এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

পশ্চিমা দেশে কেন অনেকেই মৃতুর পর কুকুরকে সব কিছু দান করে যায়?

একমাত্র কুকুর আপনার সাথে বিনিময় করবে। আপনার একবিন্দু ভালোবাসা নষ্ট হতে দিবে না। আপনার যত্নের বিনিময়ে সে রাতভর ঘেউঘেউ করে আপনাকে এলার্ম করবে। সম্ভবত মানুষের সাথে মানুষের বিনিময় প্রথার আগেই কুকুরের সাথে মানুষের বিনিময় প্রথা শুরু হয়। বস্তুগত না হলেও এটাকেই মানবজাতির প্রথম বিশুদ্ধ বিনিময় প্রথা বলা হয়।

একদিন মানুষের ডাকে কুকুর জঙ্গল ছেড়ে বের হয়ে লোকালয়ে চলে আসল। মানুষের হাতের নিচে পোষ মানল। পায়ের নিচে জায়গা করে নিল। এরপর বুঝে নিল তার দায়িত্ব। কুকুর যুদ্ধে, শিকারের সময়, হিংস্র পশু ও অন্যগোত্রের অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মানুষকে সতর্ক করে দিত। এলার্ম সিস্টেম হিসেবে কাজ করত। বিনিময়ে তার জীবন হয়ে যেত আয়েশী, আরামদায়ক। আয়েশী জীবন যাপনের জন্য তেমন কিছুর দরকার হয়নি। মানুষের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খেয়েই বেঁচে থাকত। তাকে বন্য জীবনের মত শিকার করতে হত না। বিড়াল কিংবা অন্য প্রাণীদের মধ্যে প্রভুভক্ত ব্যাপারটা নেই। কিন্তু রাস্তায় ‘তু’ করে ডাকলেই হিংস্র কুকুরও আপনার হাতের নিচে চলে আসবে। পায়ে মাথা ঘষবে। কিন্তু বিড়াল কিংবা গরু ছাগল করবে না। অন্য প্রাণী থেকে কুকুরের এই পার্থক্যের জন্য মানুষ-কুকুর বন্ধুত্ব খুব সহজ হয়েছিল।

মানুষের মাঝে কিছু লোক আছে যাদের জুতোপেটা করলেও দাঁত বের করে হাসবে। এই ধরণের মানুষগুলো শেষ পর্যন্ত হলেও নিজের অংশটা বুঝে নেয়। কুকুরের ওয়ার্কিং মেথডও এই শ্রেণির। ভালোবাসার বিনিময়ে, নিরাপত্তার বিনিময়ে খাদ্য গ্রহণ করে। মানুষ প্রয়োজন ফুরোলে অপরিচিত হবে। সামান্য ব্যবহারে সংবেদনশীলতা দেখাবে। কিন্তু কুকুর কখনোই এমন ঘটায় না। কথিত আছে- পাগলা কুকুর মালিককে না চিনলেও তাকে কামড়ায় না।

অতি দ্রুত হোমো সেপিয়েন্সদের কাছে কুকুরের গ্রহণযোগ্যতা এতটাই উঁচুতে পৌছে গিয়েছিল যে মনিবের মৃত্যুর পর কুকুরটিকে হত্যা করে তার মাথা কিংবা মুখের কাছে সন্তানের মত কবর দেওয়া হত। দু’জন অকৃত্রিম বন্ধু ঘুমিয়ে যেত চিরতরে। হোমো সেপিয়েন্সদের স্বভাবের এই অংশটকু জিনের মাধ্যমে তার বংশধরদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমা দেশে এখনো মৃত্যুর পর নিজ সন্তানকে অংশীদারিত্ব না দিয়ে প্রিয় কুকুরের নামে দানপত্র করে রেখে যেতে দেখা যায় এই কারণেই।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button