মনের অন্দরমহলরিডিং রুম

নারীর উন্নয়ন বা নারী স্বাধীনতার পথে নারীই যখন প্রধান বাধা!

আমাদের দেশে নারী স্বাধীনতা এবং নারীর উন্নয়নের পথে প্রথম বাধাটি কি জানেন ?

বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে কিছু নারী সদস্য আছে, যাদের একমাত্র কাজ অন্য কোন আপা কি পড়লো, কি করলো, কি ভাবলো – সেগুলো দিনরাত এ্যানালাইজ করা, এবং বিবিসি বাংলার চেয়েও দ্রুতগতিতে নিজের ভাবনাগুলোকে কাস্টমাইজ করে সার্কুলেট করা।

উদাহরণ দেব?

“ভাবী, সেদিন আপনার মেয়েটাকে দেখলাম রাস্তায় দাড়িয়ে তামিল সিনেমার ভিলেনের মত এক ব্যাটার সাথে ইটিশপিটিশ করছে । জামাকাপড়ের যে অবস্থা ভাবী, কোনদিন যে কেউ ধরে রেপ করে ফেলবেনা তার কোন গ্যারান্টি আছে ?”

“ভাবী, আপনার মেয়েকে হুদাহুদি ইন্জিনিয়ারিং পড়িয়ে কি করবেন, তারচেয়ে বরং বেসরকারী মেডিকেলে দিয়া দেয়, বিয়ের বাজারে ডাক্তার মেয়েদের দামই আলাদা”

“ভাবী , বউমা এতো জেলায় জেলায় ঘুরে চাকুরি করে। এভাবে চললে সংসার হবে কীভাবে? নাতি-নাতনীর মুখ দেখা তো দরকার, বয়স তো কম হলো না”

“ওমা ভাবী, আপনার ভাই তো আপনাকে একদমই কদর করে না। বুবুনের আব্বা তো প্রতিবছর আমাকে নিয়ে ব্যাংকক ঘুরতে যায় । আমি পাশের বাসার মানুষ। আপনাদের পারিবারিক ব্যাপারে নাক গলাতে চাই না, কিন্তু না বলে পারলাম না”

এই শ্রেণীর নারীরা কিন্তু খুব অল্প সংখ্যক নন। বরং তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এবং এদের আইডেন্টিফাই করাও খুব কঠিন কিছু না । তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র এ্যাচিভমেন্ট হচ্ছে ১-বিয়ে ২-বাচ্চা ।

সুতরাং, এর বাইরে কোন মেয়ে কোন কিছু করলেই তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ইনারা পড়াশোনা করেছেন বিয়ে করার জন্য, বিয়ে করেছেন বাচ্চা পয়দা করার জন্য। এ্যান্ড দ্যাটস ইট । নিজের ডজনখানের বাচ্চাকাচ্চা হয়ে যাওয়ার পরে, অন্যের বিয়ে এবং অন্যের বাচ্চা এবং অন্যেরে বাচ্চা ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তাভাবনা করার মহৎ কাজটি তারা নিজ উদ্যোগে কাধে তুলে নিয়েছেন। বিপুল পরিমাণ মস্তিষ্ককে তো কাজে লাগাতে হবে, আর কতোকাল জিবাংলার থিওরিটিক্যাল ক্লাস করা যায়। প্র্যাক্টিকাল করার জন্য তাই পছন্দের গিনিপিগ পাশের বাসার ভাবী, অথবা বউ অথবা তাদের বাচ্চাকাচ্চা।

কোন মেয়ের বয়স ২৫ পাইলেই তারা নিজেকে প্রথমে ঘটক পাখি ভাই হিসেবে উপস্থাপন করেন, যদি তাতেও চিড়ে না ভিজে , তাহলে কেন মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে না , পিথাগোরাসের উপপাদ্যের সাহায্যে সেইটা প্রমাণ করার প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যান। এই সময়ে তার বিয়েতে যে বিশভরি অরিজিনাল স্বর্ণের গহনা আর ত্রিশলাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে হয়েছিল, সেটাও জানিয়ে যান।

