সিনেমা হলের গলি

সব যখন হাতের মুঠোয়…

সালমান খান কী খায়? ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ দেখার পর থেকে এই চিন্তায় চিন্তিত থাকতাম। কি সুদর্শন একটা মানুষ আর কি কিলবিল করা মাসল! তখনও মাসল জিনিসটা বলতাম বা বুঝতাম না, বলতাম- কি বডি রে! কীভাবে তিনি এই শরীর বানালেন, সেটা জানার কোনো উপায় ছিল না যদি না সেটা তিনি নিজের মুখে বলতেন। গুগল, নেট, টুইটার, ইন্সটা, ফেসবুক যুগের শুরু হয় নাই তখনও। তারকা সম্পর্কে জানার একমাত্র উপায় বলতে গেলে- ফিল্ম ম্যাগাজিন আর পত্রিকা। সেখানের ছোট্ট নিউজকে নিজের কল্পনার রঙে রাঙিয়ে আরও বড় নিউজ আর গসিপ বানিয়ে ফেলতাম আমরা নিজেদের আড্ডায়। আমাদের সময় আমাদের স্বপ্নে আমাদের নায়ক নায়িকারা আসতেন। আর এখন কেন যেন স্বপ্নই দেখা হয় না অনেক বছর ধরে।

এক বন্ধুর বাবা ইন্ডিয়া থাকতেন, দেশে আসার সময় কিছু ম্যাগাজিন নিয়ে আসতেন, যেমন- স্টারডাস্ট, ফিল্মফেয়ার। সেই বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলাম, এবারের ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনে নাকি সালমান খান নিজে তার এই চমৎকার ফিটনেসের রহস্য বলেছেন। রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেল এই ম্যাগাজিন পড়ার চিন্তায়। বন্ধুকে রিকুয়েস্ট করতে করতে ক্লান্ত হই, সে ম্যাগাজিন পড়তে দেয় না। তাকে নাকি স্কুল শেষে আইসক্রিম আর আরও কিছু খাবার খাওয়ালে এরপরে পড়তে দেয়ার কথা “চিন্তা” করতে পারে! ট্রিট শব্দটা তখনও অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে না আসলেও, আমাদের যুগে এগুলাই ছিল ট্রিট। বেশ কয়েকদিন টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে তাকে খাওয়ালাম। অবশেষে প্রায় এক মাস পর সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসলো।

ম্যাগাজিন না, যেন খোদ সালমান খান আমার হাতে আসলেন! টুকটাক ইংরেজি পড়ে যা বুঝলাম, তাতে আমার আত্মা কেঁপে উঠল। প্রচুর ব্যায়াম করেন আর দিনে পাঁচটা করে ডিম খান তিনি, সেটাই এই ফিটনেসের রহস্য! বুঝলাম, সপ্তাহে একটি ডিম কোনোমতে শেষ করতে পারা আমার মতো মধ্যবিত্ত ছেলের পক্ষে জীবনেও সম্ভব হবে না। ভাগ্য ভাল, কিছু সময় পরেই মাথাভর্তি চুলের শ্যামলা গড়নের ছিপছিপে দৈহিক গড়নের এক নায়ক এসে বুঝিয়েছিলেন- মাসল না থাকলেও নায়ক হওয়া যায়। জ্বি, শাহ্‌রুখের কথা বলছিলাম। এরপরে এই মানুষটাতেই থিতু হলাম, কারণ সালমান খান হওয়া বেশ খরচের ব্যাপার, ডিমের বেশ দাম!

