ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

‘বাবা’ নামধারী এমন কুলাঙ্গারের জন্যে হারকিউলিসকেই দরকার!

কমিক্স বইতে কতশত সুপারহিরোই তো আছে, তারা এখন সিনেমার পর্দায়ও বিচরণ করেন। সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, আয়রনম্যান থেকে শুরু করে হাল আমলের অ্যাকুয়াম্যান- নাম বলে শেষ করা যাবে না। কিন্ত একটা মেয়ের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুপারহিরোর নাম কি জানেন? তার বাবা! সেই বাবার হাতে যখন একটা বাচ্চা মেয়ের ধর্ষণের খবর শুনি, তখন মানবতা, মনুষ্যত্ব, পিতৃত্ব- এসব শব্দের ওপর থেকে ভরসা উঠে যেতে চায়। মানুষ এত জঘণ্য, এত নিকৃষ্ট, এতটা বিকৃতমনস্ক কিভাবে হতে পারে সেটা ভেবে পাই না! এরকম অমানুষ পার্ভার্ট দু-চারজন আমাদের আশেপাশেই ঘাপটি মেরে আছে, হয়তো আমরা তাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথাও বলি, হাত মেলাই, কিন্ত জানিনা তাদের এই কুৎসিৎ চেহারাটা- এরকমটা ভাবলে চারপাশের পরিবেশটা আরও বেশি অসুস্থ মনে হয়!

নিজের দশ বছর বয়েসি কন্যাকে ধর্ষণ করেছেন এক পিতা- এরকম একটা খবর আমরা জানতে পেরেছি গতকাল। রমনা থানায় সাহেদুল্লাহ চিশতী নামের সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা। আড়াই বছর আগে তাদের আইনগতভাবে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় থাকতেন সেই ভদ্রমহিলা। আর শিশুটির বাবা সাহেদুল্লাহ চিশতীর বাস খিলগাঁতে। তাদের দুই সন্তান। তালাকের পর প্রায় ৬ মাস বাবার কাছে ছিল শিশু দুটি। পরে মায়ের জিম্মায় যায় তারা।

ধর্ষণ, ধর্ষণের শাস্তি

মায়ের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে বাবা সাহেদুল্লাহ শিশুটিকে বাসা থেকে গাড়িতে করে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে দুপুরে শিশুটি একাই স্কুল থেকে বাসায় আসে। বাসায় এসে সে জানায় তার পেট ব্যাথা করছে। কারণ জানতে চাইলে বাবাকে কিছু না বলার শর্তে মাকে জানায়, রাস্তায় গাড়ির মধ্যে বাবা তাকে নির্যাতন করেছে। এর আগেও বাসায় একাধিকবার শিশুটির সঙ্গে বাবা একই কাজ করেছে বলেও সে মাকে জানায়। সাংবাদিকদের শিশুটির মা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন যে শিশুটি ধর্ষণের শিকার এবং এটিই প্রথমবার নয়!

তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তিনি দাবী করেছেন, তালাকের আগে থেকেই তার সাবেক স্ত্রীর(শিশুটির মা) সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল, এবং স্ত্রীই তাকে তালাক দিয়েছিলেন। এর আগেও স্ত্রী তার নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বলেও দাবী করেন সাহেদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি আমার মেয়ের শরীরে ধর্ষনের আলামত মিলেছে। কে আমার মেয়ের এমন সর্বনাশ করেছে? তার বিচার চাই। মেয়ের মা অন্য কাউকে দিয়ে খারাপ কাজ করিয়ে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে।’ বিষয়টি তদন্ত করে দেখতেও সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করেন তিনি। এছাড়া দুই সন্তানকে নিজের জিম্মায় পেতে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান সাহেদুল্লাহ। আর এই খবর পেয়েই তার সাবেক স্ত্রী এসব অভিযোগ দিচ্ছেন বলেও দাবি তার।

শিশুর যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে করণীয়, শিশু যৌন নিপীড়ন, বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন ডাক্তারেরা। বেশ কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হয়েছে বলে ডাক্তারেরা জানিয়েছেন, সেগুলোর ফলাফল হাতে এলেই জানা যাবে, আসলে কি ঘটেছিল শিশুটির সঙ্গে। রাতে রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে, শিশুটির মা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ধর্ষণের প্রমাণপত্র পাওয়া গেছে। ওই প্রমাণপত্র পাওয়ার পরই মামলা করা হয়েছে। শিশুটির বাবা সাহেদুল্লাহ, যার বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, তিনি একটি সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা বলে জানা গেছে, তাকে এখনও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

একটা ভিডিওতে দেখা গেছে, সাংবাদিকদের সামনে বাচ্চাটার স্থপতি মা কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, বিয়ের পরে তাকে নির্যাতন করা হত নিয়মিত, তারপর কাজের মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা যখন ঘটলো, তারপরেই তিনি এই স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন। আজ ডাক্তার জানিয়েছেন যে এই লোকটাই তার মেয়েকে বহুদিন ধরেই ধর্ষণ করে আসছে, আর এই ঘটনার সাক্ষী তার ছেলে, বাচ্চা মেয়েটার ভাই!

নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় অনেক আগেই নাকি জিডি করেছিলেন এই নারী, কিন্তু তার কথানুযায়ী এই তার সাবেক স্বামী রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার হওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ভিডিওতে তিনি দুটো থানার নাম বলেছেন। এখন আমরা কি এই প্রশ্ন তুলতে পারি, কেন একজন মায়ের আকুতিকে এই দুই থানার পুলিশ গ্রাহ্য করলো না? অপরাধী বা অভিযুক্ত প্রভাবশালী হলে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হবে, এমনটা কি বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও লেখা আছে?

শিশুর যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে করণীয়, শিশু যৌন নিপীড়ন, বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন

এই মায়ের কান্না, নিজের সন্তানকে নিয়ে বলা তার কথাগুলো, বা সন্তানের বাবার বিরুদ্ধে তার অভিযোগ- এগুলো কতখানি সত্যি আমরা জানি না। কিন্ত সুষ্ঠু তদন্ত পাবার অধিকার সবার আছে, সেই তদন্ত করা হোক অবিলম্বে। অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্তই হবে না, থানায় মামলা নেয়া হবে না- এসব মধ্যযুগীয় নিদর্শন আমরা দেখতে চাই না।

গাজীপুরের হজরত আলী তার কিশোরী কন্যার ধর্ষণের ঘটনার বিচার না পেয়ে ক্ষোভে-দুঃখে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। আর এখানে আমরা বাবার হাতে মেয়ের ধর্ষিতা হবার খবির শুনছি! সত্যিই, মানুষ কত বিচিত্র হয়! এই মায়ের অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণীত হয়, তাহলে অপরাধীর জেল-জরিমানা-ফাঁসিও চাই না। শুধু চাই, যে হারকিউলিস একে একে ধর্ষকদের হত্যা করছে, তার সুদৃষ্টি যেন বাবা নামধারী এই কুলাঙ্গারের ওপরে পড়ে। নিজের কন্যা সন্তানের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতে পারে, এরকম মানুষের বেঁচে থাকার কোন অধিকারই নেই!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button