সিনেমা হলের গলি

বলিউডি সঙ্গীতরাজ্যের রাজসিংহাসনের অধিপতিরা…

বশির আহমেদ আকিব:

সঙ্গীত কতটা গুরুত্ব রাখে বলিউড সিনেমায়? এর উত্তর হয়ত সবাই জানেন। হিন্দি সিনেমার সেই প্রাচীন কাল থেকেই সঙ্গীত বলিউডের প্রাণ। ৩০ এর দশকে টকিজ অর্থাৎ সবাক ভারতীয় মুভির যাত্রা শুরু হল “আলম আরা” মুভির মাধ্যমে। সেই মুভিতেই বলিউডের সর্বপ্রথম গান “দে দে খুদাকে নামপে” শোনা য়ায়। সেই থেকে আজ অব্দি মিউজিক বলিউডের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে আসছে।

বলিউডের সেই প্রাচীন কাল থেকে আজকের সময় পর্যন্ত হাজার হাজার প্লে-ব্যাক সিঙ্গার এসেছে। কিছু হারিয়ে গেছে কালের পরিক্রমায়, কিছু থেকে গেছে “ক্লাসিক” রূপে আমাদের মাঝে আজীবনের জন্য। সঙ্গীতরাজ্যের সিংহাসনের লড়াইয়ে যুগে যুগে যারা আসন নিতে পেরেছে, তারাই আজ আমাদের নিকট ক্লাসিক। আবার আজকের দিনে যারা সেই অলিখিত সিংহাসন পদে বসতে পেরেছে তারাই হতে চলেছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে “ক্লাসিক”। আজ কথা বলব সেই সঙ্গীত সিংহাসনের যুগ যুগান্তরের লড়াইয়ের গল্প, একেকজনের উত্থান এবং পতনের গল্প, সেই সাথে পরবর্তী জনের উত্থানের গল্প এবং বর্তমানে সেই সিংহাসনে কে অধিষ্ঠিত আছেন আর ভবিষ্যতের কে নিতে পারেন এই রাজ-গদির দখল সেই সব গল্প।

৩০-৪০ এর দশক:

৩০ এর দশকে, অর্থাৎ সবাক সিনেমার প্রাথমিক যুগে প্রধানত ক্লাসিকাল অথবা ঠুমরি ঘরানার সঙ্গীতই শোনা যেত বেশি। সেই যুগে এসব গান গ্রামোফোনে চলতও খুব। আজকের দিনে যেমন ইউটিউব একটা গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম, যেখানে নতুন অনেক সিঙ্গার কভার সং করে বড় কোনো মিউজিক ডিরেক্টরের নজরে পড়তে পারেন, অথবা গত দশকে যেমন রিয়েলিটি শোগুলো থেকে একাধিক সিঙ্গারের উত্থান ঘটে, এইভাবে একটা সময় ছিল পপ এলবামের (৯০- ২০০০) যুগ। তখন পরিচালকরা সেই পপ আর্টিস্টদের বলিউডে ব্রেক দিতেন। ৩০ এর দশকে এরকম একটি প্ল্যাটফর্ম ছিল গ্রামোফোন। সেই যুগে শিল্পীরা গ্রামোফোনে গাওয়ার সুযোগ পেয়ে হিট হয়ে গেলে বলিউডে গাওয়াটা তাদের জন্য সহজ হয়ে যেত। অথবা বললিউডে সুযোগ না পেলেও অনেক সিঙ্গারই ছিল কেবল গ্রামোফোনে নন-ফিল্মি গান করেই দেশ মাতিয়ে রাখত। কিন্তু আজ তাদের অনেকেই বিস্মৃত। এরপর ৪০ এর দশকে বেতার বা রেডিও ছিল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেই সময় All India Radio থেকে একাধিক শিল্পীর উত্থান ঘটে বলিউডে।

৩০ এর দশকে সঙ্গীতে যিনি সুপারস্টার এর তকমা পান, তিনি ছিলেন কুন্দনলাল স্যাগাল বা কে.এল সায়গল। একই সাথে অভিনেতা ও গায়ক হিসাবে কে.এল সায়গল বলিউডে প্রথম সুপারস্টারের গৌরব অর্জন করেন। সেই যুগে হিন্দি সিনেমার প্রাণকেন্দ্র ছিল কলকাতায় (বর্তমানে মুম্বাইয়ে)। ক্ষণজন্মা কে.এল সায়গলের সমসাময়িকে তার সমকক্ষ কেউই ছিল না। তিনি একচ্ছত্রভাবে প্রায় ১৫ বছর বলিউড মিউজিক এবং সিনেমায় রাজত্ব করে গেছেন। তার গাওয়া অসংখ্য ঠুমরি এবং ক্লাসিকাল গান আজকের শ্রোতাদের কাছে হয়ত অপরিচিত হতে পারে, কিন্তু সেই যুগে এগুলোই ছিল চার্টবাস্টার। ১৯৩৩ সালে পুরাণ ভগত মুভিতে চারটি ভজন সঙ্গীত গেয়ে সেই সময় খুব নাম কামান কে.এল সায়গল। ১৯৩৫ সালে তার অভিনীত দেবদাস চলচ্চিত্রে “দুখকে দিন আব বিতাত নাহি” এবং “বালাম আয়ে বাসো মোরে মানমে” গানগুলো তার কণ্ঠে খুব জনপ্রিয় হয়। লক্ষণীয় যে আজকের দিনে অভিনয়শিল্পীরা গান করলে অনেকে বাঁকা চোখে তাকায়। কিন্তু সেই যুগে এমন শিল্পীদেরই সিনেমায় সুযোগ দেয়া হত যারা অভিনয় ও গান দুয়েই পারদর্শী ছিলেন। এজন্য শুধু কে.এল সায়গলই নন, পরবর্তীতে নায়িকা-গায়িকা নুরজাহান, সুরাইয়াদের মতো শিল্পীদেরও বেশ কদর জমে উঠে বলিউডে। কে.এল সায়গলের আরও অনেক চমৎকার গান আছে। যেমন “এ্যায় কাতিবে তকদির” কিংবা “দো নায়না মাতওয়ারে” ইত্যাদি।

K.L. Saigal, source: soundbox

কিন্তু দুঃখের বিষয় যে তিনি বেশিদিন বাঁচতে পারলেন না। তিনি নিজের জীবন এবং ক্যারিয়ার নিজ হাতেই ধ্বংস করেছেন। মাত্রাতিরিক্ত মাদকাসক্তি তাকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে। শেষের দিকে এমনই অবস্থায় তিনি পৌছেন যে মদ্যপান না করে তিনি গাইতেই পারতেন না। এভাবে মাত্র ৪২ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

