রিডিং রুমলেখালেখি

ম্যাজিশিয়ান বা সাইকোথেরাপিস্ট ছাড়াও হিপনোটাইজ হওয়া সম্ভব কীভাবে?

হিপনোটাইজ শব্দটা পরিচিত। ম্যাজিশিয়ান, সাইকোথেরাপিস্টরা করতে পারে। কিন্তু আপনি-আমি কখনো কি হিপনোটাইজ হয়েছিলাম? হ্যাঁ, আমরা সবাই কখনো না কখনো হিপনোটাইজ হয়েছিলাম। হয়তো ম্যাজিশিয়ান বা সাইকোথেরাপিস্টের সাথে আমাদের দেখা হয়নি কোনোদিন। কিন্তু আমরা হিপনোটাইজ হয়েছিলাম। ম্যাজিশিয়ান বা সাইকোথেরাপিস্ট ছাড়াও হিপনোটাইজ হওয়া সম্ভব। কীভাবে?

আপনি যখন শিশু ছিলেন, আপনার মা আপনাকে কোলে নিয়ে গুনগুন করে ছড়া শোনাত। আপনি ছড়া শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেতেন। ছড়াটা শোনানো হয়েছিল, যেন আপনি ঘুমিয়ে পড়েন। এবং আপনি তাই করেছেন। জন্মের পর প্রথম হিপনোটাইজ করেছিল আমাদের পিতা-মাতা। লজিক্যালি তারাই ম্যাজিশিয়ান বা সাইকোথেরাপিস্ট।

হিপনোটাইজ করার উদ্দেশ্য কী?

আপনি যা চাইবেন, তা পেতে কাউকে মানসিকভাবে বদলে ফেলবেন। সে আপনার চাহিদামতো আচরণ করবে। এটাকেই হিপনোটাইজ করা বলা হয়। একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কীভাবে প্যারেন্টিং করা যায়। কীভাবে ভালো পিতামাতা হওয়া যায়? যেহেতু আমি সন্তানের পিতা নই, তাই এ ব্যাপারে ব্যবহারিক কিছু জানাতে পারিনি। তবে তত্ত্বীয় ব্যাপারটা জানিয়েছি।

হলিউডি মুভিতে একটা সিন বারবার রিপিট হয়। যত খারাপ পরিস্থিতিই হোক, বাবা মা তার সন্তানকে বলছে- You can make it Honey. এই বাক্যটাকে বলা হয় ম্যাজিক্যাল সেন্টেন্স। একটামাত্র বাক্য দিয়েই যেকোন মানুষকে হিপনোটাইজ করা যায় দুই সেকেন্ডে।

আপনি কাজের ছেলেটাকে বলুন, চমৎকার কাজ করছো তো, বাহ! কাজের ছেলেটা খুশি হবে। আপনি তাকে আরেকটা কাজ দিন, সে কাজ করতে হাসিমুখে চলে যাবে। আগের চাইতেও বেশি যত্ন নিয়ে কাজ করবে। অথচ সে জানতেই পারল না, কাজটা হয়তো ততটা ভাল হয়নি। আপনি হয়তো সত্য বলেন নি। সত্য-মিথ্যা মাঝেমাঝে আপেক্ষিক। অথচ আপনি তাকে দিয়ে আরো কিছু কাজ করিয়ে নিতে পারলেন। বাক্যের বিনিময়ে আপনার উদ্দেশ্য সফল।

হিউম্যান ব্রেন সমালোচনা নেবার মতো করে তৈরি হয়নি। তাকে বাধ্য হয়ে, উপায়হীন অবস্থায় সমালোচনা নিতে হয়। বাবার সমালোচনা সন্তান কিংবা শিক্ষকের সমালোচনা ছাত্র, কেউ নিতে পারে না। সমালোচনা করলেই ব্রেন উল্টো পথে হাঁটা শুরু করবে। এর ফলাফলও খারাপ হবে। সমালোচিত ব্রেন আপনাকে পাত্তাই দিবে না। অফিসের কর্মচারীকে সমালোচনা করুন, সে কোনোদিন আপনাকে ভালোবাসবে না। ভালোবেসে কাজ করবে না।

সন্তানের বয়স অল্প হলে তার ভুল হবার পর সমালোচনা করার ব্যাপারটা আরো ভয়ংকর। কারণ আপনার বাক্য নির্ধারণ করবে সেই সন্তান ভবিষ্যতে কোন পথে হাঁটবে। ভাবা যায়, শুধু বাক্য দিয়েই একটা সন্তানের ভবিষ্যত নির্ধারণ করা যায়? সন্তান অল্পবয়স্ক। এখনো পরিপূর্ন নয়। তার মস্তিষ্ক এখনো নিখুঁত কাজের জন্য তৈরি হয়নি। তার ভাবনা স্থির নয়। ল্যাবাইল। উড়নচণ্ডী। এই অবস্থায় আপনি যাই বলবেন, তার মস্তিষ্ক সেটাকে মেনে নিয়েই প্রভাবিত হবে। আপনার বাক্যের দিকে ঝুকে পড়বে। আপনি বলেছেন, হারামজাদা এটাও পারিস না? আপনার সন্তান নিজেকে হারামজাদা ভাববে। সেই সন্তান ধরেই নিবে সে আসলেই পারে না। অথবা পারলেও আপনার উপর বিরক্ত হয়ে সে আর সেই কাজটা করবে না। করলেও ভালোবেসে করবে না। বাধ্য হয়ে করলেও নিখুঁত আউটপুট দিবে না।

অন্যসকল প্রাণী অপেক্ষা মানব সন্তানের দীর্ঘ জীবন কেটে যায় পিতামাতার সাথে। একমাত্র মানুষই আমৃত্যু পিতামাতার সাথে থাকতে পারে। দীর্ঘ শৈশব-কৈশোর কেন মানুষ বাবা-মার সাথে থাকে? ব্যাপারটার একমাত্র লজিক হল- সে পৃথিবীর জন্য ফিট নয়। ফিট হতে দীর্ঘদিন লাগবে। বেশি সময় লাগে বলেই সে বেশিদিন ভুল করবে। তাই ভুলটা ধরতে হবে কম। মাথায় হাত দিয়ে সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে, আরেকটু চেষ্টা করলেই হয়ে যেত। ওয়েল ডান বাবা।

সঠিক জিনিসটা কীভাবে শেখাবেন? সঠিকটা তার সামনে আপনাকে নিজ হাতে করে পথ দেখাতে হবে। সে আগে পথটা দেখবে, এরপর সেই পথে হাঁটবে। তারপর সঠিক কাজটা করবে। গুড প্যারেন্ট হবার কৌশল খুব কঠিন নয়। সন্তানদের সমালোচনা কম করুন। সঠিক কাজটা নিজে করে দেখাতে পারেন। এরপরও সে ব্যর্থ হলে তাকে হিপনোটাইজ করুন! Tell him, ”You may fail, you may pass. Passing is good but failing isn’t bad.”

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button