অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যঅনুপ্রেরণার গল্পগুচ্ছসিনেমা হলের গলি

অভিনেতা নন, ‘গরীবের ডাক্তার’ এজাজুল ইসলামের গল্প!

তাকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কম। কিংবদন্তী সাহিত্যিক হূমায়ুন আহমেদের মাধ্যমে অভিনয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন, অভিনয়টাকেই ভালোলাগা আর ভালোবাসার জায়গা বানিয়ে ফেলেছিলেন। প্রথম দিকে শুধু হূমায়ুন আহমেদের নাটক-সিনেমাতেই তাকে দেখা যেত। কখনও কমেডি, কখনও সিরিয়াস আবার কখনও বা দুষ্টু লোকের চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন পর্দায়, তবে একটা ব্যাপার কমন ছিল, তার অভিনয় দেখে, তার ডায়লগ শুনে লোকে হেসে গড়াগড়ি খেয়েছে। নাটকে তার উপস্থিতি মানেই বিশেষ কিছু, দর্শকের বাড়তি বিনোদনের জোগাড়। অথচ সেই মানুষটা যে পেশায় একজন সফল চিকিৎসকও, সেটা খুব বেশী লোকে জানেন না হয়তো। পত্রিকার পাতায় তার ছবি সবসময় দেখা যায় বিনোদনের অংশে, তবে এবার নিজের ভূমিকাতেই খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন। ফেসবুকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা অনিমেষ আইচ। 

আজ সকালে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে অনিমেষ আইচ লেখেন- 

ডা: ইজাজ 
হেড অফ ডিপার্টমেন্ট 
নিউক্লিয়ার মেডিসিন 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
দেশের মানুষের কাছে তিনি একজন স্বনামধন্য অভিনেতা পাশাপাশি একজন সুচিকিৎসক। সম্প্রতি তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হয়েছেন, অবশ্যই এটি আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের। কিন্তু এ নিয়ে কোন সংবাদ দেখলাম না কোন পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলে। অথচ কার সংগে কার ডিভোর্স হলো, কার সুন্দরী হওয়ার নেপথ্য ইতিহাস কি? এ নিয়ে জাতির মাথা ব্যাথার অন্ত নাই। মিডিয়ার মানুষদের বিজয়ের গল্প ও সাধারন মানুষদের জানা দরকার। এ ইতিহাস কেবল কিছু বিভ্রান্তির গল্পে সীমাবদ্ধ নয়।
অভিনন্দন ইজাজ ভাই। 

ডা এজাজুল ইসলাম, অভিনেতা, চিকিৎসক, হূমায়ুন আহমেদ, নাটক, সিনেমা, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার

ডাক্তার এজাজুল যে শুধু ভালো চিকিৎসক তাই নয়, নিজের রোগীদের কাছে তিনি ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবেও পরিচিত! ভিজিট কম নেন বলেই এই নাম দেয়া। সরকার নির্ধারিত ৩০০ টাকা ভিজিটে গাজীপুর চৌরাস্তার একটি চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখেন তিনি। পর্দায় যে মানুষটা অনবরত আমাদের হাসির খোরাক যোগান, মানুষের কান্না দেখতে তার ভালো লাগে না। আর তাই সাধ্যমতো চেষ্টা করেন গরীব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। মনটা তার মায়া আর ভালোবাসায় পরিপূর্ন। হূমায়ুন আহমেদ রত্ন চিনতে ভুল করেননি একটুও! 

ডা এজাজুল ইসলাম, অভিনেতা, চিকিৎসক, হূমায়ুন আহমেদ, নাটক, সিনেমা, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার

১৯৮৪ সালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছিলেন ডাক্তার এজাজুল ইসলাম, এরপরে নিউক্লিয়ার মেডিসিনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। হুমায়ুন আহমেদের সবুজ সাথী নামের ধারাবাহিক নাটকে প্রথমবার ডাক্তার চরিত্র হিসেবেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা হয় তার। ১৯৯৯ সালে অভিনয় করেছিলেন হূমায়ুন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমায়, সেটাই রঙ্গিন পর্দায় তার প্রথম কাজ। এরপরে শ্যামল ছায়া, দুই দুয়ারী, হৃদয়ের কথা সহ প্রায় আঠারোটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে ‘তারকাঁটা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্যে ৩৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতা হয়েছিলেন তিনি। 

এদিকে, নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে ডাক্তার এজাজুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন নতুন দায়িত্বের ব্যস্ততার কথা। জানিয়েছেন, ব্যস্ত থাকলেও ভালোবাসার জায়গা অভিনয় ছাড়বেন না তিনি, ঠিকই সময় বের করে নেবেন। দর্শকেরাও তাকে পর্দায় দেখবেন নিয়মিতই। সবার কাছে দোয়াও চেয়েছেন এই গুণী অভিনেতা। 

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button