এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

এযাবৎকালের সবচাইতে বড় পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন ঘটিয়েছে যে মেয়েটি!

অ্যাসপারগের সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ষোল বছর বয়সী মেয়েটি অন্য সবার চেয়ে একটু আলাদা। কারো সাথে সে সহজে মিশতে পারে না। ক্লাশের অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যখন ক্লাশ পার্টি করে, হুল্লোড় আড্ডা জমায়, মেয়েটি তখন পিছনের সারিতে একাকী চুপচাপ বসে থাকে।

এক শুক্রবার মেয়েটিকে স্কুলে দেখা গেল না, কেউ পাত্তাও দিল না। মূলত ওর উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতি কারো কাছে গুরুত্বই বহন করে না।

স্কুলে যখন ক্লাশ চলছে, সেই শান্ত চুপচাপ মেয়েটি কাঁধে স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে হাতে ছোট একটা প্ল্যাকার্ড ধরে মাথা নিচু করে হেঁটে যাচ্ছে সুইডিশ পার্লামেন্ট ভবনের দিকে। পার্লামেন্ট ভবনের সামনে মেয়েটি প্ল্যাকার্ড উঁচু করে দাঁড়াল। ব্যস্ত নগরে কেউ মেয়েটিকে লক্ষ্য করেনি তখন পর্যন্ত। মেয়েটি বসল। একপাশে রাখল স্কুল ব্যাগ আর পানির বোতল, অন্যপাশে রাখল হাতে লিখা কাঁচা অক্ষরের সেই প্ল্যাকার্ড। সেখানে লিখা- ‘School strike for the climate’ (পরিবেশ বাঁচাতে স্কুল ধর্মঘট)।

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘুর্নিঝড়, সুনামি, জলোচ্ছ্বাসসহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রত্যক্ষ। পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, খুব দ্রুত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মানব সভ্যতা। ষড়ঋতুর বাংলাদেশ এসে ঠেকেছে এক ঋতুতে। গরমকাল। হয়ত বেশি গরম, নয়ত কম গরম। যখন তখন সিডর, ফণীর আঘাত। সুন্দরবন কেটে উজার। গাছ নেই, আছে দূষণ। বিশ্ব পলিটিক্স দেখেও না দেখার অভিনয় করছে, পরিবেশ বিপর্যয়কে পাশ কাটিয়ে তারা মিথ্যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের গল্প শোনাচ্ছে। অথচ যদি পৃথিবীই না থাকে, তবে এত উন্নয়ন দিয়ে হবেটা কী?

ষোল বছরের একজন সুইডিশ কিশোরী সেদিন একা পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বসে দাবী তুলেছিল পরিবেশ রক্ষার। প্রথম প্রথম তার পাশে কেউ ছিল না, কিন্তু সে হাল ছেড়ে দেয়নি। সে প্রতি শুক্রবার প্ল্যাকার্ড হাতে একা বসে থাকত। ধীরে ধীরে মেয়েটির দিকে ফিরে তাকায় পথচারী। মেয়েটির কথা ও ছবি ছড়াতে শুরু করে ইন্টারনেট দুনিয়ায়। মেয়েটির সমর্থনে এগিয়ে আসতে শুরু করে তারই সমবয়সী ছেলে-মেয়েরা।

এভাবেই ক্লাশের সবচাইতে নিঃসঙ্গ সেই মেয়েটির কথা ছড়িয়ে পড়ল সারা বিশ্বে। একশ আটত্রিশটি দেশের ২২৩৩ টি শহরের বারো লক্ষের অধিক স্কুলের ছেলেমেয়ে ক্লাশ বর্জন করে রাজপথে নেমে এলো পরিবেশ বাঁচানোর দাবীতে। ধারনা করা হচ্ছে এ যাবৎকালের সবচাইতে বড় পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন ঘটিয়েছে ষোল বছরের এই মেয়েটি।

এক টিভি সাক্ষাৎকারে মেয়েটি বলে, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করে কেন আমি সিম্বোলিকভাবে শুক্রবার একদিন স্কুল বর্জন করছি। আমি তাদের বলি, আমাদের সিনিয়ররা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবে না। আমি কিভাবে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্ল্যান করবো, যেখানে আমাদের ভবিষ্যতই নেই! স্কুলে আমাকে সূত্র পড়ায় কিন্তু সেই সূত্র প্রয়োগ করবার মতো যদি পৃথিবীই অবশিষ্ট না থাকে তবে সেই পড়াশুনার কোনো অর্থ নেই।’

ছোট একটা মেয়ের একাকী প্রতিবাদ যে বিশ্বব্যাপী এক সুবিশাল আন্দোলনে রূপান্তরিত হতে পারে, সুইডিশ সেই কিশোরী তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। ইতিমধ্যে নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে। কিশোরী মেয়েটির নাম গ্রেটা টানবার্গ। 

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button