এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডতারুণ্য

ভ্রমণে যা যা করা উচিৎ নয়!

আমরা সবাই বিশ্বের সব সুন্দর জায়গা গুলো দেখতে চাই। অবলোকন করতে চাই চারপাশের সব লুকানো সৌন্দর্য। ভ্রমণ শুধু নিজেকে আনন্দ দেয় এমন নয়, ভ্রমণ এখন একটি নৈতিক শিক্ষাও বটে। সাধারণত মানুষ জানিয়ে থাকে ভ্রমণে গেলে আপনার কি করা উচিৎ, কোথায় ঘোরা উচিৎ, কি খাওয়া উচিৎ। কিন্তু আমরা বলতে ভুলে যাই ভ্রমণে আমাদের কি করা উচিৎ নয়। এটি জানাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয় গুলো জানা থাকলে অনেকরকম বিব্রতকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যাবে। এছাড়াও আপনার ভ্রমণ প্রত্যাশার তুলনায় আরও পরিপূরক হবে। ইংরেজিতে একটি কথা রয়েছে – When in Rome, do as the Romans do”. এর অর্থ হলো যেকোনো দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী আমাদের পরিদর্শন করা উচিৎ। অন্য দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান দিতে শিখতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক ভ্রমণে কি কি করা উচিৎ নয়।

১। অনুমতি ছাড়া কোনো মানুষের ছবি তুলবেন না

মনে করুন কোনো একটি লেকের সামনে আপনি একটি বই পড়ছেন। হঠাৎ একজন এসে আপনার অনুমতি ছাড়াই আপনার ছবি তোলা শুরু করে দিলো। একজন অচেনা মানুষ আপনার ছবি তুলছে আপনি নিশ্চয়ই উৎফুল্ল অনুভব করবেন না। আমরা ট্রাভেলাররা এই জিনিসটি সবচাইতে বেশী করে থাকি। এটি সম্পূর্ণ অনুচিত। কিছু সংস্কৃতিতে ছবি তোলা নিষিদ্ধ। জেনে রাখা ভালো, মরক্কোর মসজিদ গুলোর ছবি তোলার জন্য অনুমতি লাগে। এছাড়াও যে কোনো দেশেই যদি আপনি কোনো মানুষের ছবি তুলতে চান তাহলেই অবশ্যই ভদ্রতার সাথে অনিমতি নিয়ে তবেই ছবি তুলবেন।

২। পরিবেশ নষ্ট করবেন না

সমুদ্রের মধ্যে, নদীতে, বনে-জঙ্গলে যে কোনো পর্যটক স্থানে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। যদি স্থানীয় মানুষদের ফেলতে দেখেন তবুও পরিবেশ নষ্ট করবেন না। আপনি হয়তো জানেন না আপনার ফেলা দেয়া পলিথিনের প্যাকেট সমুদ্রের জীবদের কী পরিমানের ক্ষতি করছে। বিলীন হয়ে যাচ্ছে অনেক জলজ প্রাণী। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা সে স্থানের অসম্মান করা হয়। সাথে পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী রয়ে যাবেন।  উন্নত দেশগুলোতে ক্যাম্পসাইট, জাতীয় উদ্যান, এবং হাইকিং ট্রেলগুলোতে আবর্জনা বহন করার এবং সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করার কঠোর নিয়ম রয়েছে। আমাদের দেশেও লিখে দেয়া হয় ময়লা ফেলা নিষেধ। কিন্তু আমরা তা না মেনে মনের সুখে নোংরা করে ফেসবুকে এসে স্ট্যাটাস দেই এতো সুন্দর জায়গা ঘুরে আসলাম। কিন্তু লেখেন না সুন্দর জায়গাটি আপনি বর্জ্য ফেলে ময়লা করে এসেছেন।

ভ্রমণ, ভ্রমণে করণীয়, ভ্রমণকালে যা করবেন না, ভ্রমণের সময় যা করা উচিত নয়

৩। অনুপযুক্ত পোষাক পরিধান পরিহার করুন

প্রতিটি দেশের যথাযথ অনুষ্ঠানের নিজস্ব কিছু ড্রেস কোড থাকে। যেমন সুট-কোট পড়া ইউরোপীয় দেশ গুলোতে খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু এশিয়ান দেশে এটি একটু অন্যরকম মনে হবে। একইভাবে অনেক দেশে শর্টস এবং জিন্স পড়ে নির্দ্বিধায় ঘুরে বেড়ানো যায়। আবার কিছু দেশে এটি সাধারণভাবে নেয়া হয় না। সংক্ষেপে বলতে গেলে এমন পোষাক পড়া উচিৎ নয় যেটিতে আপনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দ্বারা নিন্দিত হন।

৪। সংস্কৃতি অবমাননা করবেন না

প্রতিটি দেশের নিজস্ব কিছু সংস্কৃতি এবং রীতিনীতি রয়েছে। আমাদের এমন কোনো কার্যকলাপ করা উচিৎ নয় যেটি সংস্কৃতির অবমাননা হিসেবে ধরা হয়। প্রতিটি মানুষ তাদের ধর্ম সম্পর্কে কট্টর হয়ে থাকে। তাই প্রতিটি ধর্মকে সম্মান করা উচিৎ।

৫। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলুন

প্রতিবেশি দেশ ইন্ডিয়াতে ট্রাফিক নিয়ম এবং বিধানগুলো খুব বেশী সিরিয়াস নয়। কিন্তু অন্যান্য দেশের মানুষরা তাদের ট্রাফিক নিয়ম নিয়ে খুব বেশী সচেতন। গতির নিয়ম কানুন এবং হং এর ব্যাপারে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকা উচিৎ। আর যদি আপনি দুবাই এর মতো দেশে ঘুরতে জান তাহলে এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

ভ্রমণ, ভ্রমণে করণীয়, ভ্রমণকালে যা করবেন না, ভ্রমণের সময় যা করা উচিত নয়

৬। আপত্তিকর সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন

এমন অনেক দেশ আছে যেখানে থাম্বস আপ দেখানোর মানে হচ্ছে OK কিন্তু ইরান, বাংলাদেশ, তুরস্ক প্রকৃতির মতো কিছু দেশে এটি একটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। মালেয়শিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে থাম্বস ছাড়া অন্য কোনো আঙ্গুল দেখাবেন না। ইন্দোনেশিয়ার মত দেশে বাম হাত ব্যবহার করা অসম্মানজনক বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। সুতরাং সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

৭। স্মার্টফোন ব্যবহারে আসক্ত হবেন না

হ্যাঁ, স্মার্টফোন একটি গুরুত্বপূর্ণ গেজেট। কিন্তু আপনি ভ্রমণে এসেও যদি সারাক্ষণ মোবাইলের নোটিফিকেশন চেক করতে থাকেন তাহলে ভ্রমণে আসার কি দরকার ছিল? মোবাইল ফোন ব্যবহারেই যদি আপনি আপনার বেশীরভাগ সময় অপচয় করেন তাহলে ভ্রমণটি উপভোগ করতে পারবেন না। আপনার ভ্রমণের প্যাকিং এ প্রযুক্তির তালিকায় শুধুমাত্র ক্যামেরা ও চার্জার অ্যাডাপ্টার অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ।

Comments
Tags

Related Articles

Back to top button