মনের অন্দরমহলরিডিং রুম

আকাশের আত্মহত্যা এবং কিছু হিপোক্রেটের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড!

কি পরিমান স্পাইনলেস, ছ্যাচড়া, নির্লজ্জ, বেহায়া হলে, একটা মেয়ে শিক্ষিত হয়ে, নিজের পায়ে দাঁড়াবার ক্যাপাবিলিটি থাকা সত্ত্বেও বাপ-মা চৌদ্দ গুষ্টি মিলে দেন মোহরের নামে গুন্ডামি, চাঁদাবাজি করে? লজ্জা লাগে না? ফেসবুকে একবার একটা মেম দেখেছিলাম যে, “পরের ছেলের জন্য ভাত রেঁধে খাওয়ানোর জন্য পড়াশুনা করছিলাম?’, কথা তো সেটাই! লজ্জা থাকলে পরের বাপের, পরের ছেলের টাকা দিয়ে নিজের ইকোনোমিকাল সিকিউরিটি কিনতে চাও কেমনে? তোমার বাপ-মা তোমাকে লেখাপড়া করায় নাই? নিজের অতোটুকু গাটস নাই, যে কিছু কইরা খাইতে পারবো? তাইলে? ১৫-২০-৩০লাখ টাকা, টাকা কি ভাইসা আসে? তোমার রুপ আছে, তাই ২০ লাখ? তুমি বড়লোকের মেয়ে তাই ৪০ লাখ দেন মোহর? তুমি কি চিংড়ী মাছের ভাগা? তুমি কি হাটে বেঁধে রাখা কোরবানীর গরু? তোমার রঙ লাল হলে দুই হাজার টাকা বেশী? শিংটা বড় হলে ৫০০ টাকা আরও বেশী?

আজকে ডাঃ আকাশ এর আত্মহত্যার পরে কিছু মনুষ্যরুপী জানোয়ারের বাচ্চারা সেখানেও আকাশ ভাইয়ের দোষ খুঁজে পেয়েছেন। তারা বলছেন, মেয়েটি প্রতারক জেনে শুনেও কেনো আকাশ ডিভোর্স দেয়নি? বেঈমানের বাচ্চা, যেই মেয়ে এক্সট্রা ম্যারিটাল এফেয়ারে জড়িত, ডিভোর্স সে দেয় না কেনো? ডিভোর্স দিয়ে ১৪ ব্যাটার সাথে শুইলেও তো কারও কিছু যায় আসে না! কমিটেড রিলেশনে, তার কনসেনট নেয়া (কাবিন নামা) রিলেশনে কেনো সে প্রতারনা করবে? মেয়ে কেনো ডিভোর্স দেয় না? আর ডিভোর্স ছেলে কেনো দিলো না? এইটা তোমাদের প্রশ্ন?

যদ্দুর জানি, তাদের কাবিনে দেনমোহর ছিলো ৩৫লাখ টাকা। খালি চট্টগ্রামের দোষ দিয়ে লাভ নেই, সারা দেশের সব উন্নত জায়গায়, নগরীতেই এখন এই অবস্থা, ছেলে যাতে কোনভাবেই দেনমোহর পুরাটা উসুল করতে না পারে, এইটাই মেয়ে ও তার বাপ-মায়ের টেন্ডেন্সি থাকে। তাদের ধারণা, দেন মোহরের টাকা দিতে না পারলে বিয়ে ভাংবেনা, ছেলে ডিভোর্স দিতে পারবে না, এইটাই মেয়ের সিকিউরিটি। একজন জুনিওর ডাক্তার আকাশ কোত্থেকে ৩৫ লাখ টাকা পাবে? তোদের বাপ দিবে? নাকি নিজেরা জামাই এর মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে যে লাখ টাকা নিয়েছে, সেখান থেকে দিবে?

মেয়েটার ছবি কেনো প্রকাশ করা হল? এই ছিলো আরেকজনের প্রশ্ন। এগুলারে হিপোক্রেট বললে, হিপোক্রেসিও পা ধইরা মাফ চাবে। বাসে গায়ে হাত দিলে না এরাই বলে ছবি তুলে ভাইরাল করতে? রেপ হলে এরাই না বলে রেপিস্ট এর চেহারা ভাইরাল করতে? তো, এসব ক্ষেত্রে রেপিস্ট, হ্যারাজকারী কি আইনের চোখে তখন তখনই প্রমাণিত? তো তখন চেহারা ভাইরাল করবার কারণ কি? মেয়ের চেহারা হলে ভাইরাল করা যাবে না, না? তখন কি নারী অবলা? অবুঝ? কয়েকদিন আগেও এক নারী তার স্বামীকে হত্যা করে ড্রয়ারে ভরে রেখে রাতে ঘরে ফিরে টুকরো টুকরো করেছে। তো সেই নারী কেনো ডিভোর্স দিলো না? খুন করলো কেনো?

সেই ১৮৬০ সালে করা এক বা*শ্বর ব্রিটিশ আইন, বিপিসি ৪৯৭ অনুয়ায়ী, পরকীয়ায় শুধুমাত্র পুরুষটি শাস্তিযোগ্য। কেনো? মহিলাটা কি ললিপপ চুষছে? নাকি লোকটা আয়নার সামনে নিজের সাথে নিজে প্রেম করছে? নিজেকে নিজে প্লেজার দিছে? কোন **র ভাই নারীবাদীরে দেখলাম না বলতে, আমরা সমানাধিকার চাই, পরকিয়াতে পুরুষের একার কেনো শাস্তি হবে? হয় কোন শাস্তি হবে না, আর নাইলে দুইজনেরই শাস্তি হইতে হবে। এইসব সো কল্ড প্রগতিশীল, আকাইম্যা, এক্সপায়ার্ড, সো-কলড নারীবাদীদের থেকে নাসিরের এক্স গার্লফ্রেন্ড শাহ হুমায়রা সুবাহ মেয়েটা সৎ আছে, বলছিলো, ‘মিথ্যা কথা বলবো না, মজা তুমিও পাইছো, আমিও পাইছি’। এগুলার থেকে একশোগুন ভালো আছে মেয়েটা।

যদি নিজের সামান্যতম আত্মসম্মানবোধ থেকে থাকে, যদি পড়াশুনা আসলেই কইরা থাকো, যদি নিজের লজ্জাবোধ থেকে থাকে, পিঠে হাত দিলে যদি একটা মেরুদণ্ড অনুভব করতে পারও, তাইলে দেনমোহরের নামে চান্দাবাজি ছাড়ো। তুমি যদি আসলেও মনে করো, পাহাড়সমান দেন মোহর নিয়া স্বামীকে আটকায় রাখবা, ডিভোর্স দিতে পারবে না, তাইলে জাইনা রাখো, সব ছেলে ডাঃ আকাশ না। জীবন দোজখ বানায় দিবে নে, তখন নিজেই ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি করে ফিরত আসবা।

আর এরপরও যারা আকাশের আত্মহত্যায় মেয়েটার বহুগামিতাকে ইভোলিউশন, সায়েন্স, সামাজিকতা, নারীবাদিতা, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চাপ ইত্যাদি দিয়া জাস্টিফাই করতেছেন, করবেন, তাদের জন্য আমার একটাই উপদেশ, সি টি এন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button