অনুপ্রেরণার গল্পগুচ্ছতারুণ্য

নিউ ইয়ার রেজোলিউশনে রাখতে পারেন একটি নিরীহ অভ্যাস!

২০১৭ এর একদম শেষ সীমানায় পৌঁছে গিয়েছি আমরা। আর মাত্র কয়টা দিন, এরপরই আমরা বরণ করে নেব নতুন বছর ২০১৮-কে। আর নতুন বছর মানেই হলো ‘নিউ ইয়ার রেজোলিউশন’, সবকিছু নতুন করে শুরু করার প্রত্যয়। প্রতি বছরের শুরুতেই আমরা নিজেদের জন্য নানা ধরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করি। এর উদ্দেশ্য থাকে অবশ্যই এটি যেন নতুন বছরটি আমাদের জন্য পূর্বতন বছরের চেয়ে অধিক ফলদাত্রী হয়, নতুন বছরে আমরা অনেক বেশি সফলতা অর্জন করতে পারি।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বছরের শুরুতে বিভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করি, এবং প্রথম প্রথম কয়েকদিন বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সেগুলো করার চেষ্টা করি। তারপর কয়েকদিন যেতে না যেতেই আমাদের সেই উৎসাহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়ে যায়। তখন আমরা ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে বলি, ‘দূর ছাই, কিসের কি নিউ ইয়ার রেজোলিউশন! এরচেয়ে যা ছিলাম তাই তো ভালো ছিলাম।’ এভাবেই আমরা আমাদের আগের রুটিনে ফিরে যাই। এতে লাভ তো কিছুই হয় না। মাঝখান দিয়ে কয়েকটা দিন নিজের ভেতরকার সত্ত্বার সাথে ক্রমশ লড়াই করতে করতে হাঁপিয়ে উঠি আমরা। আর সেই কুপ্রভাব পড়ে আমাদের শরীর ও মনে।

তাই বছরের শুরুতে নিজের জন্য কোন রেজোলিউশন ঠিক করার আগে আমাদের অনেক ভাবনাচিন্তা করে নেয়া উচিৎ। এমন কোন রেজোলিউশন ঠিক করা উচিৎ হবে না যেটা আমরা শেষ পর্যন্ত করে উঠতে পারব না। নিজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেজোলিউশন ঠিক করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন যে ব্যক্তি দিনে দুই তিন প্যাকেট সিগারেট নিঃশেষ করে দেয়, সে যদি হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেয় নতুন বছরে ধূমপান একেবারেই ছেড়ে দেবে; ভেবে দেখুন তো, তার কি আদৌ কোন সম্ভাবনা আছে এক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের? কিংবা যে ব্যক্তির বইপত্রের সাথে সুদূরতম সম্পর্কও নেই, সে যদি ভাবে নতুন বছরে অন্তত ৫০টি বই পড়বে, সে লক্ষ্যও পূরণ হবার সম্ভাবনা একেবারে শূণ্য না হলেও শূণ্যের কাছাকাছি তো বটেই।

তাহলে নতুন বছরে আমাদের রেজোলিউশন কি হতে পারে? আগেই যেমনটি বলেছি, রেজোলিউশন হতে হবে ব্যক্তির অন্তর্নিহিত সত্ত্বার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবার ক্ষেত্রে তো একই ধরণের রেজোলিউশন খাটবে না। তবে আপনার নিউ ইয়ার রেজোলিউশনের তালিকায় চাইলেই এমন একটি জিনিস রাখতে পারেন যেটি সার্বজনীনভাবে সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, সকলের জন্যই সেটি মেনে চলা সম্ভব, এবং সবচেয়ে বড় কথা, যেটি মেনে চলতে বিশেষ কোন পরিশ্রমও করতে হবে না!

কী সেটি? সেটি হলো বেশি বেশি পানি পান করা, এবং অন্তত টানা নয়টি দিন সব ধরণের পানীয় ত্যাগ করে শুধু পানি পান করা। ভাবছেন কী হবে এতে? আপনাদের সামনে এখন আমরা তুলে ধরব টানা নয়দিন অন্য সব ধরণের পানীয় (এমনকি চা-কফিও) বর্জন করে শুধু পানি পান করলে কী কী উপকার পেতে পারেন।

* টানা ৯ দিন যদি আপনি শুধু পানি পান করেন, এবং অন্য কোন পানীয় স্পর্শ না করেন, তবে আপনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওজন কমাতে সক্ষম হবেন। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কতটুকু ওজন কমবে এতে? এই কাজের মাধ্যমে আপনি আপনার শরীর থেকে ঠিক ততটুকু ক্যালরি ঝেড়ে ফেলতে পারবেন, যেটি আপনি করেন দৈনিক ৮ কিলোমিটার জগিং করে!

