ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

আইন কি শুধু তাঁদের জন্য?

প্রকাশ্য স্থানে ধূমপানের অপরাধে একজনকে তিনশ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল, শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বিল্লাল হোসেন এ আদালত পরিচালনা করেন। তাকে ধন্যবাদ। ওদিকে আরেক খবরে দেখছি, ট্রেনে এক ম্যাজিস্ট্রেটের ধূমপানের প্রতিবাদ করায় এক চিকিৎসককে নাকি ম্যাজিস্ট্রেট মারধর করেছেন। কিশোরগঞ্জের চিকিৎসকেরা ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশও করেছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, গত ২১ জুন কিশোরগঞ্জ থেকে সিলেট যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেনে সহকারী ভূমি কমিশনার ধূমপান করায় তার প্রতিবাদ করেন চিকিৎসক রাফিউল সিরাজ। এতে পরের স্টেশনে পুলিশ ডেকে ওই চিকিৎসককে টেনে হিঁচড়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরিচয় দেয়ার পরও তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

ত‌বে ওই ম্যাজিস্ট্রেট ব‌লেছেন, ট্রেনে প্রচন্ড ভীড় ছিলো। দাঁড়ানোর তিল পরিমান স্থান ছিলো না। ক্ষিধে লাগলে কিছু খাওয়ার জন্য মনতলা রেলস্টেশনে কলা ও ব্রেড খে‌য়ে ট্রেনে উঠতে গেলে সবাই উঠতে বাধা দেয়। ইতিমধ্য ট্রেন ছেড়ে দেয়, জোর করে উঠতে গেলে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়, বলে- এদিকে দাঁড়ানোর জায়গা নেই আবার উঠতে আসছে। আমি নিচে পরে গেলে একজন ভদ্রলোক টেনে তুলেন এবং আমাকে ট্রেনের জানালা দিয়ে উঠিয়ে দেন। আমি গাড়িতে উঠে এসে এদেরকে বলি তোমরা কাজটা ভালো করনি, চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে আমার মৃত্যু হতে পারত। আমি পুলিশকে জানাবো। বাকবিতণ্ডায় না জড়িয়ে আমি সিটে বসি এবং শায়েস্থাগঞ্জ থানার একজন এস আইকে বিস্তারিত বিষয়টি জানাই।

গাড়ি শায়েস্থাগঞ্জ রেল স্টেশনে আসলে পুলিশ ওদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। আমার জিনিসপত্র নামানোতে আমি ব্যস্ত হয়ে পড়ি। শেষ হলে, পুলিশ আমাকে ফাঁড়িতে যেতে বলে। সেখানে দেখি অনেক লোক জড়ো হয়েছে। পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলি ও ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে আসি। তাঁর প্রশ্ন- চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিলে আইনী প্রতিকার চাওয়া কি অপরাধ?

ও‌দিকে নির্যাতনের শিকার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রফিউল সিরাজ বলেন, ২১ জুন বিকেল ৫টায় মনতলা স্টেশনে ট্রেন থামতেই জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে ট্রেনে ওঠে ফুঁকতে থাকেন এক ব্যক্তি। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সিগারেটের ধোঁয়া অসহনীয় লাগছিল। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ধূমপান না করার জন্য তাকে অনুরোধ করেন। তিনি তো কথা শুনলেনই না বরং উদ্যত হয়ে আমাদের বললেন, ‘তোদের বাড়ি কই, আমারে চিনস? দাঁড়া সামনের স্টেশনে তোদের সব কয়ডারে বানামু।’

ডা. রফিউল সিরাজ আরও বলেন, তারপর যা হলো তার সঙ্গে সেই দৃশ্যগুলো এখনও ভুলতে পারছেন না। ট্রেন শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে থামলে হঠাৎ ওই লোকটার ডাকে ২০-২৫ জন ট্রেনে উঠে তাকে কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করে। এ সময় তার কামরার অনেকেই ভয়ে পালিয়ে যায়। যারা ছিলেন তাদের কয়েকজনকে ওই ম্যাজিস্ট্রেটের পা ধরায়। কিন্তু ডাক্তার পা ধরতে রাজি না হওয়ায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। নিজেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতিষ্ঠানের একজন ডাক্তার বলে পরিচয় দেয়ার পরও ওই ম্যাজিস্ট্রেট তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলতে লাগলেন, কিসের মহামান্য? ওইখানে টুটুল নামে পুলিশের এক এসআই আমাকে জেলে ঢোকানো এবং ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেয়। সেই সঙ্গে তাকে ধরতে বাধ্য করেন ম্যাজিস্ট্রেট।

চিকিৎসক রাফিউল জানান, এখনও সেই দুঃসহ সময়ের কথা ভুলতে পারছেন না। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। চিকিৎসকরা বলছেন, এ ঘটনায় গত ২৪ জুন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো তারা বিচার পাননি।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button