কে.এল সায়গল কত বড় স্টার ছিলেন তার ধারণা এখান থেকেই পাওয়া যায় যে তার পরবর্তী প্রজন্মের প্রায় সবাই তাকে ফলো করতেন। যে কেউ বলিউডে গাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তিনি কে.এল সায়গল হবার স্বপ্ন দেখতেন। পরবর্তীতে মোহাম্মদ রাফি এবং মুকেশদের মতো সিঙ্গাররা ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে কে.এল সায়গলের স্টাইলে গান করতেন। এমনকি তারও পরে কিশোর কুমারের আইডলও ছিলেন কে.এল সায়গল। কিশোর কুমারের নিজঃস্ব স্টাইল এসডি বর্মন দ্বারা আবিস্কৃত হবার আগ পর্যন্ত তিনি কে.এল সায়গলকেই কপি করতেন।

৫০-৬০ এর দশক:

এদিকে সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে ততদিনে বেশ ক’জন নতুন গায়কের পথচলা শুরু হয়ে গেছে; যারা আইডল হিসেবে কে.এল সায়গলকেই বেছে নিয়েছেন।

৪০ এর দশকে এরকম স্বপ্ন নিয়েই বলিউডে পা রাখেন মোহাম্মদ রাফি, মুকেশ এবং মান্না দে’রা। ৪০ এর দশকে তাদের তিনজনেরই পথচলা শুরু হলেও সেই কথিত রাজগদিতে বসার সম্ভাবনা দেখা দেয় কে.এল সায়গলের মৃত্যুর পরই।

৫০ থেকে ৭০ এর দশক জুড়ে বলিউড মিউজিকে সমান তালে রাজত্ব করেন রাফি সাহেব এবং মান্না দে। দুজনের ঝুলিতেই তখন জমা পড়ে ভুরি ভুরি হিট গান। একদিকে মোহাম্মদ রাফি স্যাড থেকে ডান্স, কাওয়ালি থেকে ভজন সব ধরনের জনরায় সাফল্য পেয়ে যাচ্ছিলেন, অন্যদিকে মান্না দে কমার্শিয়াল মুভিতে ক্লাসিকাল হিট গান দিয়ে বলিউড মাতিয়ে রাখছিলেন। আবার মেলোডি জনরায় সকলের পছন্দের গায়ক ছিলেন মুকেশ।

তবে এই তিন জনের মধ্যে কে ছিলেন এগিয়ে? এই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্যই উঠে আসবে মোহাম্মদ রাফির নাম। মোহাম্মদ রাফি তার ক্যারিয়ারে হাজারের বেশি হিন্দী সিনেমায় গান গেয়েছেন। কে.এল স্যাগালের মৃত্যুর পর ১৯৪৯ সাল অব্দি রাফি সাহেব কেবল ডুয়েট বা কোরাসই গেয়ে চলেছেন। ‘৪৯ এর পর থেকে সঙ্গীত পরিচালকরা তাকে একক বা সোলো গান করার সুযোগ দেন। অন্য দিকে তার শক্তিশালী প্রতিযোগী মান্না দে ১৯৪২ সালে বলিউডে ডেব্যু করলেও তিনি সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখর অর্জন করেন ১৯৫৩ থেকে ১৯৭৬ সালের মাঝামাঝি সময়। যদিও ১৯৪৭ সালের পর থেকেই তিনি বলিউডে নিয়মিত ভাবে গান করে গেছেন। মান্না দে পেশাগতভাবে গান করার পাশাপাশি হিন্দুস্তানি ক্লাসিকালের তালিমও নিচ্ছিলেন একই সাথে। ৫০ এর দশকের শুরুর দিকে মান্না দে যখন ক্লাসিকাল গান গেয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠছিলেন, তখন মোহাম্মদ রাফি সব জনরার গানে কণ্ঠ দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছেন। সকল স্বনামধন্য মিউজিক ডিরেক্টরের সাথে তিনি কাজ করে যাচ্ছিলেন। নৌশাদ আলি, শংকর জয়কিশন, মদন মোহন কিংবা ওপি নাইয়ারদের মতো সঙ্গীতজ্ঞরা তার কণ্ঠের পাগল ছিলেন।

Mohammed Rafi, source: newsnation

মোহাম্মদ রাফি প্রথমবার ফিল্মফেয়ার পুরুস্কার অর্জন করেন চৌদভি কা চান্দ হো (১৯৬০) গানটি গেয়ে। এরপর তিনি চাহুঙ্গা ম্যায় তুঝে সাঁঝ সাবেরে, তেরি পেয়ারি পেয়ারি সুরাতকো, বাহারো ফুল বারসাও, দিলকে ঝারোকে মে, কেয়া হুয়া তেরা ওয়াদা গানগুলো গেয়ে মোট ছয় বার ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড পান। এছাড়া বাবুলকি দুয়ায় লেতি যা, যার রেকর্ডিংয়ের সময় তিনি নিজে কাঁদছিলেন, গানটি গেয়ে তিনি জাতীয় পুরুস্কার পান।

অন্যদিকে রাফি সাহেবের সাথে সমান পাল্লা দিয়ে চলছিলেন মান্না দে। সুপারস্টার রাজ কাপুরের ক্যারিয়ারের ৯৫% হিট ডুয়েট গান গেয়েছেন মান্না দে। সঙ্গীত জগতে মান্না দের চাহিদা কীরূপে বাড়ছিল তা বোঝা যায় এদিকে তাকালে যে, ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ এই তিন বছরে তিনি ৮৩টি হিন্দি সিনেমায় গান গেয়েছেন এবং কেবল ১৯৫৬ সালেই তিনি গেয়েছেন ৪৫টি, ১৯৫৭ সালে ৯৫টি এবং ১৯৫৮ সালে ৬৮টি হিন্দী সিনেমায়। মান্না দে মূলত ক্লাসিকাল সিঙ্গার হলেও লতা মঙ্গেশকারের সঙ্গে তার কিছু জনপ্রিয় রোমান্টিক নাম্বার এবং কিশোর কুৃমারের সঙ্গে কিছু মজার গান রয়েছে তার। একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যে, আজকের দিনে দুই জন লিডিং সিঙ্গারদের একসাথে ডুয়েট গান যেখানে চিন্তাই করা যায় না, সেখানে সেই যুগে বড় বড় শিল্পীরা প্রায়ই যুগোলবন্দি বেঁধে গান করতেন। মান্না দেও রাফিজি, কিশোর কুমারদের সাথে একসাথে একাধিক ডুয়েট গান উপহার দিয়েছেন।

