অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

ফিশ রেইন কিংবা সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ- নেপথ্যের কাহিনী কী?

‘ফিশ রেইন’ এর সাথে কমবেশি অনেকেই পরিচিত। তবে এর পেছনের ব্যাখ্যাটা জানা নেই অনেকেরই! ২০১৪ সালের মে মাসে একটি ভিডিও দক্ষিণ এশিয়ায় আলোড়ন তুলে দেয়! সেটি ছিল শ্রীলঙ্কান এক নাগরিকের ধারণকৃত ফিশ রেইন বা মাছ বৃষ্টির ভিডিও। জ্বী হ্যাঁ, সত্যি সত্যিই ২০১৪ সালের মে মাসে পশ্চিম শ্রীলংকার চিলাউ জেলায় মাছ বৃষ্টি হয়! মাছগুলো ছিলো ৫-৮ সে.মি লম্বা মাত্র! এবং সেগুলোর মাঝে বেশ কিছু মাছ জীবিত ছিলো।

তবে এটা শ্রীলঙ্কায় নতুন কিছু ছিলো না, কেননা ২০১২ সালে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কায় ‘প্রওন রেইন’ অর্থাৎ চিংড়ি মাছের বৃষ্টি হয়েছিল! এছাড়া মেক্সিকোতে প্রতিবছর বৃষ্টির মৌসুমে মাছ বৃষ্টি হয়ে থাকে! ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর মেক্সিকোর টাম্পিকো নামক অঞ্চলে একই ঘটনা ঘটেছিলো। ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই অঞ্চলের বাসিন্দারা তখন নিউ ইয়র্ক টাইমস কে বলেছিল, এরকম শক্তিশালী ঝড়তুফানের সাথে মাছ বৃষ্টি এতোই নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে যে তারা এ ঘটনাকে বার্ষিক উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে আরো ১০ বছর ধরে! যদিও উক্ত বাসিন্দাদের কথার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Image Source: allthatsinteresting

শ্রীলংকার কিছুসংখ্যক বাসিন্দা এ ঘটনাকে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করলেও এর পেছনে রয়েছে যথাযোগ্য কারণ। খেয়াল করলে বোঝা যায়- যেসব এলাকায় মাছ বৃষ্টি হয়ে থাকে, তাদের সবকটিই কোনো না কোনো সমুদ্র বা বড় নদীর আশেপাশে অবস্থিত! আটলান্টিক সাগরের উত্তরেই মেক্সিকো অবস্থিত, আর শ্রীলঙ্কা তো দ্বীপের উপরই বসে আছে! মূল কারণে আসা যাক, যখন কোনো বড় নদী বা সাগরের উপর টর্নেডো বা ঘুর্নিঝড়ের সৃষ্টি হয় তখন ঘুর্নায়মান বাতাস ঘুরে ঘুরে অগভীর নদী বা সাগরের উপরে পানির সংস্পর্শে আসলে সাগর বা নদীর হালকা ওজনের মাছগুলো পানির সাথে ঐ ঘুর্নিঝড়ের সাথে মিশে গিয়ে উপরে উঠে যায়! উক্ত অঞ্চল থেকে আপাত দৃষ্টিতে ঘুর্নিঝড় থেমে গেছে মনে হলেও তা মূলত অনেক উপরে ঘুরতেই থাকে। তাছাড়া ঘুর্নিঝড়ের ঘুর্নিবায়ু পানির সাথে মাছ টেনে নিয়ে তা মেঘ হিসেবে জমা রাখে! এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলো মেঘমালাই সেই মাছগুলো বহন করে!

ফলে উক্ত টর্নেডো বা ঘুর্নিঝড় মাছ গুলো সাথে নিয়েই ঘুরে ঘুরে সাগর বা নদীর নিকটবর্তী অঞ্চলে আসে এবং তখনই ঘুর্নিঝড়ের জলঘুর্নন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মেঘ থেকে পানিরূপে বৃষ্টি হয়, তখন মাছগুলোও পানির সাথে মাটিতে পরতে থাকে। এবং এভাবেই ঘটে যায় মাছ বৃষ্টি! যদিও মাছ টেনে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই জলঘুর্নন থেমে যায়, তাইতো শুধু স্থলেই না, এমনকি উক্ত নদী বা সাগরেও সেই মাছ বৃষ্টি হতে পারে! কম সময়ের মধ্যে মাছগুলো পরে যায় বলেই কিছু মাছ জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। যেমনটি পাওয়া গিয়েছিলো শ্রীলংকায়।

সুইজারল্যান্ডের এক গ্রামের বাসিন্দা বলেছিলো সে নাকি ব্যাং এর বৃষ্টি দেখেছে! এর কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী তা কিন্তু অসম্ভব কোনো ঘটনা নয়! কেননা ঘুর্নিবায়ু মাছ সমৃদ্ধ সাগর বা নদী থেকে মাছ টেনে  নিতে পারলে অবশ্যই ব্যাং, সাপ সহ যেকোনো হালকা ওজনের জলজ প্রাণীও টেনে নিতে পারে!

যাই হোক, ফিশ রেইন এর ব্যখ্যা বিজ্ঞানীরা দিতে পারলেও শ্রীলংকার আরেকটি প্রাকৃতিক ঘটনার ব্যাখ্যা কিন্তু তারা এখনো বের করতে পারেনি! সেই ঘটনাটি হলো উল্কা বৃষ্টি কেন্দ্রিক! ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় নাকি উল্কা বৃষ্টিও হয়েছিলো, যা নিয়ে এখনো গবেষণা চালাচ্ছে ব্রিটিশ ও মার্কিন বিজ্ঞানীরা! তবে তারা ধারনা করেন এটি মহাকাশ থেকেই সরাসরি হয়েছিলো! দেখা যাক এর কোনো যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে পারেন কিনা বিজ্ঞানীরা!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button