বিপ্লবটা ঘটলো প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর আগে, যখন সোশ্যাল মিডিয়া আস্তে আস্তে বিকশিত হতে শুরু করল। এখন আর আমাদের আগের মতো দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় না, প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেয়ে যাই প্রিয় তারকার। কিছু জিনিস জানলে তো আরও অবাক লাগে , যেমন ইন্সটাগ্রামে ভিকি কৌশল মাঝে মাঝে নিজেই ফ্যানদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দেন! চিন্তা করা যায়? এই ব্যাপারটা নাইন্টিজে ঘটলে আমরা তো হার্ট ফেল করতাম! নিজের প্রিয় তারকা আমাকে ম্যাসেজ পাঠাচ্ছেন! অথচ এখন অনেক স্বাভাবিক লাগে এসব জিনিস। একদম গাসহা হয়ে গেছে। স্টারকে এখন সহজেই পাওয়া যায়, আমাকে স্টারের কাছে যেতে হয় না, স্টারই আমার কাছে চলে আসে।

এইসব সোশ্যাল মিডিয়ার অনেকগুলো ব্যাপার আছে। এইসব মিডিয়া ঠিকমতো হ্যান্ডেল করতে না পারলে হিতে বিপরীত হয়। আর কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে শুরুতে স্টার এবং ফ্যান- কেউই ঠিকমতো এর ব্যবহার করতে পারিনি। ফ্যানদের বিশেষ করে ব্লাইন্ড ফ্যানদের অবস্থা তো এখনও ভয়াবহ, পারলে কোন একটা ইস্যুতে টুইটারেই ওয়ার্ল্ড “ওয়ার থ্রি- টুইটার ভার্সন” এর ঘোষণা দেন।

টেকনলোজির ব্যাপার সালমান খান কখনই খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না, এই কারণে তার একদম প্রথমদিকের টুইটগুলো পড়লে আপনার খুবই লেইম মনে হবে! আবার ধীর ধীরে এই সালমানই যখন বুঝলেন- নিজের সাথে সারাদিন যা ঘটে সেটা সবসময় জানানোই টুইটারের একমাত্র কাজ না, তখন তিনি সিরিয়াস কিছু বিষয়েও বলা শুরু করলেন। যেমন বেশ কয়েকবছর আগে প্রায় একদিনের ২০ টার মতো টুইট করে জানালেন- তার কোনো সহকর্মীকে নিয়ে তার সামনে আজেবাজে কথা বললে তিনি সেটা বরদাস্ত করবেন না, সেই সহকর্মীর সাথে তার নিজের যতই বাজে সম্পর্ক থাকুক না কেন! অবশ্যই চমৎকার কথা। কিন্তু তাই বলে একদিনে এতগুলো টুইট?! অবশ্য যিনি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার বাকি যে কারো চেয়ে যখন বেশি দিচ্ছেন, তখন তিনি কিছুটা “বেশি” টুইট করলে ক্ষতি নেই!

এই সোশ্যাল মিডিয়া আসার আগে স্টারদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ছিল অন্তরে, তবে এখন সেখান থেকে সেই ভালোবাসা বের করে সবার সামনে দেখাতে না পারলে যেন চলছেই না! সেটা করতে না পারলে আপনি ফ্যান না। আপনি ফ্যান কি ফ্যান না, সেটাও নির্ধারণ করে দিচ্ছে মিডিয়া!

– কই আছিস?
– এই তো বাসায়, ঘুম থেকে উঠলাম মাত্র।
– এতক্ষণে! রেইস এর ট্রেলার দেখিস নাই?
– না তো, বের হইসে?
– বের হইসে মানে! শালা এখনও শেয়ার দিস নাই টুইটারে? রিটুইট কখন করবি? কাবিলের কালেকশন বের হইলে? এরকম ফ্যান তুই? ছি!

কথা শুনলে মনে হয় ফ্যানদের লাইফ সার্কেল হবে এরকম- জন্ম> কিং খানের সিনেমার ট্রেলার শেয়ার দেয়া> মৃত্যু।

আবার এমনও হয়..