মান্না দের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে, মুড় মুড়কে না দেখ, পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া, ইয়ে রাত ভিগি ভিগি, আজা সানাম, জাহা ম্যায় যাতি, এ্যায় মেরি জোহরজাবি, ইয়ারি হ্যায় ইমান মেরা, ছলত মুসাফির, এ ভাই জারা দেখকে চল, এক চতুর নার, বাবু সামঝো ইশারে, আও টুইস্ট কারে, জিন্দেগি কায়সি হ্যায় পাহেলি, লাপাক ঝাপাক, তু পেয়ার কা সাগর হ্যায়, লাগা চুনড়িমে দাগ, না মাঙ্গু সোনা চাঁদি, সুর না সাজে, ঝনক ঝনক তোর বাজে পায়েলিয়া, কিসি চিলমান সে, মাস্তি ভরা ইয়ে সামা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। অপর দিকে মোহাম্মদ রাফির ক্যারিয়ারের অল-টাইম ক্লাসিক গানগুলোের মধ্যে ইয়াহু, বাদানপে সিতারে, তুম জো মিল গায়ে হো, ইউ তো হামনে লাখ হাসিন দেখে হ্যায়, তারিফ কারু কেয়া উসকি, গুলাবি আঁখে, তুম মুঝে ইউ ভুলা না পাওগে, ইয়ে দুনিয়া ইয়ে মেহফিল, চাড়তি জাওয়ানি, চুড়া লিয়া হ্যায় তুমনে, আজ মৌসাম বাড়া বেইমান হ্যায়, তেরি বিন্দিয়া রে, পর্দা হ্যায় পর্দা, তেরি গালিও মে গানগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এদের সমসাময়িক মুকেশও সেই সময় বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যান এবং তার গাওয়া একাধিক গান আজও অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। মুকেশ অগ্রজ কে.এল স্যাগালকে আদর্শ মানতেন এবং প্রথম দিকে তিনি তার মতো করেই গান করতেন। তবে চার্টবাস্টারের দৌড়ে রাফি বা মান্না দে থেকে কিছুটা পেছনেই পড়ে যান মুকেশ। কারণ তিনি গান করতেন সমসাময়িকের তুলনায় খুব কম। তার গাওয়া গানের সংখ্যা মাত্র ১৩০০ এর মত, যা রাফি-মান্নাদের তুলনায় নগণ্য। তবে মুকেশের ঝুলিতেও বেশ কিছু হিট গান আছে। সাব কুছ শিখা হামনে, জয় বল বেইমান কি, কাভি কাভি মেরে দিলমে, সাবসে বড়া নাদান গানগুলো গেয়ে মুকেশ ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড পান। এছাড়া মুকেশের কাহি দূর যাব দিন ঢাল যায়, এক পেয়ার কা নাগমা হ্যায়, জিনা ইয়াহা মারনা ইয়াহা, কেহতা হ্যায় জোকার, আওয়ারা হু গানগুলো খুব জনপ্রিয়।

কিন্তু ৫০ ও ৬০ এর দশক দাপিয়ে বেড়ানো এই তিন তারকার পতন ঘনিয়ে আসে ৭০ এর দশকে এসে। ৭০ এর দশকের প্রথম দিকে মোহাম্মদ রাফি গলার ইনফেকশনে আক্রান্ত হন। ফলে এই সময়টায় তিনি নতুন গানের রেকর্ডিং অনেক খানি কমিয়ে দেন। এরপর ৭০ এর মাঝামাঝি সময় তিনি কামব্যাক করে যখন নতুন করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখনই মৃত্যু তাকে টেনে নিয়ে যায়। ১৯৮০ সালে রাফি সাহেব ইহকাল ত্যাগ করেন। ওদিকে ১৯৭৬ সালে বক্ষব্যাধিতে ভুগতে থাকা মুকেশ হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু বরণ করেন। ফাকা মাঠে তখন সিংহাসন দখল করে বসা কিশোর কুমারকে আর টলাতে পারেননি মান্না দে। ১৯৭৬ এর পর থেকে মান্না দে নিজেও কাজ বেশ কমিয়ে দেন অথবা তার ডিমান্ডও অনেকখানি কমে আসে।

৭০-৮০ এর দশক:

মোহাম্মদ রাফি, মান্না দে আর মুকেশদের আমলেই মাত্র ১৯ বছর বয়সে বলিউডে পা রাখেন কিশোর কুমার; গায়ক হিসেবে নয় বরং নায়ক হিসেবে। কিন্তু শুরু থেকেই অভিনয়ের চেয়ে গানের প্রতি তার ঝোক ছিল বেশি। তবে সঙ্গীতে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই বলে পরিচালকরা কেউ তাকে গায়ক হিসেবে সিরিয়াসলি নেননি ৭০ এর দশকের আগ পর্যন্ত। তাছাড়া ৫০ ও ৬০ এর দশকে রাফি বা মান্না দের মত বড় শিল্পীদের সামনে গায়কীর বিচারে কিশোর কুমারের তখনও তেমন কদর ছিল না। কিন্তু কে জানত এই “আন্ডার-এস্টিমেটেড” কিশোর কুমারই হতে যাচ্ছে আগামী দিনের সুর-সম্রাট?

আকে সিধি লাগি দিলপে গানটি নারী কণ্ঠে গেয়ে সেই সময় সবাইকে বেশ তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কিশোর কুমার। কিন্তু তখন পর্যন্ত সবাই তাকে কেবল “শখের গায়ক” বলেই জানত। ৫০ ও ৬০ এর দশকে তার কিছু চমৎকার গান হল; এক লাড়কি ভিগি ভাগি সি, হাল কায়সা হ্যায় জনাবকা, ছোড়দো আঁচল, ইয়ে রাতে ইয়ে মৌসাম, গাতা রাহে মেরা দিল, মেরে দিল মেরি জান, মেরে সামনেওয়ালি খিড়কি মে, কেহনা হ্যায় ইত্যাদি।

অতঃপর এল ১৯৬৯ সাল, কিশোরদার সঙ্গীত জীবনের বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট। এই বছর আরাধনা মুভিতে তিনি তিনটি গান করে রাতারাতি স্টার বনে যান। সঙ্গীত দুনিয়ায় নিজের যোগ্যতার প্রমাণ তো আগে তিনি অনেক দিয়েছেন। কিন্তু এই তিনটি গানের মাধ্যমে তিনি গায়ক হিসেবে যে খ্যাতি লাভ করেন, এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। গানগুলো হল; রূপ তেরা মাস্তানা, মেরে সাপনোকি রানী এবং কোড়া কাগজ থা ইয়ে মন মেরা। রূপ তেরা মাস্তানা গানটি দ্বারা তিনি প্রথমবার ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড অর্জন করেন। এরপর তিনি মোট ৮টি ফিল্মফেয়ার অর্জন করেন, যে রেকর্ড আজও অক্ষত।

