খেলা ও ধুলা

ওই নতুনের কেতন ওড়ে…

লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড ছিল লিটন দাসের ৭৫২। ‘ছিল’, কারণ এখন আর নেই। এবারই লিটনের রান ছাড়িয়ে গেছেন তিন জন। তাদের মধ্যে দুজন ছাড়িয়েছেন ৮০০। ৮০০ ছোঁয়া এই দুজনের নামই দারুণ আশা জাগানিয়া। রেকর্ড ৮১৪ রান করেছেন সাইফ হাসান। মোহাম্মদ নাঈম করেছেন ৮০৭। সাইফের অফিসিয়াল বয়স ২০। খেলেছেন গত দুটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। নাঈমের বয়স ১৯, খেলেছেন গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে।

আশা জাগানোর কারণ, দুজনের এগিয়ে চলার পথ। গত কয়েক বছর ধরেই সাইফকে মনে করা হচ্ছে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান। বিশেষ করে লঙ্গার ভার্সনের জন্য, কারণ তার টেম্পারামেন্ট বেশ সহজাত। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরুর দিকে লিখেছিলাম, সাইফের ডেভেলপমেন্টের গতিতে সন্তুষ্ট হতে পারছি না। বলতে দ্বিধা নেই, শেষ পর্যন্ত সাইফ চমকে দিয়েছেন। ১১ ছক্কার রেকর্ড, ১১৬ বলে ১৪৮ রানের ইনিংস খেলেছেন, রেকর্ড রান করেছেন। অভিনন্দন!

নাঈম বাঁহাতি ওপেনার। গত মৌসুমে ঢাকা লিগে প্রথম খেলেছেন। সিনিয়র ক্রিকেটে অভিষেক মৌসুমে ১২ ম্যাচে করেছিলেন ৫৫৬ রান। এবার দ্বিতীয় মৌসুমেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন অনেকটা। উন্নতির এই তাড়না ভালো লেগেছে। গত মৌসুমে সেঞ্চুরি ছিল না, ফিফটি ছিল ৪টি। কয়েকবারই থিতু হয়ে আউট হয়েছেন। এবার ৩ সেঞ্চুরি, ৫ ফিফটি। সহজাত স্ট্রোকমেকার, হ্যান্ড-আই কো অর্ডিনেশন ভালো, টাইমিংয়ের ক্ষমতাও সহজাত। সবচেয়ে উল্লেখ্য, বেশ সময় পান শট খেলতে, মানে বল আগে পড়ে ফেলতে পারছেন। যদিও টেকনিক আরও কমপ্যাক্ট করতে হবে, স্টাম্পের বাইরে আরও আঁটসাঁট হতে হবে। তবে কেবলই শুরু হিসেবে পথচলা দুর্দান্ত। ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে, সেটাও সময়ে উন্নতি হবে নিশ্চিত। সব মিলিয়ে দারুণ সম্ভাবনাময়…

Image Source: thedailystar.net

৮০০ করতে না পারলেও লিটনের রেকর্ড ছাড়োনো আরেকজন রকিবুল হাসান। ৬০.০৭ গড়ে করেছেন ৭৮১ রান। অন্য দুজনের মতো তিনি টপ অর্ডার নন, ১ সেঞ্চুরির পাশে ফিফটি ৮টি।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অনেককে নিয়ে আলোচনা হয় অনেক, রকিবুলকে নিয়ে হয় সামান্যই। আমার যতটা মনে হয়, গত কয়েক বছরে সবচেয়ে উন্নতি করা দুই ব্যাটসম্যানের একজন রকিবুল (আরেকজন নাঈম ইসলাম)। এবার যে আগ্রাসী ব্যাট করেছেন রকিবুল, চমকে গেছি। স্ট্রাইক রেট ৯৬.০৬ বলেই শুধু নয়, বেশ কয়েকটি ম্যাচে রকিবুল নেমেই মোমেন্টাম পাল্টে দিয়েছেন। একটা উল্লেখ করার মতো তথ্য, লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা লিগে সাতশর বেশি রান দুইবার করেছেন একমাত্র রকিবুলই!

