সিনেমা হলের গলি

হিরো, নাকি ভিলেন? কোনটি সত্য?

আমরা ছোটবেলায় নিশ্চয়ই অনেকে “ডঃ জেকিল এবং মি. হাইড”- এর গল্পটা পড়েছি। এই গল্পটার মূল কন্সেপ্ট ছিল এরকম, দিনের বেলা এক ব্যক্তি খুব ভালো মানুষের রূপ ধারন করে। সবার সাথে সে বেশ ভাল ব্যবহার করে। কিন্তু রাতের বেলা তার ভেতরের অন্তর্গত স্বত্বাটা কেমন বদলে যায়! তার এক্সপ্রেশন, আচার আচরন সম্পূর্ন রুপে চেঞ্জ হয়ে এক ঠান্ডা মাথার খুনী মি. হাইডের ব্যক্তিত্তে পরিণত হয়। তখন তার সেই হিংস্র মুখায়ব আর কলজে শুকিয়ে যাওয়া অভিব্যক্তি দেখলে মনেই হবে না- এই মানুষটাই দিনের বেলায় ভাল মানুষের আচরণ করা সেই ডঃ জ্যাকিল। দুটো স্বত্বা তার ভেতরে তখন কাজ করে। এক স্বত্বার সাথে আরেক স্বত্বার কোনো মিলই আপনি পাবেন না।

ভাবছেন ডঃ জেকিল এন্ড হাইডের প্রসঙ্গ কেন তুলছি? “জেন্টলম্যান” মুভিটা যখন দেখছিলাম ন্যানির একই সাথে ভাল মানুষ এবং খারাপ মানুষের ডুয়েল অভিব্যক্তি দেখে আমার জেকিল এবং হাইডের কথাই বারবার মনে আসছিল। দুটো স্বচ্ছ চোখের অভিব্যক্তির অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখছিলাম। রোমান্টিক আবেশে সেই চোখ দুটো থাকে ভালোবাসায় পরিপূর্ন, কিন্তু কিছু সময় পরে সেই দু চোখের অভিব্যক্তিই কেমন অচেনা ঠেকে…ঠান্ডা নিষ্ঠুর একটি অভিব্যক্তি।

সিনেমার গল্পটা যেমন বেশ ভালো ছিল, একই সাথে দুর্দান্ত ছিল ন্যানি, সুরভি, নিভেদার ত্রিপক্ষীয় অভিনয়। মুভির গল্পটা শুরু হয় আকাশে। একই প্লেনে একই সাথে পাশাপাশি দুটো সিটে দেশে ব্যাক করছিলো মুভির দুই প্রধান নায়িকা নিভেদা থমাস, মুভিতে যার স্ক্রিন নেম ছিল ক্যাথেরিন এবং সুরভি, যার স্ক্রিন নেম ঐশ্বরিয়া। ক্যাথ্রিন হচ্ছে পেশায় একজন ভিএফএক্স ডিজাইনার এবং ঐশ্বরিয়া একটা ধনাড্য ফ্যামিলির মেয়ে।

পাশাপাশি বসে এক সাথে বসে সময় কাটানোর জন্য আলাপচারিতা করতে করতে দুজনেই একে অপরের সাথে বেশ ফ্রি হয়ে যায় এবং কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে যার যার বয়ফ্রেন্ড এবং হবু বাগদত্তার কথা। ক্যাথেরিন বলতে থাকে তার স্বপ্নের পুরুষের কথা, যার নাম গৌতম। গৌতম হচ্ছে একটা এডভেঞ্চার ক্লাবের মালিক এবং ক্লাবের বৈশিষ্ট্য অনুসারে সে বেশ চঞ্চল প্রকৃতির একটা ছেলে। ক্যাথেরিনের বলা সেই গল্পের সাথে ফ্ল্যাশব্যাকে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর একটা মিষ্টি রোমান্টিক গল্পের সুবাস পাবেন দর্শকেরা। ক্যাথেরিনের গল্প শেষ হওয়ার পর পালা আসে ঐশ্বরিয়ার। এবং সেও যথারীতি বলতে থাকে তার সপ্নপুরুষের কথা, এওয়ার্ড উইনিং উদ্যোক্তা জয় মুল্লাপুড়ি, যে কিনা জয়গৌরি ফাইন্যান্স এর মালিকের ছেলে। তার সাথে ইতোমধ্যেই বাগদান সম্পন্ন হয়েছে ঐশ্বরিয়ার। সেখানেও একটা চমৎকার মিষ্টি প্রেমের গল্পের আস্বাদ পাবেন দর্শকেরা।