পূর্বোল্লিখিত হয়েছে যে ৭০ এর দশকের শুরুতে মোহাম্মদ রাফি এবং মুকেশ শারীরিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে গান গাওয়া অনেকটাই কমিয়ে দেন। ইতিমধ্যে গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেলে কিশোর কুমারের ডিমান্ড দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। গত দুই দশকের রাজত্বের পর রাফি সাহেবদের গদি কিশোর কুমারের দখলে চলে আসে অবশেষে। ৭০ এর দশকে কিশোর কুমারের চার্টবাস্টার কিছু গান; ফুলোকে রংসে, ও মেরি শর্মিলী, ও মেরে দিলকে চ্যান, মীত না মিলা রে, ও মাঝিরে, ইয়ে শাম মাস্তানি, ইয়ে জো মোহাব্বাত হ্যায়, রাত কলি এক খাব, চিঙ্গারি কই ভাড়কে, আনে ওয়ালা পাল, হামে আওর জিনেকি চাহাত না হোতি, হামে তুমসে পেয়ার কিতনা, মেরে নায়না সাবান ভাদো, রিমঝিম গিরে সাভান, কেয়া ইয়েহি পেয়ার হ্যায়, জানেজা ঢুন্ডতা ফির রাহা, মেরে মেহবুব কায়ামাত, কাটে নেহি কাটতে, ইয়ে জীবন হ্যায়, মেরে দিলমে আজ কেয়া হ্যায়, ওম শান্তি ওম, এক হাসিনা থি, ও সাথিরে, পাল পাল দিলকে পাস, নীলে নীলে আম্বারপে, ভুল গায়ে সব কুছ, দিল কেয়া কারে, ছুকার মেরে মন কো, পাগ ঘুঙরু বান্ধ, চলতে চলতে ইত্যাদি।

কিন্তু ৮০ এর দশকের শুরুতে অমিতাভ বচ্চনের সাথে মনমালিন্যের কারণে কিশোর কুমার অমিতজির মুভিতে কণ্ঠ দিতে অস্বীকৃতি জানান। আবার যোগিতা বালি তাকে তালাক দিয়ে মিথুন চক্রবর্তীকে বিয়ে করলে কিশোর কুমার মিথুনের মুভিও বয়কট করেন। উপরন্তু ১৯৮৭ সাল আসতে আসতে তিনি বলিউড মিউজিকের নতুন ধারায় ধাবিত হওয়া মেনে নিতে পারছিলেন না, ফলে তিনি বলিউড থেকে অবসরের কথাও ভাবছিলেন। কিন্তু ১৯৮৭ সালেই ৩য় বার হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে ইহজনম ত্যাগ করেন সঙ্গীতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিশোর কুমারের ছেলে অমিত কুমারও ততদিনে সিঙ্গার হিসেবে বলিউডে নিজের একটা অবস্থান দাঁড় করে নিয়েছেন। পরবর্তী প্রজন্মের গল্প করব পরের পর্বে।

৯০ এর দশক:

৭০ এর দশক দাপিয়ে বেড়ানো কিশোর কুৃমারের সুযোগ্য সন্তান অমিত কুমার। কেবল বাবার নামেই নন, বরং নিজ গুণে তিনি নব্বইয়ের দশকে বলিউডে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। বিশেষ করে ‘৮৭ সালে কিশোরদাকে হারিয়ে বলিউড যখন শোকগ্রস্থ, তখন একের পর এক হিট গান গেয়ে অমিত কুমার পিতার অভাব পূরণের চেষ্টা করছিলেন শ্রোতাদের মনে। গায়ক হিসাবে অমিত কুমারের খ্যাতি কিশোর কুমারের জীবিতাবস্থায়ই ছড়াতে শুরু করে। তবে ৮০ এর দশকের শেষ ভাগে অমিতের কাছে একাধিক গানের অফার আসা শুরু করে।

অমিত কুমারের উত্থান একজন স্টারকিড হিসেবেই। শুরুর দিকে তিনি কেবল পিতার কম্পোজিশনেই গান করতেন। ১৯৭৩ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার অন্য কম্পোজারের সুরে কণ্ঠ দেন হোষ মে হাম কাহা গানে, যা ১৯৭৮ সালে প্রকাশ পায়। কিশোর কুমার জীবিতাবস্থায় ১৯৭৬ সালে বড়ে আচ্ছে লাগতে হ্যায় গানটি গেয়ে তিনি প্রমাণ করে দেন আগামী দিনে বলিউডের বড় শিল্পী হতে যাচ্ছেন তিনি। গানটি সেই সময় চার্টবাস্টার হয়। এরপর পিতার সাথে আতি রাহেঙ্গি বাহারে গানটি গেয়েও বেশ প্রশংসিত হন অমিত। এমনকি ১৯৮১ সালে ইয়াদ আ রাহি হ্যায় গানটির মাধ্যমে প্রথম ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ডও পেয়ে যান। ১৯৮০ সালের চার্টবাস্টার লায়লা ও লায়লা গানে কণ্ঠ দেন, এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। কিশোর কুমারের জীবদ্দশায় অমিতের আরও কিছু হিট গান হল; দুশমন না কারে, রোজ রোজ আঁখো তালে, পেহলে পেহলে পেয়ারকি, ইয়ে তুঝে কেয়া হুয়া ইত্যাদি।

কিন্তু অমিত কুমারের রাস্তা কণ্টকমুক্ত ছিল না মোটেই। সেই যুগে আরও এক স্টারকিড অর্থাৎ প্রয়াত মহান গায়ক মুকেশের সুপুত্র নিতিন মুকেশ ইতোমধ্যে স্টার। নিতিন মুকেশ ৭০ এর দশক থেকেই নিয়মিত গান করেন এবং ৮০ এর দশকে অমিত যখন নিজের জায়গা শক্ত করার প্রয়াসে আছেন, তখন নিতিন মুকেশ রীতিমত জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। নিতিন মুকেশ তার ক্যারিয়ারে অল্প সংখ্যক গান করেছেন, কিন্তু তার বেশির ভাগ গানই সুপারহিট। নিতিন মুকেশের কণ্ঠে চমৎকার কিছু গান হল; সো গায়া ইয়ে জাহা, জিন্দেগি কি না টুটে লাড়ি, আজা রে, দিলনে দিলসে কেয়া কাহা, ইস জাহা কি নাহি, যায়সি করনি ভয়সি ভরনি, ভো কেহতে হ্যায় হামসে, জিন্দেগি হার কদম, মেরে খেয়াল সে ইত্যাদি।

তবে নিতিন মুকেশ তার পিতার মতই কখনও অসংখ্য গানের প্রতি ছুটেননি, বরং গানের মানের দিকেই বেশি জোড় দিয়েছেন। তাই নব্বই দশকের শুরুর দিকে একাধিক নতুন গায়কের আবির্ভাব ঘটলে নিতিন মুকেশের কাজ অনেকটাই কমে আসে।

এদিকে অমিত কুমারের ক্যারিয়ারের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী হয়ে চলেছে। কিশোর কুমারের পরে অমিত কুমার স্বতন্ত্র পরিচয়ে কাজ করে যেতে থাকেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য পান তেজাব মুভির গান কেহদো কে তুম মেরে হো এবং এক দো তিনের মাধ্যমে। এরপর তিনি আরও একটি হিট গানের ভাগিদার হন ওয়ে ওয়ে; তিরচি টোপিওয়ালে। গানটি সেই যুগে এক এ্যান্থামে পরিণত হয়। ১৯৯০ সালের সানাম মেরে সানাম গানটি আজও শ্রোতাপ্রিয়তার শীর্ষে আছে। সালমান খানের বাঘি মুভির “কায়সা লাগতা হ্যায়” গানটির কথা কে ভুলতে পারে? এছাড়া অমিত কুমারের আরও কিছু জনপ্রিয় গান হল; দিওয়ানা দিল দিওয়ানা, কাজল কাজল তেরি আঁখোকা, ম্যায় জিস দিন ভুলা দু, পেয়ার তুম মুঝসে, নজরে মিলি, রিমঝিম রিমঝিম বারসে ইত্যাদি।

