রিডিং রুমলেখালেখি

আকাশ থেকে ঢাকা শহর দেখে মুগ্ধ হলেন ইবনে বতুতা!

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কথা শুনে ধড়ফড় করে ঘুম ভাঙলো ইবনে বতুতার৷ হাছান মাহমুদ বলেছেন, “শেখ হাসিনার জাদুকরি নেতৃত্বে দেশ বদলে গেছে বাংলাদেশ। হাতিরঝিলে গেলে মনে হয়, প্যারিস শহরের কোনো অংশে এসেছি।
আকাশ থেকে ঢাকা শহরকে লস অ্যাঞ্জেলেস মনে হয়। কুড়িল ফ্লাইওভার দেখলে মনে হয় এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য।”

এইটুকু শুনেই শিহরিত হয়ে গেলেন ইবনে বতুতা। তিনি এই বঙ্গ জনপদে সফর করতে এসেছিলেন ১৩৪৬ সালে। তারপর কত জল, কত মল বুড়িগঙ্গায় ভেসে গেল। এই বাংলায় আবার তার ফিরে আসতে মন চায়। চায় একটু বিটিভির খবর শুনে মনটা প্রশান্তিতে ভরে তুলতে৷ কিন্তু ফিরতে চাইলে ফেরা যায় নাকি! সামনে আবার ভালবাসা দিবস। ইবনে বতুতা তার প্রেমিকাকে কথা দিয়েছিলেন, প্যারিসে নিয়ে যাবেন।

কিন্তু, বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রীর কথা শুনে ইবনে বতুতা থমকে দাঁড়ালেন। টেবিলের উপরে কিল দিয়ে জোরে চিৎকার করে বললেন, ইয়েস! তার প্রেমিকা এসে জিজ্ঞেস করলো, কি হয়েছে? ইবনে বতুতা হাউমাউ করে হাসতে হাসতে প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর বুঝিয়ে বললেন, প্যারিসে কি আছে দেখার মতো? লস অ্যাঞ্জেলেসে কি আছে? তোমারে আমি এমন এক জায়গায় নিয়া যাব, যেখানে আকাশ থেকেই তুমি প্যারিস, লস অ্যাঞ্জেলেস দুইটাই একসাথে দেখতে পারবা!

ইবনে বতুতার তার প্রেমিকার বাহু জড়িয়ে ভালোবাসা দিবসে আকাশ থেকে হাতিরঝিলের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছেন। তার প্রেমিকা শিশুদের মতো গদগদ আহ্লাদী হয়ে ইবনে বতুতাকে চুমু খেল, আর বলতে লাগল, এটা তো প্যারিসের চেয়েও সুন্দর! ইবনে বতুতা বললো, আসো ঘুরাই। তারা আকাশে একটু ঘুরতে ঘুরতে লক্ষ্য করলো, মিরপুরের জ্যাম। আকাশ থেকে এটা দেখে ইবনে বতুতা বললো, এটা হলো লস অ্যাঞ্জেলেস, সুন্দর না?

প্রেমিকা আবারো একটা চুমু দিতে নিতেই বতুতা বললো, সব একেবারে দিও। আগে একটা সিনেমা দেখে আসি চলো। তারা ভাসাও সার্ভিসে করে আকাশে ভাসতে ভাসতে গেল কুড়িলের দিকে। ইবনে বতুতা বললো, ‘দেখো সিনেমা চলতেসে’। কুড়িল ফ্লাইওভারে গিয়ে প্রেমিকা একটু মন খারাপ করলো। বললো, সিনেমা তো আগেই শুরু হয়ে গেছে। আরেকটু আগে কেন নিয়ে এলেনা! তারা কুড়িল ফ্লাইওভারে সিনেমার দৃশ্য দেখতে লাগলো মন ভরে।

ইবনে বতুতা স্মৃতিকাতর হয়ে গেলেন। এলেন শাহবাগে। শাকুরা বারকে আকাশ থেকে তাদের মনে হলো, লাস ভেগাস। ঢাকা মেডিক্যালকে তারা মনে করলেন, মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল। বুড়িগঙ্গার ধারে গিয়ে তো বতুতার প্রেমিকা মূর্ছা যায় যায় অবস্থা। বলে, এটা তো লন্ডনের টেমস নদীর মতো পুরাই!

কড়াইল বস্তির ওদিকটায় গিয়ে ইবনে বতুতার প্রেমিকা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কোন জায়গা? ইবনে বতুতা বললেন, এটা ইউরোপ। সুখী মানুষরা এখানে বসবাস করে। প্রেমিকা বললো, এখানে তাহলে মাঝে মধ্যে আগুন লাগে কেন? বতুতা জবাব দিলেন, এগুলা কিছু না। ওরা ফায়ারওয়ার্কস করে।

ঢাকার ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানুষের ঝুপড়ি ঘরে জ্বলা আলো দেখে ইবনে বতুতার মনে হলো, মিটি মিটি তারা। সে তারাগুলোর দিকে আঙুল দিয়ে প্রেমিকাকে শুনিয়ে গান গাইলো, আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব, তুমি আমার। প্রেমিকা ইবনে বতুতার রোমান্টিকতায় খুশি হয়ে গেল।

তারা সারারাত ধরে আকাশে ভেসে বাংলাদেশ দেখে নিশ্চিত হলেন, আকাশ থেকে দেখলে বাংলাদেশকে ইউরোপ, আমেরিকার চেয়েও বেশি সুন্দর মনে হয়। তিনি মনে মনে ধন্যবাদ দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে, বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে। এমন তথ্য তিনি না দিলে জীবন ষোল আনাই বৃথা হয়ে থাকত ইবনে বতুতার। তিনি ঠিক করলেন, তিনি একটা বই লিখবেন। সারাজীবন কত কিছু ঘুরে দেখলেন, কিন্তু আকাশ থেকে বাংলাদেশ দেখার পর বাকি সব কিছুকে তার তুচ্ছ মনে হয়। ইবনে বতুতার জীবনে আর কোনো অপূর্ণতা নেই। কম খরচে প্যারিস, লস অ্যাঞ্জেলেস দেখে এখন তিনি বিটিভি চালু করে কম ঝামেলায় সুখের খবরে ডুবে থাকবেন, তার বাহুতে থাকবে প্রিয়তমা প্রেমিকা..

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button