সিনেমা হলের গলি

গেম অফ থ্রোন্স এর শুরু যেভাবে…

ঠিক কোথায়, কী করে বইটি পেয়েছিলেন মনে নেই ডেভিড বেনিওফের। প্রথম খন্ডের ২০০ পৃষ্ঠা পড়ার পর তার মনে হয়েছিল, এই বইয়ের সিরিজ দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ টিভি সিরিজ নির্মাণ করা সম্ভব। ফোন দিলেন দীর্ঘদিনের বন্ধু ড্যান বি ওইস কে। ড্যান দুই দিনের মধ্যে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললেন সিরিজের সবগুলো খন্ড। দুই বন্ধু মিলে ঠিক করলেন- এইচবিও এর কাছে পিচ করবেন সিরিজের আইডিয়া।

প্রথমেই দরকার লেখকের অনুমতি। গেলেন লস এঞ্জেলেস এ জর্জ আর আর মার্টিনের সাথে লাঞ্চে দেখা করতে। লাঞ্চ চললো ৪ ঘন্টা। একদম শেষের দিকে জর্জ বললেন, বলতো জন স্নো এর মা কে? প্রশ্নটা ছিল অনেকটা পরীক্ষার মতো! এদিকে জর্জের সাথে দেখা করার আগে দ্বিতীয়বারের মতো বইগুলো পড়ে ফেলেছিলেন ডেভিড ও ড্যান। দুজনই তাই সঠিক উত্তর দিতে পারেন। সন্তুষ্ট হন জর্জ। অনুমতি দিয়ে দেন শো-টা করার।

দুই বন্ধু ডেভিড বেনিওফ ও ড্যান বি ওইস। Image Source: deadline

এইচবিও বাজেট দিল প্রথম এপিসোড বা পাইলট করার। মজার ব্যাপারটা হচ্ছে সেই পাইলট কিন্তু আলোর মুখ দেখলো না। গেম অফ থ্রোন্স এর ক্রিয়েটরদের ভাষ্যমতে যত রকম ভুল করা যায় তারা তার সবই করেছিলেন। কারণ এর আগে তারা এরকম কোনো কিছু করেননি। এমনকি সার্সি আর জেইমি যে ভাই বোন, সেটাও নাকি বোঝা যাচ্ছিল না সেই পর্ব দেখে! সেই প্রথম এপিসোড বানাতে খরচ হয় ১০.৬ মিলিয়ন ডলার। যার পুরোটাই পানিতে।

তারপরও এইচবিও দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। নতুন করে বাজেট দেয় আবার প্রথম পর্বটি করার জন্য। আর এইভাবেই সৃষ্টি হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ টিভি সিরিজ গেম অফ থ্রোন্স।

আমার ভাবতে ইচ্ছা হয়- কোনো একদিন আমাদের মিডিয়ার নীতিনির্ধারকরাও এইভাবে নতুনদের ভাল গল্প নিয়ে কাজ করার জন্য সুযোগ করে দিবেন। এবং প্রথম ছোটখাট থেকে বড় ভুলে পিছপা না গিয়ে, ভরসা রেখে, সাহস দিয়ে, তারা দিবেন দূরদর্শিতার পরিচয়। হয়তো, কোনো একদিন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button