অমিত কুমার কিংবা নিতিন মুকেশদের সমসাময়িকে তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন আরেক বাঙ্গালী গায়ক মোহাম্মদ আজিজ। সেই সময় মোহাম্মদ আজিজও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় গান করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু লক্ষণীয় যে সংখ্যায় বেশি গান করলেই কেউ হিট গায়ক হতে পারে না। মোহাম্মদ আজিজের অসংখ্য গানের মধ্যে কেবল হাতে গোনা কিছু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। আজিজ সাহেবের ক্যারিয়ারের একমাত্র স্মরণীয় গান হতে পারে নিতিন মুকেশের সাথে রাম লখন মুভির “ওয়ান টু কা ফোর” গানটি। এছাড়া তার গাওয়া গুটি কয়েক উল্লেখযোগ্য গান এ ওয়াতান তেরে লিয়ে, ম্যয় তেরি মোহাব্বাত মে, মেরে দো অনমোল রতন, খুদা গাবাহ ইত্যাদি।

সেই সময়ের কম্পোজারদের মধ্যে কেবল লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল এবং বাপ্পি লাহড়িই তাকে সুযোগ দিয়েছেন বেশি। তবে লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল কম্পোজিশন থেকে অবসর নিলে মোহাম্মদ আজিজ আর তেমন কিছুই করতে পারেননি।

তবে অমিত কুমার কেন বেশি দিন টিকে থাকতে পারলেন না? অমিত চাইলে নিজের ক্যারিয়ারটা আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন। কিন্তু ১৯৯৪ সালে তার প্রিয় কম্পোজার আরডি বর্মনের মৃত্যু হলে অমিত অভিযোগ করলেন যে বলিউডে এখন আর আগের মত কোয়ালিটি মিউজিক হয় না। এই বলে তিনি নব্বই এর মাঝামাঝিতে অবসর নেন।

অমিত কুমারের স্বেচ্ছায় সরে যাবার পর নতুন প্রজন্মের সিঙ্গারদের মধ্যে বিনোদ রাথোর, রূপকুমার রাথোর, পংকজ উদাস, মনহর উদাসদের লড়াই চোখে পড়ার মত ছিল। কিন্তু সবাইকে পেছনে ফেলে নব্বইয়ের দশকে যে দুজন সিংহাসন দখলে একেবারে শীর্ষে উঠে আসেন তারা হলেন কুমার শানু এবং উদিত নারায়ণ। এই দুজনের সাথে জোড়ের সাথে টিকে থাকার প্রয়াস করেন বিনোদ রাথোর।

‘৮৬ সালে বলিউডে পা রাখলেও বিনোদ রাথোর তার ক্যারিয়ারে প্রথম চার্টবাস্টার গান দেন ১৯৯২ সালে শাহরুখ খানের ডেব্যু দিওয়ানা্তে আইসি দিওয়ানগি এবং কই না কই চাহিয়ে। এরপর তার কাছে কম্পোজারদের ফরমাশ অহরহ বেড়ে যায়। বিনোদ রাথোরের নায়ক নাহি খলনায়ক গানটি ঐ সময় সবার মুখে মুখে রটে যায়। এরপর ১৯৯৩ সালে শাহরুখ খানের বাজিগর মুভিতে এ মেরে হামসাফার, কিতাবে বহুত, ছুপানা ভি নাহি আতা গানগুলো গেয়ে বাজিমাত করেন। বিনোদ রাথোরের আরও কিছু হিট গান; দুনিয়ারে দুনিয়া ভেরি গুড ভেরি গুড, ঢোলিতারো ঢোল বাজে, মুন্নাভাই এমবিবিএস, নাম্বার এক গাওয়াইয়া, ইয়ারা ও ইয়ারা, চাহাত না হোতি, মেরি বাপ কি বেটি, কেয়া ম্যায়নে আজ শুনা, পেয়ার তু দিল তু, স্টাইল মে রেহনে কা, কানকে নিচে, তুম টাটা হো, লাগে রাহো মুন্নাভাই ইত্যাদি। তবে সেই সময় কুমার শানু এবং উদিত নারায়ণ যে ক্রেজ তৈরি করেছিলেন, তার সামনে কেউই এতটা জনপ্রিয়তা পাননি।

কুমার শানু ১৯৮৯ সালে বলিউডে ডেব্যু করেন। তিনি ছিলেন প্রয়াত কিশোর কুমারের ভক্ত এবং বলিউডে আসার আগে কোলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরায় কিশোর কুমারের গান গেয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। এমনও ঘটনা আছে যে শানুদা একবার কিশোরদার দুটো গান গেয়ে ১৪ হাজার টাকা বকশিস পেয়েছিলেন। শানুদা ১৯৮৯ সালে বলিউড ডেব্যুর পরের বছরই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্রেক পান আশিকি মুভির মধ্যমে। এটাও একটা রেকর্ড। অভিষেকের এত কম সময়ের মধ্যে এতটা ফেইম কেউ কামাতে পারেনি সেই সময়। আশিকি, যা ছিল মূলত একটা পপ এ্যালবাম, তার গানগুলো মহেশ ভাট এতটাই পছন্দ করেন যে তিনি গানগুলোর উপরেই মুভির স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলেন। এটাও একটা রেকর্ড যে একটা মুভির স্ক্রিপ্ট লিখা হয়েছে একটি পপ এলবামের উপর। আর আশিকি সেই সময় কেমন ঝড় তুলেছিল তার ধারনা সবাই করতে পারেন এখনও।

Kumar Sanu, source: hindustantimes.com

অন্যদিকে শানুদার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী উদিত নারায়ণের শুরুটা একদমই ঘটনাবহুল ছিল না। নেপালের অধিবাসী উদিতজি ৭০ এর দশকের শেষের দিকে বোম্বে আসেন সগীতে স্কলার করতে। সেই সময় বলিউডে মোহাম্মদ রাফি এবং কিশোর কুমারদের সাথে দু’এক লাইন গাওয়ার সুযোগ পেতেন বৈকি। কিন্তু ভিনদেশী উদিত একদিন বলিউডের সিংহাসনে বসবেন এটা ছিল তখন একটা রম্য পরিহাস মাত্র। প্রায় আট বছর টুকটাক গান করার পর ধৈর্যের ফল পান উদিতজি ১৯৮৮ সালে। মুভিটির নাম সবার জানা; আমির খানের ডেব্যু ফিল্ম কেয়ামতসে কেয়ামত তক। ঐতিহাসিক দুটো গান, যা উদিতের জীবন বদলে দেয় এ মেরি হামসাফার এবং পাপা কেহতে হ্যায়। ২য় গানটির জন্য উদিত প্রথমবার ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড পান। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট গান গেয়ে পুরো ৯০ দশক মাতিয়ে রাখেন নারায়ণ সাহেব।

