বুক রিভিউরিডিং রুম

তিন তরুণের দ্বিতীয় ইনিংস!

পাঠকেরা আমাদের প্রায়ই অনুরোধ করেন, বইমেলায় প্রকাশিত ভালো বইগুলোর নাম এবং রিভিউ দেয়ার জন্যে। একুশে বইমেলার বয়স এখনও এক সপ্তাহও হয়নি, এখনই ‘ভালো বইয়ের সাজেশান’ কিংবা ‘বইয়ের রিভিউ’ দেয়াটা একটু কঠিণই। তবুও আপনাদের আজ তিন তরুণ লেখকের তিনটে বই সম্পর্কে জানাবো, যেগুলো হয়তো খানিকটা হলেও ভাবতে বাধ্য করবে পাঠক হৃদয়কে, ব্যস্ত জীবনে দমবদ্ধ অনুভূতিকে যে বইগুলো হয়তো খানিকটা দোলা দিয়ে যাবে।

এখানে বলে রাখা ভালো, এই লেখকদের সবাইকেই হয়তো আপনারা চিনবেন, অন্তত এগিয়ে চলোর নিয়মিত পাঠক হয়ে থাকলে তাদের লেখা আপনি পড়েছেন কখনও না কখনও। তারা তিনজনই বয়সে তরুণ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তিনজনের কেউই পেশাদার লেখক নন, লেখালেখিটা তাদের কাছে নেশা। কেউ শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, আবার কেউবা মার্চেন্ট মেরিন অফিসার। হাজারটা ব্যস্ততাকে সামলে, বাস্তবতার কঠোর জমিনের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের ভালোবাসার জায়গা লেখালেখিটাকে ধরে রেখেছেন তারা, পাঠকের জন্যে উজাড় করে দিয়েছেন আপন স্বত্বাকে। নিজেদের দ্বিতীয় বই নিয়ে এবারের বইমেলায় পাঠকদের সামনে হাজির হয়েছেন তারা। চলুন তাহলে, সেই বইগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়া যাক।

‘সিনেমামা’ এবং সৈয়দ নাজমুস সাকিব:

এই মানুষটাকে মোটামুটি সবাই চেনেন। নাম শুনে চিনতে না পারলেও নিশ্চিত থাকুন, তার লেখা আপনি পড়েছেন, অথবা তার কণ্ঠ শুনেছেন। তার পরিচয় হিসেবে এটুকুই বলা যায়, তিনি একজন সিনেমা ফ্রিক! তিনি সিনেমা খান, সিনেমা পান করেন, রাতের বেলা শোয়ার সময় সিনেমা গায়ে জড়িয়ে ঘুমান। বইমেলা-২০১৭ তে প্রকাশিত হয়েছিল তার প্রথম বই সিনেম্যান, আর মাঝে এক বছর বিরতি দিয়ে এবার তিনি নিয়ে এসেছেন ‘সিনেমামা’। দুটি বইয়ের বিষয়বস্তুই যে সিনেমা নিয়ে, সেটা তো আর আলাদা করে বলা লাগবে না।

বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটা একটা সময়ে আরজে হিসেবে কাজ করতেন, এখনও মাঝেমধ্যে রেডিওতে শোনা যায় তার ভরাট কণ্ঠস্বর। তবে আপাতত তিনি ‘ফুলটাইম শিক্ষক’, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ভীষণ প্রিয় একজন মানুষ। কলেজের ক্লাস, পরীক্ষার খাতা দেখা, সিনেমা খাওয়া এবং সিনেমা নিয়ে কাজ করা- এরকম হাজারো ব্যস্ততা সামলে তিনি ‘সিনেমামা’ লিখে ফেলেছেন। সেখানে সিনেমার অন্দরমহলের গল্প থাকছে, থাকছে মুভি রিভিউ এবং সিনেমার কিছু টেকনিক্যাল ইস্যু সম্পর্কিত লেখাও। বলিউডের প্রয়াত তারকা শ্রীদেবীকে নিয়ে যে লেখাটা সৈয়দ নাজমুস সাকিব তার ‘সিনেমামা’য় লিখেছেন, বাংলা ভাষায় শ্রীদেবীর ওপরে এতটা তথ্যবহুল লেখা আর কেউ লিখেছেন কিনা আমাদের জানা নেই।

