টেকি দুনিয়ার টুকিটাকি

‘ক্যাট ফিল্টার’ চালু রেখেই ফেসবুক লাইভে, বিড়ালমুখী পাকি নেতাকে নিয়ে হাসাহাসি!

আগের দিন পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে শোরগোল চলছিলো৷ SCO সামিটের উদ্ভোধনীতে প্রটোকল অনুসারে সব নেতার কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর্ব ছিল। বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতা ঠিকই দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু অতি বুদ্ধিমান ইমরান খান শুধু তার নাম এনাউন্স হওয়ার সময় একটু দাঁড়িয়ে টুক করে বসে পড়েন। অথচ, বাকি সবাই ঠিকই দাঁড়িয়ে ছিলেন তখনো। ইমরান খানের এই বোকামি কান্ডে হাসাহাসি হচ্ছিলো খুব।

কিন্তু, দেশটা পাকিস্থান বলেই অবিরত বিনোদনের উৎস এখানটায় সবসময়ই পাওয়া যায়। ইমরানের খানের চেয়েও বড় হাস্যকর রুপে হাজির হয়ে হাসির খোরাক জুগিয়েছে আরেক প্রাদেশিক নেতা শওকত ইউসুফজাই। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় প্রাদেশিক সরকারের বৈঠক হলো। বৈঠকের শেষে তারা লাইভ কনফারেন্স আয়োজন করলো। কিন্তু, ফেসবুক লাইভ শুরু হওয়ার পর লোকে হাসতে হাসতে কাঁদার দশা। এটা কোন নেতা আবার, বিড়ালমুখী চেহারায়! বিড়ালের দুইটা কান, গোঁফ ঝুলছে মনুষ্য চেহারার উপরে। ফেসবুক লাইভে শওকত ইউসুফজাই কথা বলছে কিন্তু লোকে দেখতে পেলো, একটা বিড়ালের মাথা বকবক করছে। কারন, লাইভ শুরু হতেই ক্যাট ফিল্টারটাও চালু হয়ে গিয়েছিলো। এটা তারা ধরতেই পারেননি। ফলে, গোটা লাইভে নেতার চেহারায় ঘুরেছে বিড়ালের ফিল্টার।

ক্যাট ফিল্টার, পাকিস্থানি নেতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে টুইটে টুইটে মানুষ একদম ধুঁয়ে দিয়েছে এই ফেসবুক লাইভে। যে জিনিসের ব্যবহার ঠিকমতো জানা নেই, সেটা ব্যবহার করতে গিয়ে হাসি তামাশার পাত্র হওয়াটা অবশ্য পাকিস্তানিদের পক্ষে অস্বাভাবিক নয়। তাদের চামড়াও এত মোটা, মানুষ যতই হাসুক যতই সমালোচনা করুক সেটা গায়ে লাগবে না। আর তারা বোধহয় লোক হাসানোটাকেই প্রধান দায়িত্ব হিসেবে সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছে। গত ভ্যালেন্টাইন ডে’র কথাই মনে করিয়ে দিই।

১৪ই ফেব্রুয়ারীকে ‘বোন দিবস’ বা ‘সিস্টার্স ডে’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়! তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী-পুরুষের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার কোন স্থান নেই, এখানে সবাই ভালো-বোনের মতো। আর তাই তারা এই দিনটাকে বোন দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। কি যুগান্তকারী আইডিয়া গো!

এরকম যুগান্তকারী বলদ আইডিয়ার পাশাপাশি তারা বর্বর আইডিয়াও বের করে মাঝে মধ্যে। যেমন দুই বছর আগে একবার মুজাফফরাবাদের এক গ্রামে ধর্ষণের বদলে ধর্ষণ এটাই শিরোধার্য করেছিল। ঘটনাটা এরকম, আসফাক নামের এক তরুণের কিশোরী বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল উমর ওয়াদ্দারের বিরুদ্ধে। গ্রাম পরিষদের কানে গেলে তারা বিচার বসায়। উমরের শাস্তির জন্য এক নতুন বিধান দেয় তারা। যে ছেলেটার বোন ধর্ষিত হয়েছে অভিযোগ সেই আসফাককে তারা হুকুম দেওয়া হয়, পরিবারের সকলের সামনেই উমরের ১৬-১৭ বছর বয়সী নাবালিকা বোনকে ধর্ষণ করতে হবে! ধর্ষণ তাদের কত প্রিয় কাজ সেটা তো একাত্তরেই তারা এইদেশে দেখিয়ে গেছে। এরকম বর্বরতা ও একই সাথে বলদামি পাকিস্থানিদের পক্ষেই কেবল সম্ভব। আনপ্রেডিক্টেবল কান্ট্রি বলে কথা!

cat filter, ক্যাট ফিল্টার
Image source – Twitter

এবার, অবশ্য বলদামি দিয়েই তারা শিরোনামে এসেছে। ক্যাট ফিল্টার মেখে বিড়াল হওয়ার নেতা বিনোদনের ফেরিওয়ালা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অনলাইনে। অবশ্য, পরে ভুলটা কোথায় হয়েছে বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি করে পেজ থেকে লাইভ সরিয়ে নিয়েছিল তারা। কিন্তু তাতে কি! ততক্ষণে এই ফেসবুক লাইভ অনলাইনে ছড়িয়ে গেছে। ফেসবুক লাইভ সরিয়ে মানসম্মান বাঁচানোর চেষ্টাটা তাই ভন্ডুল হয়ে গেল। পাকিস্থানি নেতারা বোধহয় জানেন না, এই ভিডিও ইন্টারনেটের কোথাও না কোথাও ঠিকই থেকে যাবে। গর্তে মুখ লুকিয়ে কেউ আমাকে দেখেনি এই ভাবটা তাই অন্তত এক্ষেত্রে কাজে আসবে না। অবশ্য, নেতা যখন পাকি, তখন জুতা দিয়ে পিটালেও মানসম্মান যায় নাকি!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button