উদিতজি যখন চার্টবাস্টার গান গেয়ে যাচ্ছিলেন তখন তার সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কুমার শানু। শানুদা এরকম ঝোড়ো গতিতে আগাচ্ছিলেন যে তাকে ধরতে উদিতজিও মাঝে মাঝে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিলেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ এই পাঁচ বছর টানা ফিল্মফেয়ার বেস্ট মেল সিঙ্গার দখল করে নেন কুমার শানু, যে রেকর্ড আজও অটুট আছে। এর মাঝে একাধিক বার নমিনেশন পেয়েও উদিতজি এওয়ার্ড দখল করতে পারেননি। অবশ্য পরবর্তীতে ৪টি সহ মোট ৫টি ফিল্মফেয়ার পেয়েছেন উদিত নারায়ণ। তবে কুমার শানুর নামে আরও আছে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড। ২৪ ঘণ্টায় টানা ২৮টা গান রেকর্ড করে তিনি এই কীর্তি গড়েন। পুরো ৯০ দশক জুড়ে পায়ে পা ফেলে এগিয়ে যান এই দুই তারকা। কুমার শানুর ক্লূাসিক কিছু গান; আশিকি (এলবাম), জাব কই বাত, মেরা দিলভি কিতনা, দিল হ্যায় কে মানতা নাহি, তু পেয়ার হ্যায় কিসি আওর কা, তুমহে আপনা বানানে কি, দিওয়ানা (এলবাম), বাজিগর ও বাজিগর, ইয়ে কালি কালি আঁখে, মুঝসে মোহাব্বাতকা, আদায়ে ভি হ্যায়, এক লাড়কিকো দেখা তো, রাহমে উনসে, চুরাকে দিল মেরা, জিতা থা জিসকে লিয়ে, জারা তাসবিরসে তু, তুঝে দেখা তো ইয়ে, সাজানজি ঘর আয়ে, আঁখো কি গুস্তাকিয়া, যাতি হু ম্যায় ইত্যাদি।

আবার উদিত নারায়ণের ভাগেও এক বিরল রেকর্ড আছে। হিন্দী মিউজিক ইতিহাসে তিনিই একমাত্র গায়ক যার ভাগে ৮০, ৯০ এবং ২০০০; এই তিন দশকে ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড জেতার নজির আছে। অর্থাৎ তিন দশকেই ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড পেয়েছে এরকম গায়ক একমাত্র তিনিই। উদিতজির কিছু ক্লাসিক গান; মুঝে নিন্দ না আয়ে, তুমহি হামারি হো মনজিল, বিন তেরে সানাম, ধকধক করনে লাগা, পেহলা নাশা, যাদু তেরি নাজার, তু চিজ বড়ি হ্যায়, মেহেদি লাগাকে রাখনা, কিতনা পেয়ারা তুঝে, রাজাকো রাণীসে, দিল তো পাগল হ্যায় (এলবাম), এ আজনাবি, কুছ কুছ হোতা হ্যায় (এলবাম), মন (এলবাম), চান্দ ছুপা ইত্যাদি।

২০০০ এর দশক:

৯০ থেকে ২০০০ এর আগ পর্যন্ত কুমার শানু যে পরিমাণ চার্টবাস্টার গান করেছেন, ২০০০ এর দশকে তার অনেকটাই হার কমে আসে। শানুদার ক্লাসিক গান বলতে নব্বই দশককেই বোঝানো হয়। একদিকে কুমার শানুর গ্রাফ নামতে থাকে অন্য দিকে ২০০০ দশকের প্রথম ভাগে উদিত নারায়ণের ক্যারিয়ার উচ্চ থেকে উচ্চতর পর্যায় পৌছে যায়। এই দশকে উদিতের কিছু চার্টবাস্টার গান; দিলনে ইয়ে কাহা হ্যায়, হামকো হামিসে, তেরে নাম (এলবাম), ম্যায় ইয়াহা হু, খাইকে পান ইত্যাদি।

তবে এই দশকেও একচ্ছত্র অধিপতি হতে পারেননি উদিত নারায়ণ। গত দশক থেকেই কুমার শানু ও উদিতজির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজিত নব্বই দশকের শেষ দিকে হঠাৎ করেই সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে চলে আসেন শাহরুখ খানের ইয়েস বস মুভির “ম্যায় কই এয়সা গীত গাউ” গানটির মাধ্যমে। ১৯৯৮ সালে এই গানটি গেয়ে তিনি প্রথমবার ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড পান। এর আগে তার একাধিক গান, বিশেষ করে কিং খানের জন্য গাওয়া তার প্রতিটা গানই চার্টবাস্টার হয়। যেমন; বড়ি মুশকিল হ্যায়, , বাদশাহ (এলবাম), জারাসা ঝুমলু ম্যায়, মেরে খেয়ালো কি মালিকা, চলতে চলতে (এলবাম), রশনি সে, তুমহে জো ম্যানে দেখা ইত্যাদি। এছাড়া ৯০ দশকে তার আরও কিছু হিট গান ওলে ওলে, ওয়াদা রাহা সানাম, আ আ এ’ই ও উ অ’ও ইত্যাদি।

এই সময় বলিউডে অভিজিত নিজের একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে কুমার শানুর অধঃপতনের পর তিনি একাধিক হিট গানের ভাগীদার হতে লাগলেন। ২০০০ এর দশকে তার আরও কিছু হিট গান তুম দিলকি ধড়কন মে, ম্যায় আগার সামনে ইত্যাদি।
তবে এই খ্যাতিও তিনি বেশিদিন ধরে রাখতে পারলেন না। ক্যারিয়ারের শেষের দিকে বেশ কিছু বিতর্কে জড়িয়ে তিনি বলিউড থেকে এক প্রকার বিতাড়িতই হয়ে গেলেন। তাছাড়া যে শাহরুখের জন্য তিনি একাধিক হিট গানের হকদার, সেই শাহরুখের সাথেই ঝগড়ায় জড়ালেন অকারণে। এদিকে তার জায়গা কেড়ে নেয়ার জন্য ততদিনে সনু নিগাম আর শানরা প্রস্তুত হয়েই আছেন।

