই পড়ুয়াদের জন্য হয়ত সামনে সময়টা ভাল কাটবে। জর্জ আর আর মার্টিনের শেষ দুইটি বই হয়ত অনেক প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং গল্পের আদি স্বাদ পেতে পাঠককে সাহায্য করবে। শো রানার ডি এন্ড ডির কাজ কাউকে হতাশ করলেও জর্জ আর আর মার্টিন হয়ত হতাশ করবেন না..

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button