– “কীরে, টুইটারে সবাই শাহরুখরে জন্মদিনে উইশ করল, সালমান করল না যে?
– জ্বলে তো, ওর তো জ্বলে, সারাজীবন হিংসা করছে শাহরুখরে! আরে এত হিংসা কি রে, তাও আবার জন্মদিনে? একটা হ্যাপি বার্থেডে লিখতে কতক্ষণ লাগে? এইটার নাকি আবার গোল্ডেন হার্ট! খালি শো অফ!”

চিন্তা করেন জাস্ট অবস্থাটা! কাম অন! টুইটারেই উইশ করতেই হবে আর না করলেই কেউ খারাপ? তারা যে একজন আরেকজনকে ফোন দিয়ে উইশ করে নাই, সেটা আপনি কীভাবে জানলেন? বা অনেক রাতে যে একজন আরেকজনের বাড়িতে যায় নাই, সেটাই বা কীভাবে জানলেন? মানে আপনি নিজের চোখে দেখা না পর্যন্ত আপনার একটা জাজমেন্ট আপনি চাপিয়ে দিবেন, যেখানে আপনি নিজেই উকিল আর নিজেই জাজ! কতটা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি আমরা! কিছুক্ষন পর পর নোটিফিকেশন চেক করা, তাও নিজের কাজে না, আরেকজন কী করল বা না করল সেটার জন্য!

তাদের মধ্যে বন্ধুতা, না শত্রুতা তা নিয়ে ভক্তকূলে উত্তেজনার শেষ নেই। source: india today

এই কারণে মাঝে মাঝে মনে হয়, জন্মদিনে শাহরুখ আর সালমানের বাসার বাইরে শত শত যে মানুষের ভিড় দেখি, তারা অনেকেই আসলে ফ্যান না, তারা আসলে একেকজন কিলোবাইট বা মেগাবাইট, এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে। তাদের ভালবাসাকে অসম্মান করছি না, তবে সবাই এরকম গৌরব চান্না হয়ে গেলে তো বিরাট সমস্যা!

শুধু ফ্যানদের ক্ষেত্রে যে এমন বলি, সেটা না। স্টারদের ক্ষেত্রে জিনিসটা আরও ভয়ানক! স্টাররা দিনদিন এইসব জিনিসকে কী পরিমাণে সিরিয়াসলি নিচ্ছেন, সেটা দেখলে মাঝে মাঝে বেশ দৃষ্টিকটু লাগে! নিজের ফলোয়ার কমে যাওয়াতে ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য অমিতাভ বচ্চনের মতো একজন লিজেন্ডকে যখন বাচ্চাদের মতো আচরন করতে দেখি, তখন একজন সিনেমাপ্রেমিক হিসেবে প্রচণ্ড অসহায় লাগে!

তার মানে কি সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের শুধু অসুস্থ বানিয়ে ফেলছে? আমরা ভালো কিছুই পাচ্ছি না? একদম না! বেসিকেলি সব নির্ভর করছে ইউজারের উপরে। যা ইচ্ছে তাই করে পার পেয়ে যাবেন, সেই সময়টা এখন আর নেই। বা পার পেয়ে গেলেও, টুইটারে সাবান, সোডা, সার্ফ এক্সেল দিয়ে ধোয়া হবে আপনাকে ঠিকঠাক। আপনার একটা উল্টাপাল্টা বা চমৎকার এক্সপ্রেশন- মিম বা ট্রলের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক মিনিট- সো সব ক্ষেত্রেই আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। তারকাদের তো যেন পুরো সময়টা তক্কে তক্কে থাকতে হয়। বাতাসেও চুল ওড়া যাবে না। “ইসস! কি বিচ্ছিরি চুলের স্টাইল মালাইকার! অর্জুনের সাথে থেকে এই অবস্থা হইসে রুচির!”– এই কমেন্ট লিখে ১০০ টা টুইট চলে আসবে!

