ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

বহিরাগত হয়ে বুয়েট র‍্যাগ কনসার্টে কেন যেতেই হবে?

বুয়েটের র‍্যাগ কনসার্টে ১৩ তারিখ রাতে কিছু সময় কাটিয়ে এসেছি। তাদের র‍্যাগ কনসার্টের কালচারটার প্রতি একটু আগ্রহ ছিল। শুধু দেখার ইচ্ছা ছিল, ওরা কিভাবে উদযাপন করে! খুবই দুর্দান্ত বুয়েটের মানুষজন। কেউ গায়ে পড়ে গ্যাঞ্জাম বাঁধাতে না চাইলে এখানে গ্যাঞ্জাম করার মতো কোনো ঘটনা ঘটবার কথা না।

বুয়েটের র‍্যাগ কনসার্ট ‘রেস্ট্রিক্টেড’। এখানে বহিরাগত হিসেবে আমার প্রবেশ করাই উচিত না। তবুও বুয়েটের এক ভাইবন্ধুকে নিজ থেকে আগ্রহ জানিয়েছিলাম, যাব দেখার জন্যে। কনসার্ট দেখাটা মূল ব্যাপার না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইভেন্ট থাকে৷ লাফাতে চাইলে সারাদিন নিজের ক্যাম্পাসে লাফানোর অনেক সুযোগ আছে সবার জন্যে। শুধু বুয়েটের কালচারটা দেখার জন্য গিয়েছি। রেস্ট্রিকশন থাকাটা অযৌক্তিক না।

বুয়েটে প্রায় সারারাত র‍্যাগ কনসার্ট হয়৷ এখানে অল্প জায়গায় বিশাল এরেঞ্জমেন্ট। এখানে রেস্ট্রিকশন না রাখলে কি অবস্থা হবে তা সহজে বোঝা যায়। সবাই ধোঁয়া তুলসি পাতা না। বহিরাগত কারো দ্বারা এখানে কেউ আক্রান্ত হলে, কোনো নারী নিপীড়িত হলে সেই দায় কে নেবে! তাই বহিরাগত হিসেবে বুয়েটের গেটে যদি রেফারেন্স চাওয়া হয় সেটা কি অযৌক্তিক?

গতকাল র‍্যাগ কনসার্টের দ্বিতীয় রাতে বুয়েট প্রবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো কারো সাথে ঝামেলা হয়েছে। দলছুট মঞ্চে থাকা অবস্থায়ও মঞ্চ থেকেও নাকি অনুরোধ আসে শান্ত হবার, এরপর ভাঙচুরের কিছু ছবিও দেখা যাচ্ছে৷ ভিডিও দেখলাম একটা, তারা গেটের বাইরে কেমন আক্রমণাত্মক আচরণ দেখিয়েছে, তা দেখা যাচ্ছে! এরা সবাই ঢাবির ছাত্র হয়ে থাকলে, এরা সবাই-ই ঢাবির লজ্জা।

বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এখানে আত্মপক্ষ সমর্থন করে কথা বলারই কিছু নাই৷ শাক দিয়ে মাছ ঢাকারও কিছু নাই। এসব গ্যাঞ্জামে উৎসাহী কারা, কাদের মধ্যরাতেও রক্ত গরম থাকে এটা বোঝা কঠিন না। বুয়েটের কেউ মুখের উপর যদি বলেও ফেলে, এখানে প্রবেশ নিষেধ, তার জন্যেও ঝামেলা করার অধিকার নাই। নিজে দেখছি বলেই মনে হয়েছে, এইটুকু জায়গার মধ্যে এই মাপের আয়োজন ঠিকঠাকভাবে করার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা দরকার! তারা তাদের কাজটুকুই করেছে।

নিজের ক্যাম্পাসে টিএসসি বর্গা দিয়ে রাখা হয় অমুক তমুককে। কোনো কোনো দিন গেটলক সার্ভিস দিয়ে ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েদেরই প্রবেশ সীমিত করে দেয়া হয়। এগুলো নিয়ে কথা বলা উচিত। বইমেলার জন্য টিএসসির চায়ের দোকানগুলো মনে হয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ে কারো কথা নেই, যত বাহাদুরি সব বাইরে গিয়ে! বুয়েটে গিয়ে এইসব ঘটনা ঘটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নষ্ট না করলে এদের কি চলত না?

বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করছি। যে বা যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত তাদের লজ্জা আমাদেরও এড়ানোর সুযোগ নেই। কনসার্টে আসতে চাওয়া দোষের কিছু না। কিন্তু, সেটার এপ্রোচ ভাল হতে হবে। আপনি গিয়ে ভাংচুর করবেন সেটা কেমন আচরণ? বুয়েট আমাদের প্রতিবেশি বিশ্ববিদ্যালয়। স্কুলের একই ক্লাসের দুই বন্ধুই হয়ত ভবিষ্যতে গিয়ে একজন বুয়েটে যায়, একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই আমাদের মধ্যে সেই সংহতি থাকা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আরো দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য। কারণ, আমাদের আচরণ আমাদের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় সবকিছুকেই প্রতিনিধিত্ব করে। ব্যাপারগুলো মাথায় রাখা প্রয়োজন। বুয়েট-ঢাবি ভাই-ভাই সম্পর্ক টিকে থাকুক, মানবিক সম্পর্কের জায়গাটুকু সবার আগে বিবেচ্য হোক!

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Back to top button