এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

যেকারণে কাশ্মীর ইস্যুতে চাকরি থেকে পদত্যাগ করলেন ভারতীয় এডমিন ক্যাডার…

ইন্ডিয়ান এডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস সংক্ষেপে আইএএস। ভারতীয় প্রশাসনের প্রথম শ্রেণীর চাকুরি। আমাদের দেশে যেমন বিসিএস পরীক্ষায় উর্ত্তীন হয়ে অনেকে এডমিন ক্যাডারে নিযুক্ত হন, তেমনি ভারতের এই আইএএস পরীক্ষা। এখানকার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং কঠোর পরীক্ষা পদ্ধতি পার করে সিভিল সার্ভিসে চাকুরি করা ভারতীয় শিক্ষিত তরুণদের জন্যে স্বপ্ন।

এরকম স্বপ্নের মতো এক চাকরি পেয়েছিলেন কান্নান গোপীনাথান। কেরালার এই যুবক ইন্ডিয়ান এডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিসের একজন অফিসার। ২০১২ সালে তিনি চাকুরিতে যোগ দেন। সর্বশেষ পোস্টিং ছিল দাদরা ও নগর হাভেলিতে।  কিন্তু সম্প্রতি তিনি এই স্বপ্নের মতো চাকুরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। আগস্ট মাসের ২১ তারিখ তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। কারণ? কাশ্মীর ইস্যু।

Kannan Gopinathan | Source – Telegraph India

এই মুহুর্তে ভারতের কাশ্মীর অঞ্চলটি একটি কঠিন সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সংবিধানে যে বিশেষ ধারায় কাশ্মীর স্বায়ত্তশাসনের সুবিধা পেতো, সেটি বিলোপ হওয়ায় এখন কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এখানে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী কঠিন পাহাড়ায় গোটা অঞ্চলকে নিরব করে রেখেছে। কাশ্মীরের নেতারা বন্দী। কেউ যেন প্রতিবাদ জানাতে না পারে তার জন্যে এই ব্যবস্থা।

এমন পরিস্থিতি দেখে কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে একজন সিভিল সার্ভিসের অফিসারের মনে যদি কোনো প্রশ্ন জাগে, কাশ্মীরের মানুষের জন্যে তিনি যদি সহমর্মিতা দেখিয়ে কিছু বলতেও যান, সেটা হবে আত্মঘাতী। কারণ, একজন সরকারি অফিসার বিশেষত আইএএস অফিসার হিসেবে নিজস্ব ব্যক্তিগত মন্তব্য রাখাটা চাকুরির নিয়মের সাথে যায় না। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। সরকার যা বলবে তা মেনে বাস্তবায়ন করাটাই অফিসারদের কাজ।

কান্নান গোপীনাথান নরেন্দ্র মোদীর সাথে ( ডান থেকে দ্বিতীয় )

গোপীনাথান এই ব্যাপারটি মানতে পারছেন না। চোখের সামনে কাশ্মীরের ঘটনাটিকে যেভাবে সরকার নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করছে, সেখানে একটি গুমোট আবহাওয়া তৈরি হয়েছে এই বিষয়টি হয়ত পীড়া দিয়েছে তাকে। তাই তিনি আইএএস অফিসার হিসেবে এই চাকুরি থেকে ইস্তফা পত্র দিয়েছেন।

গোপীনাথান বলছেন, তিনি মুক্ত মত চর্চার জন্যে, এই ইস্যুতে যেন মন খুলে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন, সে কারণে পদত্যাগ করেছেন। তিনি এও বলেন যে, “এটা ইয়েমেন নয়। এটা ১৯৭০ এর দশক নয় যে আপনি একটা গোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করবেন এবং কেউই প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।”

প্রায় বিশ দিন ধরে কাশ্মীরে এক প্রকার অচলায়তন। গোটা অঞ্চলটাকে রেস্ট্রিকটেড করে রাখা হয়েছে। এমন অবস্থায় চুপ থাকা যায় না। তাই কথা বলার জন্যে যদি পদত্যাগ করতে হয়, সেটাও করতে রাজি ছিলেন তিনি। সেই কাজটাই শেষ পর্যন্ত করলেন গোপীনাথান। শুধু বাক স্বাধীনতা চর্চার জন্যে কেউ ভারতে সরকারি চাকুরির যে সর্বোচ্চ পরীক্ষা আইএসএস পরীক্ষায় উর্ত্তীন হয়ে, সেই চাকরি ছেড়ে দিতে পারে, এটা বেশ বিস্ময়কর ঘটনাই!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button