নিজেদের শব্দচয়নে সবাই এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক, প্রত্যেকটা বর্ণ যেন হিসেব করে বলেন কারণ একটু উল্টোপাল্টা কিছু হলেই খবর আছে। যদিও সন্দিপ ভাঙা রেড্ডির মতো কিছু মানুষ এখনও আছেন যারা নিজে যা বিশ্বাস করেন তাই বলে যান। ফালতু সিনেমা করে হিটের সুযোগ এখন আর নাই বললেই চলে, ওয়ার্ড অফ মাউথের শক্তি দিনদিন স্টারডমকে টেক্কা দিচ্ছে আর আস্তে আস্তে কোণঠাসা করে ফেলছে। আর সিনেমা রিভিউ ভাল হলে সেটা নিয়ে দুটো লাইন লিখলে আজকাল অভিনেতারা সেগুলো শেয়ার করেন বা নিজেরাই এসে কমেন্ট করেন, থ্যাংকস জানান- যা একসময় কল্পনা করাই ছিল অবিশ্বাস্য!

সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যই মি টুর ব্যাপারে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছে আর অনেক ভদ্র মানুষের মুখোশ পরে থাকা জালিমদের চেহারা আমরা দেখতে পেয়েছি। এই লিস্টে অনেকের নাম দেখে আমরা শকড হলেও, আমরা সত্যকে মেনে নেয়ার চেষ্টা করেছি আর এই চেষ্টায় আমাদের সাহায্য করেছে সোশ্যাল মিডিয়া। রবি ঠাকুর তো বলেই গেছেন- সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম!

সিনেমার প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়া মারাত্মক ভূমিকা রাখছে, তা সেটা প্যাডম্যান সিনেমার সময় সবার হাতে প্যাড ধরে ছবি তুলে পোস্ট করাই হোক বা সুঁই ধাগা সিনেমার সময় সবার সুতো সুঁইতে প্রবেশ করানোই হোক- দিনশেষে সিনেমাটা কিন্তু ঠিকই পার পেয়ে যাচ্ছে আর সেখানে ভূমিকা রাখছে এই সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়াতে মি টুর মতো ব্যাপারের কারণে যেমনি অনেকে সংসার ভেঙ্গেছে, আবার এই কারণেই অনেকে খুঁজে পেয়েছেন তার নিজের মনের মানুষ, যেমন সুস্মিতা সেন একদিন একজন ভক্তের কমেন্ট এর রিপ্লাই দিতে গিয়ে আজকে সেই ভক্তের সাথে নিজের বাকি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি! সুইট না? সব কিছুই উপরওয়ালার ইশারা আসলে- টুইটার,ইন্সটা তো উসিলা।

সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে খুব জলদি যেমন জানতে পারছি সিনেমাটা আসলেই ভালো না খারাপ, তেমনিভাবে এই জিনিসটা একই সাথে খুবই অস্বস্তিতে ফেলে দেয় মাঝে মাঝে। কিছু মানুষ যেন সিনেমা হলেই ঢোকেন সিনেমার প্রতি ১০ সেকেন্ডের আপডেট দেয়ার জন্য। সিনেমা এঞ্জয় করার চেয়ে যদি রিভিউ লিখে নিজেকে জাহির করা বা নিজের পরিচিত বাড়ানো বা পারলে হলের ভেতরে বসেই দর্শকের রিকেশন নেয়ার মতো কাজকর্ম শুরু করে দেয়া হয়, তখন বোঝাই যায় যে সোশ্যাল মিডিয়া কি অদ্ভুত এক একটা মানুষ বানিয়ে ফেলছে আমাদের! অথচ ত্রুফোর মতো বিখ্যাত সিনেমার সমালোচক আর ডিরেক্টর বলেছিলেন- i would rather feel a film first, that to understand it. আর এত টুইট,রিটুইট আর ভিউয়ের অনবরত প্রেসারে আমরা সিনেমাকে ফিল করাই ভুলে গেছি, সিনেমাকে সিনেমা হিসেবে দেখাই ভুলে যাচ্ছি। পোস্টার বা ফার্স্ট লুক থেকেই আমরা বিশেষজ্ঞ বনে যেতে চাই আর সেটা সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়াতে চাই। প্রতিটা সিনেমাকে আমরা কোনো না কোনো ট্যাগ দিতে চাই, ট্যাগ না দেয়া পর্যন্ত শান্তি নাই!

