মনের অন্দরমহল

আচ্ছা, আমাদের নাক এত সরু-টিকালো কেন?

আমাদের অনেকের নাকগুলো এতো চোখা চোখা আর লম্বা যে কী আর বলবো! না না, খুশি হওয়ার কিছু নেই। আমি কোন ভালো কথা বলছি না। আমাদের একটি স্বভাবের কথা বলছি। অন্যের জীবনে নাক গলাতে আমরা খুব পছন্দ করি এবং সেটাও বেশ অপ্রীতিকরভাবে!

কোন মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরু করেছে কি, শুরু হয়ে যাবে, ‘আরে তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো! ওমা, ভার্সিটিতে পড়ো, তো বিয়ে কবে করছো, আছে নাকি কেউ, আজকালকার ছেলে মেয়ে…।” কোন ছেলে সদ্য স্নাতক পাশ করেছে কি, শুনতে হবে, ‘ও বাবা, পাশ তো করলা, চাকরি খুঁজো না কেন, জানোই তো চাকরির বাজার, এভাবে বসে থাকলে তো হবে না।”

এতটুকু তাও সহ্য হয়। কিন্ত তখনই এটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে চলে যায় যখন আরো ব্যক্তিগত পর্যায়ে যায়।

বিয়ে হতে না হতেই “শ্বশুরবাড়ি ভালো তো? কে কেমন আচরণ করে বা ঠিকমতো যত্ন নেয় তো?” আর এক বছর পার হলেই “ওমা, বাচ্চা নাও না কেন! কীসের এত ক্যারিয়ার, পরে কত সমস্যা, প্ল্যানিং কি করছো!”

এই কথাগুলো প্রতিনিয়ত শুনতে হয়। যারা এই কথাগুলো বলে তারা আমাদের যে খুব আপনজন, তাও কিন্তু না! অনেকের সাথেই হয়তো বছরে একবার বা আরো সময় পর কোন অনুষ্ঠান বা উৎসবে দেখা হয়। কিন্ত তারা একবারও ভাবে না যে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, সে তার নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়, অন্য কারো সাথে প্রেমের সম্পর্ক আছে এই কারণে না; বরং তাকে তার বাবা মার স্বপ্নপূরন করতে হবে, উচ্চশিক্ষা গ্রহন করতে হবে সেই কারনে বিয়েতে এখনই আগ্রহী নয়। ভাবে না ছেলেটার আসলেই একটা চাকরী দরকার, শুধু তার পরিবারের জন্য হলেও একটা চাকরী সে পাশ করার পর থেকেই পাগলের মতো খুঁজছে, কিন্তু চাকরী পাওয়ার ব্যাপারে পরিশ্রমের সাথে ভাগ্যেরও দরকার হয়!

কিংবা মেয়েটি হয়তো তার শ্বশুরবাড়িতে সুখী নেই, কিন্ত সে সব সমস্যার সমাধান করে সব কিছু ঠিকঠাক করতে চায়; তাই এই প্রশ্ন তাকে কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দেয় না। আর এই দম্পতি হয়তো আরো কিছু দিন নিজেদেরকে সময় দিতে চায়, যাতে তাদের আর্থিক অবস্থাটা ভালো হয়, অথবা তারা হয়তো চেষ্টা করছে, ডাক্তারের কাছে যাওয়া আসা একটা নিয়মিত কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্ত কিছুতেই হয়তো কিছু হচ্ছে না। তাই, “বাচ্চা নাও না কেন’- এই মন্তব্যে গোপনে তাদের ক্ষত আরো গভীর করছে।

তাই অনুগ্রহ করে আপনার সরু, টিকালো নাক আপনার কাছেই রাখুন,আর সেটাকে মোমবাতির মতো না গলিয়ে নিজে ও অপরকে সুখে থাকতে দিন। তাদেরকে তাদের মতো বাঁচতে দিন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button