এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

যেভাবে মানুষের ডিএনএতে খোদাই হলো জন্মদাতা হত্যার পাপের দাগ!

মানবজাতির সভ্য হবার ইতিহাস বড়ই অসভ্য ধরণের। মানুষ প্রথম হত্যা করে নিজের পিতা ও মাতাকে। কীভাবে? কয়েক লাইনে ব্যাখ্যা করছি।

আদিম যুগগুলোতে সন্তান জন্মের পর সবাই খুশি হত। সন্তান বড় হতো ধীরে ধীরে। বাড়ন্ত সন্তানের দিকে তাকিয়ে পিতা মাতার ভয় বাড়তে শুরু করত। কারণ মানুষ তখনও যাযাবর, স্থায়ী আবাস শুরু করেনি। আজ এখানে তো আগামীকাল দূরে কোথাও তাদের যেতে হচ্ছে। কোথাও স্থির হয়ে যাওয়া মানেই নির্ঘাত মৃত্যু। একটি বৃহৎ অঞ্চলে একই সাথে হোমো সেপিয়েন্সদের (মানুষ) অনেকগুলো গোত্র চলাফেরা করছে, শিকার করছে, খাচ্ছে। অন্য গোত্রের সেপিয়েন্সদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকছে। সেপিয়েন্সদের পাশাপাশি নিয়েনডারথাল, ইরেক্টার, ডেসিনোভানরাও ঘুরে বেড়াচ্ছে যাযাবরের মত। দুটো প্রজাতি একই সাথে হলে পরস্পরকে খাদ্যের জন্য আক্রমণ করত, বয়ে যেত রক্তগঙ্গা। চলার পথে পিছিয়ে পড়া যাবে না, দলবদ্ধ হয়ে একতালে এগিয়ে যেতে হবে। কেউ বৃদ্ধ হলে, অসুস্থ হলে দলের গতি কমে যেত। তখন তাকে সাহায্য না করে দলের বোঝা হিসেবে ভাবা হত। ফলে বোঝা নামিয়ে দেবার জন্য দলে জন্ম নিত ‘মার্ডারার বিহাইন্ড দ্যা হেড’।

দলের মাঝে মার্ডারার হিসেবে নির্ধারণ করা হতো কয়েকজনকে। তারা নিঃশব্দে দলের পেছনে চলে আসত। দূর্বল হয়ে যাওয়া, অসুস্থ কিংবা শিকারের আক্রমনে যারা হাত-পা হারিয়েছে, তাদের পেছনে চলে যেত মার্ডারাররা। এরপর ভারী কোন বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে মেরে ফেলা হতো। সেপিয়েন্সদের (মানুষ) অনেকগুলো ফসিল পাওয়া গেছে যেখানে মাথার পছনে আঘাতের চিহ্ন, খুলি ফেঁটে যাবার চিহ্ন স্পষ্ট। অথচ শরীরের অন্য কোথাও কিংবা মাথার সামনে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। যে পিতা জন্ম দিত সন্তানের, যে মাতা দুগ্ধ পান করিয়ে বড় করত, সেই সন্তান একদিন তারই পিতা কিংবা মাতাকে মাথায় আঘাত করে মেরে ফেলত। রেখে যেত মাটি চাপা দিয়ে।

চলার পথ লিনিয়ার হওয়ায় ঐ দল আর কখনোই আগের জায়গায় ফিরত না। কখনোই মৃত পিতা মাতার কবরে তাদের ফিরে আসার সুযোগ ছিল না। মানুষের দল এগোতে থাকে। বয়স বাড়ে। একসময় হত্যাকারী যুবকও সন্তানের পিতা হয়। কালের স্রোতে একদিন বৃদ্ধ হয়, অসুস্থ হয়। তাকে হত্যা করে তারই সন্তান। এভাবেই মানুষ ধীরে ধীরে মহাকালের পথ পাড়ি দিতে থাকে। সংখ্যা বাড়তে থাকে, সভ্য হতে থাকে। কিন্তু তাদের ডিএনএ তে পাকাপাকিভাবে খোদাই হয়ে যায় জন্মদাতা হত্যার পাপের দাগ।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button