Shaan-Sonu Nigam, source: indianexpress.com

অভিজিত একদিকে পতিত হলেন, অন্যদিকে সনু আর শানের উন্নতির চাকা ঘুড়তে লাগল। সনু নিগমের শুরুটা উদিত নারায়ণের মতই ছিল সাদামাটা। ১৯৯৩ সালে তিনি বলিউডে পা রাখেন। কিন্তু ‘৯৭ এর আগ পর্যন্ত তিনি বলিউডে ছিলেন আন্ডার-এস্টিমেটেড। বড় বড় শিল্পীদের দাপটে তিনি ছিলেন নিতান্তই আনারী। কিন্তু সনুজি কখনও হতাশ হননি। তিনি সোজা পথ ছেড়ে ধরলেন বাকা পথ। বলিউডে কিছু হচ্ছে না তো কী, মোহাম্মদ রাফিকে আইডল মেনে তিনি তার গান কভার করে একটা পপ এলবাম বের করলেন। তখন ছিল ভারতে পপ এলবামের স্বর্ণযুগ। এই এলবাম দিয়েই তিনি বোদ্ধাদের নজরে এলেন। এখানেই থেমে থাকেননি সনু। নিজ উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে তৈরি করলেন ছোট পর্দার প্রথম সিংগিং রিয়ালিটি শো সারেগামা। অতঃপর এল ১৯৯৭ সালে একই সাথে দুই দুইটা চার্টবাস্টার গান। সন্দেসে আতে হ্যায় এবং ইয়ে দিল দিওয়ানা গান দুটো সনু নিগমের ক্যারিয়ার একদম বদলে দিল। জন্ম নিল আগামীর তারকা। কিন্তু বাঁকা পথেও তিনি একা রাজত্ব করতে পারলেন না। তারই মত যে বাঁকা পথ ধরেই আগাচ্ছিলেন শান।

শানের পথচলা জিঙ্গেল গায়ক হিসেবে। সেই সাথে পুরোনো গানের কভার ও রিমিক্স করে যাচ্ছিলেন তিনি এবং পপ এলবাম করে খুব জনপ্রিয়তা ভোগ করছেন। একদিকে সনুর দিওয়ানা এলবাম হিট হল অন্যদিকে শানের তানহা দিল এলবামটিও পিছিয়ে নেই।
১৯৯৯ সালে শান বলিউডে প্রথম ব্রেক পান মুসু মুসু হাসি গানটির মাধ্যমে। এরপর তার গান ও পেহলি বার চার্টবাস্টার হয়। এখান থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি শানকে। একের পর এক হিট গান গেয়ে যান। কিন্তু সনু নিগম, যাকে মডার্ন রাফিি বলা হয়, ২০০০ এর দশকে তিনি যে গতিতে আগাচ্ছিলেন, তাকে ধরতে এমনকি উদিত নারায়ণও হিমশিম খাচ্ছিলেন। একটা সময় সনু বলিউডের হায়েস্ট পেইড সিঙ্গারের মর্যাদাও অর্জন করেন।

২০০০ সালে সনু নিগম প্রথম সাফল্য পান রেফুজি মুভির সব গান গেয়ে। বলিউডের প্রথম ম্যাশাপ গান হাম হ্যায় রাহি পেয়ারকেও সনুর গাওয়া। কিং খান এবং ভাইজানের একাধিক চার্টবাস্টার গান রয়েছে সনুর কণ্ঠে। সনুজির এত হিট গান যার বিশাল তালিকা করা যাবে। কিছু ক্লাসিক গান; রুকি রুকি, মুঝে রাত দিন, তানহাই, জানে দিলমে কাবসে, সাথিয়া, কাভি আলবিদা, সুরাজ হুয়া মধ্যম, চোরি কিয়ারে জিয়া, আভি মুঝমে কাহি, সাপনা জাহা, কায়সা সিলা দিয়া, ইশক কামিনা, কাল হো না হো, ম্যায় হু না, দো পালকি, ম্যায় আগার কাহু, মেরে হাত মে, অল ইজ ওয়েল, জিনেকে হ্যায় চার দিন, সুন জারা ইত্যাদি।

অন্যদিকে শানেরও কম হিট গান নেই। যেমন; তুনে মুঝে পেহচানা নাহি, কই কাহে, ভো লাড়কি হ্যায় কাহা, নিকাম্মা কিয়া, দিলনে তুমকো, It’s The Time To Disco, মোোহাব্বাত হ্যায় মিরচি, লাড়কি কিউ, ম্যায় এয়সা কিউ হু, বিন্দাস, শিকদুম, দাস বাহানে, ম্যায় হু ডন, চান্দ সিফারিশ, বাম বাম বলে, জবসে তেরে নেয়না, দাস্তানে ওম শান্তি ওম, You’re My Love, হে সোনা ইত্যাদি।

২০০০ এর দশক থেকেই বলিউডে নতুন সিঙ্গারদের চাহিদা বাড়তে থাকে। সূতরাং একজন সিঙ্গারের পক্ষে পুরো দশ বছর রাজত্ব করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা ২০০০ এর দশককে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। ২০০০ এর দ্বিতীয়ার্ধে শানকে জোড় চ্যালেঞ্জ দেন কেকে এবং আতিফ আসলাম। অন্য দিকে সনু নিগমের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ান রাহাত ফাতেহ আলি খান। উদিত নারায়ণের যুগ ততদিনে শেষ হল বলে। একদিকে পাকিস্তানি দুই গায়ক রাহাত এবং আতিফের হঠাৎ করেই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা, অন্যদিকে ইমরান হাশমির হয়ে একের পর এক হিট গান গেয়ে যাওয়া কেকে; এরা শান ও সনুর অবস্থান টলাতে যথেষ্ট ছিলেন।

রাহাত ও আতিফের উত্থান কাছাকাছি সময় যথাক্রমে জিয়া ধড়ক ধড়ক এবং ভো লামহে গানের মাধ্যমে। তখনও কেউ ভাবেনি এই ভিনদেশী দুই জন ভবিষ্যতে বলিউডে কী করতে পারেন। পরবর্তী বছরগুলোতে তারা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। আতিফ আসলাম ভারতে কখনও এওয়ার্ড পাননি, কিন্তু তার ক্রেজ কোনো এওয়ার্ড দিয়ে পরিমাপ করাটাও বোকামি। ওদিকে তাড়াপ তাড়াপ দিয়ে কেকের রাজকীয় অভিষেক তো ক’বছর আগেই হয়ে গেল। কিন্তু তখন শানের কাছে প্রতিনিয়ত কেকে হেরে যাচ্ছিলেন প্রায় ৪/৫ বছর ধরে। অতঃপর ইমরান হাশমি আর প্রিতমের সংস্পর্শে কেকে জ্বলে উঠলেন আপন শক্তিতে। এরকম আলো ছড়ালেন যে ক্রমেই ফিকে হয়ে এল শানের আলো। কেকের কিছু ক্লাসিক গান; পাল, ইয়ারো, সাচ কেহ রাহা হ্যায়, দিলনাশি, তু হি মেরি শব, তেরি ইয়াদো মে, কেয়া মুঝে পেয়ার হ্যায়, লাবো কো, আলবিদা, আজব সি, বিতে লামহে, খুদা জানে, জারা সি, নাজরে কারাম, হ্যায় জুনুন, দিল ইবাদত, লাপাতা, তুঝে সোচতা হু, দিল আজকাল, তু জো মিলা ইত্যাদি।