হায়দ্রাবাদে এয়ারপোর্টে ক্যাথেরিন এবং ঐশ্বরিয়া এক সাথে নামে। এয়ারপোর্টে ক্যাথেরিন হঠাৎ দেখতে পায় গৌতমকে। স্বাভাবিকভাবেই, খুশির আতিশয্যে সে হাত বাড়িয়ে গৌতমকে ডাকতে যায়। কিন্তু একটু পরেই সে আশ্চর্য হয়ে যায় যখন ঐশ্বরিয়াকেও গৌতমকে “জয়” বলে ডাকতে শোনে। হ্যাঁ, টুইস্টের শুরুটা এখানেই।

গৌতম এবং জয় উভয়ের চেহারাই ছিল হুবহু একই রকম দেখতে। কিভাবে সম্ভব সেটা? কী রহস্য আছে এর পেছনে? জয় কি তবে কোন ভাবে ক্যাথেরিনের সাথে প্রতারনা করেছে? কেন করলো এরকম? এর মাধ্যমে গৌতমের ফায়দাটাই বা হলো কী? রহস্য আরো ঘনীভূত হয়, যখন ক্যাথেরিন গৌতমের বাসায় গিয়ে জানতে পারে গৌতম গাড়ি এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে। জয়ের আসল পরিচয় টা তবে কী? জয় কি আসলেই জয়গৌরি ফাইন্যান্স এর মালিকের ছেলে নাকি তার সেই শুভ্র চেহারার শুভ্র হাসির আড়ালে আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর কোনো রহস্য? গৌতম কি তবে ক্যাথেরিন এবং ঐশ্বরিয়া দুজনের সাথেই প্রেমের নামে কোনো খেলা খেলছে? সন্দেহ করার মত একটার পর একটা এলেমেন্ট আপনি হাতের কাছে পাবেন। কিন্তু যা ভাববেন, একটু পরেই সেটা দেখবেন ভুল প্রমানিত হয়েছে।

একমাত্র ক্লাইম্যাক্সেই আপনি পাবেন আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর।

মোহন কৃষ্ণা ইন্দ্রগান্তির সাথে ন্যানির এটাই কিন্তু প্রথম কাজ নয়। এর আগেও ২০০৮ সালে “Ashta Chamma” মুভিতে এক সাথে কাজ করেছিলেন। ২০১৫ সালে ন্যানির “Yevade Subramanyam” নামে একটি মুভি বের হয় যেখানে ন্যানি একজন সেলফিশ বিজন্যাস ম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেন, যেটা দেখে ইন্দ্রগান্তি আবারো ন্যানিকে নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা শুরু করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ন্যানিকে এই ডুয়েল ক্যারেক্টারের রোল প্লে করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং ন্যানি সানন্দে সেই প্রস্তাব গ্রহন করেন। ইন্দ্রগান্তি পরে “টাইমস অফ ইন্ডিয়া”-র এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘তিনি আসলে চাচ্ছিলেন “something very complex” এমন একজনকে এই মুভির ক্যারেক্টারে কাস্ট করতে , যার হাসি দেখলে একই সাথে পজেটিভ এবং নেগেটিভ দুটো এস্পেক্টই মাথায় চলে আসে।’ তার মতে ন্যানিই ছিল এই ক্যারেক্টারের জন্য সবচেয়ে যোগ্য সিলেকশন।

এই সিনেমাটি কলকাতায় “ভিলেইন (২০১৮)” নামে রিমেক হয় যেখানে অভিনয় করেছেন অংকুশ, মিমি চক্রবর্তী এবং হৃত্তিকা সেন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button