শুধু অবিবাহিত তরুণীদের উপরে নয়, টার্গেট বিবাহিত হলে যদি বিয়ের একবছরের মাঝে বাচ্চা না হয় তাহলে কেন বাচ্চা নিচ্ছো না এবং কেন বাচ্চা হচ্ছে না, এই মহান আলোচনায় তারা বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়েন। কোন বিবাহিতা তরুণীর বয়স ত্রিশ পার হয়ে গেলে , তারা নিজেকে মারজুক রাসেল বানিয়ে ফেলেন, তসবীর মত জপতে থাকেন – ‘বাচ্চা হবেনা, বাচ্চা হবেনা, বাচ্চা হবেনা।‘

এই জাতীয় ‘ভাবী’গণের প্রথম ও প্রধান চক্ষুশূল হচ্ছে শিক্ষার্থি এবং কর্মজীবী নারীরা । নিজে যা করতে পারেনাই, অথবা জীবনে কখনো করার যোগ্যতা রাখেনাই, সেই কাজ চোখের সামনে অন্য কেউ করে ফেললে তাদের যে ইন্টারনাল বার্ণ হয়, পৃথিবীর কোন বার্ণ ইউনিট এইটার চিকিৎসা করতে অক্ষম। এই ক্ষতে বার্ণল লাগাতে তখন তারা গীতমালা হাতে হাজির হয়ে যান, এবং মনের মাধুরী মিশিয়ে ঐ কলেজগামী অথবা কর্মজীবী নারীটির জীবন তামাতামা করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

ইনারা বিয়ের একবছরের মাথায় মা হন, মাতৃত্বের আনন্দ পাবার জন্য নয়, আমি যে মহান অবজেক্টিভ নিয়া এই ফ্যামিলিতে আসছি সেইটা ফুলফিল করার জন্য। এরপর বছরবছর কাবেলিয়াত প্রচার। পেডিকিউর , মেনিকিউর, সাজেক, শপিং,গহনা, রান্না , গীবত । বিয়ের বছনতিনেকের মাঝে তাদের পেট ঝুলে পড়ে, গলার নিচে গলকম্বল দেখা দেয়। তখন তারা নিজেদের স্যাড, প্যাথেটিক লাইফ হালাল করার জন্য অন্যের জীবন অন্বেষণে সময় কাটান। নিজের পড়াশোনা, নিজের ক্যারিয়ার অনেক আগেই ঝুলে গেছে। এমনকি ইনাদের মেয়েদের যখন বিয়ে হয়, তারা নিজের কণ্যাদের সুপরামর্শ দেন, জামাই একটু আধটু মারধোর করলেও যেন মেয়ে কিছু না বলে, ‘এ্যাডজাস্ট’ করে নেয়।

আপনারা জানতে চান, দেশে এত ধর্ষক কেন? এই মহান ক্রিয়েচারদের গর্ভে কি আপনি স্বামী বিবেকানন্দ আশা করেন? আশা করেন, এই পরিবারে এই পরিবেশে বড় হয়ে একটা ছেলের পক্ষে কোন মেয়েকে নিয়ে ভালো কিছু ভাবা সম্ভব?

আমি যে কয়জন সফল নারীকে চিনি, যারা ব্যক্তিজীবনে সফল, কর্মজীবনে সফল – তাদের অধিকাংশের সাফল্যের পেছনে একজন পুরুষকে আমি দেখেছি । হোক সে মেয়েটির বাবা, অথবা ভাই, অথবা স্বামী । যারা সমাজের কথা শোনেনাই, নিজের মেয়ের অথবা স্ত্রীর কথা শুনেছে এবং তাদের উপর বিশ্বাস রেখেছে । এবং দু:খজনক হলেও সত্য, এই কথা শোনানো সমাজের প্রায় পুরোটাই তাদের মতোই – মেয়ে ।

এই প্রসঙ্গে যাদের সবচেয়ে বেশি সরব হওয়ার কথা ছিলো , সেই নারীবাদীরা সারাদিন আমি ব্রা দেখাবো না প্যান্টি দেখাবো আন্দোলনে ব্যস্ত থাকেন । আমি তাদের ‘স্বকীয়া’ করার অধিকার চাইতে দেখি, কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিদিন যে বিশটা মেয়ে ধর্ষণ হয়, তাদের বিচার চাইতে দেখি না ।

এ্যাডভেঞ্চার ভালো লাগলে সাপ পালুন, এই বিষাক্ত ভাবীদের ঘরের ত্রিসীমানায় আসতে দিবেন না ।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button