* বেশি বেশি পানি পানের ফলে আপনার শরীরের মেটাবলিজমের মাত্রাও দ্রুত হবে, যার ফলে আপনার শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিদিন সকালে উঠে যদি আপনি স্রেফ ১৭ ফ্লুইড আউন্স বা ৫০২.৭৫ মিলিমিটার পানি পান করেন, তার মাধ্যমে আপনার শরীরে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পাবে ৪২%।

* বেশি বেশি পানি পান আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের মস্তিষ্কের শতকরা ৭৫ থেকে ৮৫ ভাগই থাকে পানি দ্বারা পূর্ণ। তাই যত বেশি পানি পান করবেন, আপনার মস্তিষ্ক তত বেশি কাজ করার মত জ্বালানি পাবে। আর এর ফলে একাধারে আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে, মাথাব্যথা দূর হবে, মনোযোগ বাড়বে, ঘুমজনিত প্রায় সকল সমস্যা দূরীভূত হবে।

* সারাদিন যদি পানি ব্যতীত অন্য আর কোন পানীয়ের দ্বারস্থ না হন, তবে নিশ্চিতভাবেই আপনি ওই দিনটি অপেক্ষাকৃত অনেক কম খাদ্য গ্রহণ করেও সমান সক্ষমতার সাথে অতিবাহিত করতে পারবেন। কেননা অন্যান্য পানীয় যেখানে শরীরে ক্ষুধাভাব বৃদ্ধি করে, সেখানে শুধু পানি পানে ক্ষুধাভাব দূর হয়। ফলে শরীরের সচলতার জন্য যতটুকু খাদ্য প্রয়োজন, ততটুকু খেয়েই খাদ্য গ্রহণের প্রবৃত্তি দূর হয়। আর তাই বেশি খেয়ে ফেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার যে আশংকা, সেটিও আর থাকে না।

* শরীরে যদি স্বচ্ছ পানি ব্যতীত অন্য কোন তরল প্রবেশ না করে, তবে শরীরস্থ অঙ্গানুসমূহ অনেক দ্রুত ও বেশি পরিমাণে বর্জ্য নিষ্কাষণ করতে পারে। এর ফলে অল্প বয়সেই বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দূর হয়। শরীরের মধ্যেও কোন ক্ষতিকর ময়লা-আবর্জনা বাসা বাঁধতে পারে না।

* বেশি বেশি পানি পানের ফলে হৃদযন্ত্রও আগের থেকে অনেক বেশি সচল হয়। দিনে যদি অন্তত পাঁচ গ্লাস পানিও পান করা যায়, তাতেই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে যায় অন্তত ৪১%।

* পানি পান শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও অনেক বেশি সহায়ক। যত বেশি পান পান করবেন, ত্বক তত বেশি কোমল ও পরিষ্কার হবে। ফলে ত্বক আগের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বলতাও ছড়াবে। বছরের পর বছর ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করেও ত্বকের রঙ বা বর্ণ প্রকৃতরূপে যতটা না উজ্জ্বল হবে, তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি হবে স্রেফ কয়েকটা দিন আর সব পানীয় বাদ দিয়ে কেবল পানি পান করতে থাকলে। এছাড়া অধিক পানি পানের ফলে চুলের কোষও ভেতর থেকে শক্ত ও মজবুত হয়, চুল পড়া কমে।

* এবং সর্বোপরি আপনি যদি অন্য সব পানীয় ত্যাগ করে শুধু পানি পানেই ব্রতী হন, তবে আপনার খরচও কমে যাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। দুনিয়ায় যত ধরণের পানীয় আছে, তার মধ্যে খাবার পানির দামই সবচেয়ে কম, তাই না?

তাহলে, হরেক রকমের নিউ ইয়ার রেজোলিউশনের ভিড়ে অন্য সব পানীয় বর্জন করে শুধু পানি পান করার মত আপাত নিরীহদর্শন কিন্তু অতিমাত্রায় কার্যকরী অভ্যাসটিকে ঠাঁই দিচ্ছেন তো?

ছবি- Forbes.com 

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button