ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

এরশাদ: এক বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি

এরশাদের এর স্বাদ ফুরলো বুঝি জাতীয় জীবনে!
কি বর্ণিল জীবন! ব্রিটিশ ভারতের চা-বাগানে জন্মালেন। এদেশে এসে পাকিস্তান আর্মির সুযোগ সন্ধানী মিলিটারি অফিসার। তারপর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে ক্ষমতার গদিতে বাংলাদেশের সামরিক স্বৈরশাসন।

সব দেশেই, দেশ বদলের সাথে সাথে পাল্টে গেল ভাগ্যও! ক্ষমতায় থাকার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে টাকা পাচার করা দূর্নীতিবাজ। আমেরিকা আর ইন্ডিয়ার প্রেসক্রিপশনে পলিটিক্স করলেন। চায়নাকে বানালেন স্ট্রেটেজিক ডেভেলাপমেন্ট পার্টনার। সব দেশেই ছাপ রাখলেন। তারপর আজ কবর দেশে গেলেন!

তার আগে পদ্মার জল ঘোলা হলো অনেক।
একাত্তরে অসুস্থতার অজুহাত করে যুদ্ধ করেন নাই। তার জন্মভূমির ছেলেরা জীবন বিপন্ন করে যুদ্ধ করছে। আর উনি পাকিস্তানে ফূর্তি করছেন।
দেশ স্বাধীনের পর বিশেষ অনুরোধে কান্নাকাটি করে চাকুরি বহাল রইল।

সেই তিনিই একদিন হয়ে গেলেন সেনাপ্রধান। তারপর পরাক্রমশালী মার্শাল ল এডমিনিস্ট্রেটর।
তারপর এক দশক পর তাকে হঠানো মানেই হলো গণতন্ত্র।

তারপর ক্ষমতা ছাড়ার পর জেলজীবন। তার আগে অপরিমিত যৌনজীবন। সবই এক্সপেরিয়েন্স করলেন। তারপর গণতন্ত্র হাটতে শুরু করলে, উনি হয়ে গেলেন ‘গণতন্ত্র’ রক্ষার সুগ্যার ব্রো!

তাকে নিয়েই পরপর তিন মেয়াদ দেশে গণতন্ত্র রক্ষা হলো। সংবিধান রক্ষিত হলো। যে কিনা একদিন গণতন্ত্র আর সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল।

দিন গেল, আর মাঝেমধ্যে দিতে হলো সিএমএইচ দাওয়াই! আজ হাসপাতালেই প্রাণপাত করলেন। তারে আগে জোকারি কমেডি করে জাতীয় জীবনে হাসির খোরাক! তারও বহু আগে থেকেই, কাব্যচর্চার মাধ্যমে হাসি যুগিয়েছেন বহু! ছাত্র খুনের ইন্টেনসিটি কমাতে কাব্যের প্রয়োজন ছিল হয়তো!

গ্রামে মফস্বলে মিস্টিক পুরুষ। রাজপথের ভিলেন। আন্দোলনে ঠান্ডা হওয়ার আগে- এই দেশের চেহারা-চিত্র পাল্টে দিয়েছিলেন একদিন।
সে পজেটিভলি, নেগেটিভলি।

ব্যাক্তিজীবনে চরম লিবারাল পলিগ্যামাস লোক; এই দেশে পলিটিক্যাল সাম্প্রদায়িকতার দ্বিতীয় প্রধান পুরোহিত। তবে রাজনীতি পপুলিস্ট আর প্রান্তিক ঘেঁষা ছিল। তাই আমলাতন্ত্রের কেতাদুরস্ত জনবিচ্ছিন্নতাকে গ্রাম মফস্বল অবধি পৌঁছে দিতে কিছু পদক্ষেপ ছিল। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

বিদেশী সাহায্যের তছনছ অবস্থা, গণতন্ত্র সংকুচিত করা, সাম্প্রদায়িক সংবিধান; এইসব অভিযোগ এরশাদের বিরুদ্ধে করার পর-; তারপর দেখি, এরশাদের বিরুদ্ধে যে দেশ দাঁড়িয়েছিল।

সেই এরশাদ পরবর্তী শাসনগুলো কি এমন রসগোল্লা চর্চা করছে; যে এরশাদকে নর্দমায় ছুড়ে ফেলবো! তাই এরশাদ বুকেও ঠাই পান না। নর্দমায়ও না।

হৃদয়ের মধ্যে যে ‘আলমে বারজাখ’; বেহেশত আর দোজখ এর মাঝামাঝি স্থান। এরশাদকে সেখানে রেখে দিতে চাই। সেখানে এরশাদ রইলেন।

তবে দোয়া করি, খোদা ক্ষমাশীল হউক। ধর্মে যেহেতু মৃতকে নিয়ে ভালো দোয়া করতেই বলা হয়েছে। ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button