“কবির সিং দেখস? ছি! মেয়েদের অপমান করা সিনেমা! আর্টিকেল ১৫ দেখস? এটা দেখতে পারলে? মিথ্যা সিনেমা দেখাইসে, এতটাও বাজে অবস্থা না ইন্ডিয়ার! উড়ির মতো সিনেমা দেখতে পারলে তুমি? উগ্র সিনেমা! এইসব যারা দেখে তারা আমার বন্ধু না, আজকেই আনফলো করলাম তোকে!”

আরে ভাই, দেখব কোনটা তাইলে?! এর চেয়েও বড় ঝামেলা হচ্ছে আপনি যদি স্রোতের একটু উল্টোদিকে যান। কলঙ্ক সিনেমা আপনার ভালো লেগেছে, বাই এনি চান্স এই ব্যাপারটা আপনি যদি পাবলিকলি বলেন- ট্রাষ্ট মি, করণ জোহরের চেয়ে বেশি ট্রলের শিকার হতে হবে আপনাকে! অথচ আমরা এমন ছিলাম না, এমন হওয়ার কথা ছিল না, সবার মতামতকে সম্মান করার কথা ছিল।  এজন্য মাঝে মাঝে মনে হয় দুইটা কাজ করি, সিনেমা দেখাও বাদ দিয়ে দেই আর তার সাথে টুইটার আনইন্সটল করে দেই- একুল ওকূল দুই কুলেই শান্তি! জীবনে সিনেমার চেয়ে শান্তি বেশি দরকারি!

একটু যেন ধৈর্যশীল হই আমরা, আমাদের পছন্দের স্টাররা এতদিন ধৈর্য ধরে একটা জায়গায় টিকে থাকতে পারলে, আমরা কেন পারব না? ভালোবাসাটা সবসময় শো অফের জায়গায় না নিয়ে, কিছুটা যেন নিজের কাছেও রেখে দেই। আমার বানানো সোশ্যাল মিডিয়া যেন আমাকেই নিয়ন্ত্রণ আর আমার পরিচয় নির্ধারণ না করে দেয়, সেটা বোঝার মতো ক্ষমতা যেন আমার থাকে। ফোনের স্ক্রিনে সারাক্ষণ স্টারদের না দেখে একদিন ফোনটা পাশে রেখে একটু চোখ বন্ধ করে কল্পনায় স্টারদের হাসি দেখার চেষ্টা করি। সিনেমাকে কেটে ছিঁড়ে সবার সামনে দেখানোর আগে যেন সিনেমাকে উপভোগ করার চেষ্টা করি।

এত তর্ক বিতর্ক, এত ভন্ডামি, এত তাড়াহুড়ো, এত স্ট্রেস দেয়া, এত দ্বিমুখী আচরণ, এত ঈর্ষা আর হিংসা তৈরির গোডাউন হলেও দিনশেষে আমি আশা রাখি এই সোশ্যাল মিডিয়াতেই। কারণ এই টুইটারেই কোনো একদিন টুং করে একটা নোটিফিকেশনের আওয়াজ আসবে আর আমি মোটামুটি প্রায় সবার আগে জানতে পারব যে, শাহরুখ খান নিজের পরের সিনেমা ঘোষণা করেছেন! অন্তত সবার আগে এই ধরনের কিছু সর্বশেষ সংবাদের জন্য হলেও- গড ব্লেস সোশ্যাল মিডিয়া!

কৃতজ্ঞতা- ‘জাস্ট বলিউড’ ফেসবুক গ্রুপ

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button