অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

কেন এমন অদ্ভুতুড়ে পোজে ছবি তুলেছিলেন আইনস্টাইন?

পদার্থবিজ্ঞানে বহুল ব্যবহৃত এক আশ্চর্য্য সংখ্যা পাই। এইতো গতকালই পেরিয়ে গেল পাই দিবস। পাইয়ের মান মান ৩.১৪১…….পাইয়ের শুরু থাকলেও এর শেষ কত তা জানা নেই কারো। পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে কথা হবে আর তাতে আইনস্টাইন আসবে না, এও সম্ভব? মোটেই না।

গতকাল ছিল এই মহান পদার্থবিজ্ঞানীর জন্মদিন। আইনস্টাইনের জন্ম মার্চের ১৪ তারিখে ১৮৭৯ সালে জার্মানীতে। বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানী আইনস্টাইন পদার্থে নোবেল পান ফোটোইলেকট্রিক ইফেক্টের জন্যে। ভুবনবিখ্যাত ই=এমসি স্কয়ার সূত্রও উনার বের করা। আইনস্টাইন শুধু একজন উচ্চবুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষ বা একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীই ছিলেন না, সেই সাথে উনি ছিলেন একজন উচ্চ রসবোধসম্পন্ন মানুষ। আর এর স্বপক্ষের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ, আইনস্টাইনের সেই বিখ্যাত জিহবা বের করা ছবিটি। কিন্ত কেন এমন অদ্ভুতুড়ে পোজে ছবি তুলেছেন এই মহান বিজ্ঞানী?

বিখ্যাত ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের মতে বিশ শতকের অন্যতম সেরা এই ছবিটি তোলা হয় ১৯৫১ সালে আইনস্টাইনের ৭২ তম জন্মদিনে।প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে নিজের জন্মদিন অনুষ্ঠান উদযাপন শেষে একদল ফটোসাংবাদিকদের সামনে পরেন এই বিজ্ঞানী এবং হাসিমুখে পোজ দিতে দিতে বিদায় নেওয়ার জন্যে ইন্সটিটিউট অব এডভান্সড স্টাডির সাবেক পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক এয়ডোলেট ও তার স্ত্রীর সাথে গাড়ীতে উঠে বসেন এবং সেখানেও ছবির জন্য আর্জি আসতে থাকলে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বিজ্ঞানী বলে উঠেন “আর নয়!” কিন্তু তবুও সাংবাদিকরা পিছু না ছাড়লে বিরক্তি থেকেই ভেংচি কেটে বসেন আলবার্ট। আর দ্বিতীয়বারের ক্লিকে এই ছবিটি ক্যামেরাবন্দী করেন UPI ফটোসাংবাদিক আর্থার স্যাসি।

অন্য কোন বিখ্যাত লোক নিজের এমন অদ্ভুত ছবি দেখে কি প্রতিক্রিয়া জানাতেন কে জানে। কিন্ত আগেই বলা হয়েছে আলবার্ট ছিলেন বেশ রসিক এবং নিজের এমন হাস্যকর ছবি দেখে উনি বেশ মজাই পান এবং UPI এর কাছে এর নয় কপি চেয়ে পাঠান যেন বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন! অধিকাংশ কপিই ক্রপ করে শুধু আলবার্টের মুখায়ব রাখা হয়েছিলো। কিন্ত একটা ছিলো আগের অবস্থাতেই এবং আলবার্ট তা এক সাংবাদিককে দিয়ে ছিলেন নিজের স্বাক্ষরসহ। ঐতিহাসিক সেই ছবিটি ২০১৭ সালের এক নিলামে বিক্রি হয় ১২৫০০০ আমেরিকান ডলারে।

শেষ করা যাক মজার মানুষ আইনস্টাইনের এক মজার ঘটনা দিয়ে- ছোটবেলায় বেশ দেরিতে কথা বলায় তাঁর বাবা মা এ ব্যাপারে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এক রাতে খাবার টেবিলে বসে সকলে খাচ্ছেন, এমন সময় বালক আইনস্টাইন চিৎকার করে বললেন, স্যুপটা বড্ড গরম।’
তাঁর বাবা-মা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। ছেলের মুখে প্রথম কথা শুনে বাবা-মা বেশ অবাক হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আগে তুমি কথা বলো নি কেন?’ বালক আইনস্টাইনের উত্তর, ‘এর আগে তো স্যুপ কখনো এতটা গরম ছিল না!’

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button