শুরুর দিকে দারুণ খেলে শীর্ষে থাকা জহুরুল মাঝে একটু বিবর্ণ ছিলেন। শেষ দিকে আবার রান করেছেন। শেষ করেছেন ৭৩৫ রান নিয়ে। অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে যেভাবে আবার দেশের ক্রিকেটের মূল স্রোতে ফিরলেন প্রবলভাবে, অভিনন্দন তাকেও।

লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা লিগে ৭০০ রান

সাইফ হাসান–১৬ ইনিংস –৮১৪ রান– সর্বোচ্চ–১৪৮*– গড় ৬২.৬১– স্ট্রাইক রেট ৭৯.৩৩– সেঞ্চুরি-ফিফটি ৩/৪ — মৌসুম ২০১৮-১৯

মোহাম্মদ নাঈম–১৬ ইনিংস–৮০৭ রান– সর্বোচ্চ ১৩৬ — গড় ৫৩.৮০– স্ট্রাইক রেট–৯৪.৩৮– সেঞ্চুরি-ফিফটি–৩/৫– মৌসুম ২০১৮-১৯

রকিবুল হাসান–১৬ ইনিংস–৭৮১ রান– সর্বোচ্চ ১০২– গড় ৬০.০৭–স্ট্রাইক রেট ৯৬.০৬– সেঞ্চুরি/ফিফটি ১/৮– মৌসুম ২০১৮-১৯

লিটন দাস– ১৪ ইনিংস–৭৫২ রান– সর্বোচ্চ ১৩৬– গড় ৫৩.৭১– স্ট্রাইক রেট ১০৮.৯৮– সেঞ্চুরি-ফিফটি ২/৫– মৌসুম ২০১৬-১৭

নাজমুল হোসেন শান্ত– ১৬ ইনিংস–৭৪৯ রান– সর্বোচ্চ ১৫০*– গড় ৫৭.৬১– স্ট্রাইক রেট ৯৭.৫২– সেঞ্চুরি-ফিফটি ৪/২– মৌসুম ২০১৭-১৮

এনামুল হক– ১৬ ইনিংস–৭৪৪ রান– সর্বোচ্চ ১২৮– গড় ৪৯.৬০– স্ট্রাইক রেট–৮৯.৫৩– সেঞ্চুরি-ফিফটি ২/৪– মৌসুম–২০১৭-১৮

জহুরুল ইসলাম — ১৫ ইনিংস–৭৩৫ রান– সর্বোচ্চ ১৩০– গড় ৫৬.৫৩– স্ট্রাইক রেট ৭৭.৭৭– সেঞ্চুরি/ফিফটি ৩/৩– মৌসুম ২০১৮-১৯

নাঈম ইসলাম–১৬ ইনিংস–৭২০ রান– সর্বোচ্চ ১১৬*– গড় ৫৫.৩৮– স্ট্রাইক রেট ৮৭.৩৭– সেঞ্চুির/ফিফটি ১/৬– মৌসুম ২০১৭-১৮

রকিবুল হাসান–১৬ ইনিংস–৭১৯ রান– সর্বোচ্চ ১০০– গড় ৬৫.৩৬– স্ট্রাইক রেট ৭২.৩৩–সেঞ্চুরি/ফিফটি–১/৫– মৌসুম ২০১৬-১৭

রনি তালুকদার–১৬ ইনিংস–৭১৪ রান– সর্বোচ্চ ১৩২*–গড় ৫১.০০– স্ট্রাইক রেট ৮৩.১১– সেঞ্চুরি/ফিফটি ২/৩– মৌসুম ২০১৪-১৫

তামিম ইকবাল– ১৬ ইনিংস–৭১৪ রান– সর্বোচ্চ ১৪২– গড় ৪৭.৬০– স্ট্রাইক রেট ৯০.৭২– সেঞ্চুরি/ফিফটি ২/৪– মৌসুম ২০১৬-১৭

ফজলে মাহমুদ রাব্বি –১৬ ইনিংস– ৭০৮ রান–সর্বোচ্চ ১২০*– গড় ৪৭.২০– স্ট্রাইক রেট ৭৩.৪৪–সেঞ্চুরি/ফিফটি ২/৩– মৌসুম ২০১৭-১৮

আব্দুল মজিদ– ১৬ ইনিংস–৭০৬ রান– সর্বোচ্চ ১১৮– গড় ৪৪.১২– স্ট্রাইক রেট ৮৪.৬৫–সেঞ্চুরি/ফিফটি ২/৫–মৌসুম ২০১৬-১৭

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button