সিনেমা ভালোবেসে থাকলে ‘সিনেমামা’ অবশ্যপাঠ্য একটা বই। আমাদের দেশে সিনেমাটা অনেকের কাছে শুধু বিনোদনের একটা ব্যাপার, টাইম পাসের অংশ। কিন্ত সিনেমারও যে অন্যরকম একটা জীবন আছে, সিনেমা নিয়েও যে গভীরভাবে ভাবা যায়, সেটা অনেকেই বোঝেন না। ‘সিনেমামা’ অন্যরকম একটা ভূবনের সন্ধানই দিতে পারে আপনাকে। বইমেলায় রোদেলা প্রকাশনী(স্টল নম্বর ৩২৬-৩২৯) থেকে প্রকাশিত ‘সিনেমামা’র মূল্য ১৫০ টাকা। অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন এই লিঙ্ক থেকে

একজন তানভীর মেহেদী এবং তার বাসন্তী লেন:

গত বইমেলায় তানভীর মেহেদীর ‘৩৬/ডি’ বইটা দারুণ সাড়া ফেলেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নিয়ে এসেছেন ‘বাসন্তী লেন’। পেশায় তিনি জাহাজী, কিন্ত ভালোবাসার জায়গাটা অবশ্যই লেখালেখি। সেই ভালোবাসার টানেই তিনি লিখে চলেন নিরন্তর। বাসন্তী লেন নিয়ে লেখকের কথাগুলোই তুলে দেয়া যাক পাঠকের জন্যে, এরচেয়ে ভালোভাবে বোধহয় বাসন্তী লেনকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

“বাসন্তী লেন” একটা ঠিকানা। রাস্তার, বাসার, কোনো একটা এলাকার কিংবা সাদামাটা একটা মনের। যেখানে বসন্ত- বসন্ত সুখ থাকে, দুঃখের নিশ্চয়তা থাকে। বাসন্তী লেন পুরোপুরি প্রেমের উপন্যাস না। বাসন্তী লেন হয়ত একটু একটু প্রেমের উপন্যাস। তবে বাসন্তী লেন হলো পুরোপুরি জীবনের উপন্যাস।

বাসন্তী লেন আপনাকে পুরোপুরি মুগ্ধ করবে না। খুব সস্তা সস্তা শব্দ দিয়ে লেখা এই উপন্যাসের গল্পও খুব সস্তা, খুব সাধারণ। এই শহরের অলিতে গলিতে এমন হাজারটা গল্প থাকে। বাসন্তী লেন ‘এই এত’ আয়োজন করে সময়ের গল্প বলতে চাইবে। তবে আপনি বিরক্ত হবেন, হতাশ হবেন। বাসন্তী লেন কাউকে বিমোহিত করবে না।

শব্দভূমি প্রকাশনা(২৭২ নম্বর স্টল) থেকে প্রকাশিত বাসন্তী লেন অনলাইনে কেনার জন্যে অর্ডার করতে পারেন এখানে। বাসন্তী লেনের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা।

জয়নাল আবেদীন, বিভ্রম এবং কিছু কথা:

পেশায় তিনি চিকিৎসক। মেডিকেল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ইন্টার্ন, সেই সময়টায় তিনি দেড়মাস ফাঁকি দিয়ে বই লিখেছেন, বাকী দেড়মাস কাজ করেছেন জান হাতে নিয়ে। বাকী সহপাঠীরা যখন চাকুরী-বিসিএস নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, জয়নাল আবেদীন তখন নাকমুখ গুঁজে লিখে চলেছেন, বইমেলা আসার আগেই যে বইয়ের কাজ শেষ করতে হবে! বাবা-মা-বন্ধু কিংবা নিজে, কাউকেই সময় দেয়া হয়নি টানা কয়েকটা মাস। সেই অমানুষিক পরিশ্রমের ফলাফলের নাম ‘বিভ্রম’, প্রকাশিত হয়েছে এবারের বইমেলায়।

জয়নাল আবেদীন বড় ক্যানভাসে, বিশাল পরিসরে মানুষ, সম্পর্ক আর জীবনের গল্প বলতে পছন্দ করেন। তার প্রথম বইয়ের নাম ‘শিকল’, সেটার ব্যাপ্তি ছিল সাড়ে তিনশো পৃষ্ঠা। সেই বইটাও পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছিল। এবার বিভ্রমের শব্দসংখ্যা তো প্রায় সোয়া এক লাখ! ‘বিভ্রম’ নিয়ে সংক্ষেপে লেখার মতো কিছু নেই। সাড়ে চারশো পৃষ্ঠা কিংবা এক লাখ আঠারো হাজার শব্দের একটা উপন্যাসকে নিয়ে সংক্ষেপে কিছু লেখা যায় না। ‘বিভ্রম’ নিয়ে আলোচনা করতে গেলেও হয়তো একটা ছোটখাটো উপন্যাস লেখা হয়ে যাবে।

বইমেলায় গ্রন্থরাজ্যের ৬০৫ নং স্টলে পাওয়া যাবে বিভ্রম, মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১৯ টাকা। অনলাইনে অর্ডার করা যাবে এখান থেকে।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button