ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

এমনই তো হওয়ার কথা ছিল!

আমিনুল ইসলাম:

আমরা যখন ক্রমাগত লিখে যাচ্ছিলাম- দয়া করে এই প্রজন্মের হৃদয়ের স্পন্দন বুঝার চেষ্টা করুন, আপনারা তখন ব্যস্ত মানুষজনকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে ট্যাগ দিতে। তো, আমরা কেন ক্রমাগত লিখে যাচ্ছিলাম? আমাদের কি কোন ফায়দা আছে এতে?

আমি স্রেফ আমার নিজের কথা বলি। আপনাদের ভালোবাসি। পছন্দ করি। আপনাদের ভালো চাই। এতো বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছেন আপনারা, আরও হয়ত অনেক দিন থাকবেন। কোন দিন কোন ফায়দা নিতে যাইনি। যাবোও না। সেটার কোন দরকারও নেই। অথচ চাইলেই হয়ত একটা বড় পদ পেয়ে যেতাম। স্রেফ আপনাদের পছন্দ করি বলে সব সময় চেষ্টা করে গিয়েছি সমালোচনা’র মাধ্যমে ব্যাপারগুলোকে তুলে ধরার।

তো, আপনারা কি আমাদের কথা শুনেছেন? কোটা সংস্কার কিন্তু আপনারা করতে বাধ্য হয়েছেন! উল্টো পুরো কোটা সিস্টেমই দিয়েছেন বাদ দিয়ে! মাঝখান থেকে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী’দের সঙ্গে আপনারা যা করেছেন; সেটা তারা নিজ চোখে দেখেছে। এইসব ব্যাপার মানুষ ভুলে না। কখনো ভুলে না। তাই যখনই তারা সামান্যতম সুযোগটুকু পেয়েছে; নিজেদের রায় জানিয়ে দিয়েছে।

আর এখন যারা শিবির, শিবির করছেন; আপনাদের কি লজ্জা হচ্ছে না? নির্বাচনের আগের দিন একটা ফেইক লিফলেট তো আপনারাই বানিয়েছেন। এসবের কি দরকার ছিল? আর শিবির বলছেন তো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী তাহলে শিবিরকে ভোট দিয়েছে? কই- কেউ তো ছাত্র দলের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি! ওদের তো কেউ জয়ীও হয়নি। এর মানে কি বুঝতে পারছেন তো?

ছেলেপেলেরা গতানুগতিক রাজনীতি’তে হাঁপিয়ে উঠেছে। তারা আর এইসব দেখতে চায় না। কাউকে না পেয়ে তাই তারা নুরকেই ভোট দিয়েছে। চাইলে তারা ছাত্রদলের ছেলেটাকে ভোট দিতে পারত। কিন্তু দেয়নি। কারণ তারা জানে- এতে কোন ফায়দা নেই। ও আচ্ছা; আমাদের বিশাল বুদ্ধিজীবী সমাজ আবার ফেসবুকে আর টেলিভিশনে নির্বাচনের আগের দিন দেখলাম বিশ্লেষণ করছে এইভাবে- এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী, এইগুলো শুধু প্রার্থীই। এদের কোন সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। মূল লড়াই আসলে হবে ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের মাঝে!

তো ছাত্রদল কোথায়? কয়টা ভোট পেয়েছে তারা? এই যে ছাত্রলীগ কিছু ভোট পেয়েছে; এর কারণ তারা এখন ক্ষমতায়। নইলে তারাও হয়ত এতো ভোট পেত না। এক কোটা আন্দোলন অনেক সমীকরণ চেঞ্জ করে দিয়েছে। ওই আন্দোলনের সময় যারা সাধারণ ছাত্রদের জামাত-শিবির বলে ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছিলো; তাদের উপর হামলে পড়েছিল; তারা সামান্যতম সুযোগ পেয়ে এর উত্তর দিয়েছে।

একটা ব্যাপার আপনাদের হলফ করে বলে রাখি। শুনলে শুনবেন, না শুনলে নাই। দেশের দুই একজন নিয়মিত লেখকদের মাঝে আমি একজন; যে প্রতিনিয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে যাচ্ছি। এর কারণ কি ব্যক্তিগত ক্ষোভ? মোটেই না। কারণ এই জায়গাটি অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের আশ্রয়স্থল। আজকে যারা বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র, কালকে তারাই হবে সরকারি আমলা কিংবা বুদ্ধিজীবী। দেশ কিন্তু এরাই চালাবে। আর সেই ছাত্ররা তাদের রায় খুব ভালো করে জানিয়ে দিয়েছে। তারা আজ ছাত্র দলকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। সময় হলে ওরা আপনাদেরও ছুঁড়ে ফেলে দেবে।

এখনও সময় আছে সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পন্দন বুঝার চেষ্টা করুন। সেই সঙ্গে আমাদের মতো সমালোচকদের সমালোচনাগুলো ধারণ করতে শিখুন। নইলে এর মূল্য একদিন আপনাদের দিতে হবে। মনে রাখবেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ যা হয়, পুরো বাংলাদেশে সেটি কাল কিংবা পরশু দিন হয়।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button