তবে এই সময় কেকে কে আতিফের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে হয়েছে। কারণ আতিফও তখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। আতিফের কিছু ক্লাসিক গান; আদত, তেরে বিন, পেহলি নজর, বাখুদা, তেরা হোনে লাগা হু, তু জানে না, প্রিন্স (এলবাম), লেজা তু মুঝে, পিয়া ওরে পিয়া, ম্যায় রং শরবতো কা, জিনা জিনা, তু চাহিয়ে, মার জায়ে, তেরে সাং ইয়ারা, টুটা জো কাভি তারা, দিল দিয়া গাল্লা, ও সাথি, দেখতে দেখতে ইত্যাদি।

লক্ষণীয় যে পাকিস্তানি গায়ক রাহাত এবং আতিফ বলিউডে হাতে গোনা কিছু গান করলেও তাদের ৯৫% গানই হিট। অর্থাৎ একজন রেগুলার বলিউড সিঙ্গারের চেয়েও অনেকাংশে সফল এই দুজন। রাহাত সাহেবের কিছু ক্লাসিক গান; নেয়না ঠগ লেঙ্গে, বলনা হালকে হালকে, জগ সুনা সুনা, ম্যায় জাহা রাহু, ওরে পিয়া, তেরি ওর, আজ দিন চাড়েয়া, সুরিলি আঁখিয়োওয়ালি, সাজদা, দিলতো বাচ্চা হ্যায় জি, তুমজো আয়ে, তেরে মাস্ত মাস্ত, আস পাস খুদা, তেরি মেরি, ইশক রিস্ক, চাহাত, দাগাবাজ রে, জগ ঘুমেয়া, তেরে বিন, মেরে রাশকে কমড় ইত্যাদি।

এই দশকে আরেক জনের ক্যারিয়ার স্মরণীয় হতে পারত, কিন্তু তিনি নিজ দোষে নিজের ধ্বংস ডেকে এনেছেন। হিমেশ রেশামিয়া, যিনি প্রায় তিন বছর বলিউডে গায়ক হিসেবে সাফল্য পেয়েছেন হঠাৎ করেই ঘোষণা দিলেন এখন থেকে নিজের অভিনীত মুভিতেই কেবল গান করবেন। এই অতি আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্তই তাকে নিচে নামিয়ে দেয়। একের পর এক ফ্লপ মুভির পরে তিনি আর ঘুরে দাঁড়াতেই পারলেন না। আজ বলিউডও তাকে প্রায় ভুলতে বসেছে।

২০১০ এর দশক:

কেকে, রাহাত এবং আতিফ আসলামরা এই দশকের শুরুতেও চমৎকার ভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তাদেরকে পেছনে ফেলে হঠাৎ করে যিনি এগিয়ে গেলেন, তার নাম মোহিত চৌহান। অপর দিকে আপবিট গানের জন্য কম্পোজারদের পছন্দের শীর্ষে উঠে আসেন মিকা সিং।

মোহিতের প্রথম হিট গান ২০০৭ সালে তুৃমসে হি, যার মাধ্যমে তিনি প্রথম বার সবার নজরে আসেন। আর মিকা সিং দু’একটা হিট গান এবং কিছু বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডে মোটামুটি পরিচিত নাম। তবে দুজনই ক্যারিয়ারে প্রকৃত সাফল্য পান ২০১০ এর পর

তুমসে হি’র পরে মাসাক্কালি দিয়ে মোহিত নিজের জাত চেনান। এরপর ইয়ে দুরিয়া দিয়ে নামের সাথে আরও একটি হিট গান যুক্ত করেন। আবার মিকা সিং দিলমে বাজি গিটার, গনপাত, মজাই মজা, সিং ইজ কিং গানগুলো দিয়ে আপবিট গানের মূল চাহিদায় পরিণত হন। ২০১০ এর দশকে তার বাকি হিট গান; আঁখ মারে, হাওয়া হাওয়া, ৪৪০ ভোল্ট, আজ কি পার্টি, গান্দি বাত, জুম্মে কি রাত, পুঙ্গি, তাকি তাকি, চিন্তা তা চিতা, ঢিংকাচিকা ইত্যাদি

এদিকে মোহিত ভাল ভাল গানের দেখা পাচ্ছিলেন ঠিকই, কিন্তু ক্যারিয়ারে গতিময়তা ছিল না ২০১১ এর আগ পর্যন্ত। অতঃপর সেই স্বপ্নের এলবাম, যা প্রতিটি স্ট্রাগলিং সিঙ্গারের জন্য দরকার; রকস্টার প্রকাশ পেল আর মোহিত চৌহান হয়ে গেলেন একজন সিঙ্গার থেকে বলিউডের একজন লিজেন্ড। চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে গেল এবং এই এলবামের ক্রেজ আজও অবিকৃত। মোহিতের কিছু ক্লাসিক গান; কুছ খাস, তুনে জো না কাহা, তুঝে ভুলা দিয়া, পি লু, ভিগি সি ভাগি সি, আভি কুছ দিনোসে, সাইয়ারা, রবকা শুকরানা, শ্বাস মে তেরি, বেজুবান, তুহি জুনুন, তাবাহ, খুদা ভি, চিকেন সং, মটরগাশটি ইত্যাদি।

আজকের সুর-সম্রাট:

বর্তমানে সঙ্গীত সাম্রাজ্যে কে রাজত্ব করছেন তা আর নতুন করে লিখে বলার দরকার নেই আমি মনে করি। শুধু বলব গায়কীর ধরন বা ভয়েস টোন কুমার শানুর সাথে একদমই মিলে না যার, সেই অরিজিৎ সিংয়ের ভাগ্যটা যেন শানুদার কার্বন কপি। ২০ বছর আগে আশিকি দিয়ে কুমার শানু তার সমসাময়িক সবাইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান। আর ২০ বছর পর আশিকি ২ দিয়ে অরিজিৎ সিংও যেন একই চিত্রনাট্য পুনরায় লিখলেন। অরিজিতের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী যদি কেউ থাকেন তিনি ছিলেন আতিফ আসলাম। আতিফ বলিউড থেকে বয়কট হবার পর আজ অরিজিতের সাথে পাল্লা দিতে পারে এমন কেউই আর নেই।

ভবিতব্য সুর-সম্রাট:

অরিজিৎকে টপকাতে পারে এমন কেউ আজও বলিউড পায়নি। অরিজিতের সামনে একাধিক রেকর্ড অপেক্ষা করছে। তিনি ৫টি ফিল্মফেয়ার পেয়েছেন, যার সর্বশেষ টানা ৪টি। আগামী বছর পেলে কুমার শানুর রেকর্ড তিনি ভাঙবেন। আবার ৮টি ফিল্মফেয়ার পেলে তিনি ভাঙবেন কিশোর কুমারের রেকর্ড। তিনি কি পারবেন? নাকি তার আগেই নতুন কেউ দখল করে নিবে অরিজিতের সিংহাসন?

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button