সিনেমা হলের গলি

পিলে চমকে দেওয়া বলিউডের কিছু প্রেমকাহিনী

নামিরা সারাহ টুইন্কল:
প্রেম কী? কোথা থেকে আসে এই প্রেম? কেনই বা এসে? প্রেম কি হিসেব কষে হয়? প্রেমে পড়লে কি মানুষের হিতাহিত বোধ থাকে? প্রেমে পড়লে মানুষ অন্ধ হয়ে যায় কেন? প্রেম মানুষকে কি দুর্বল করে কিংবা একই সাথে সাহসী করে তোলে? প্রেমের এত শক্তি কোথায়?
যত কথাই বলি না কেন, প্রেম নিয়ে বলিউডের তারকাদের বেলায় এ সূত্র খাটে না, ঠিক যেমনটি তাদের মুভিতেও মাঝে মাঝে প্রেম সব ধরনের ব্যবধান ঘুচে দেয়। সেটা সামাজিক অবস্থানের হোক, বয়সের ব্যবধানের হোক কিংবা বৈবাহিক অবস্থানের হোক। তাই বলিউড তারকারা কখনোই হিসেব করে প্রেমে পড়তে পারেন না।
বলিউডে প্রেমের কথা বললেই একসময় রাজকাপুর-নার্গিস, দীলিপ কুমার-মধুবালা কিংবা গুরু দত্ত-ওয়াহিদা রহমানের কথাই মনে হত। আর এ যুগের ছেলেমেয়েদের কাছে প্রেমের কথা বলতে আলিয়া-রনবির, দীপিকা-রনভির কিংবা সালমান-অ্যাশ, কারিনা-শহীদের কথাই মনে পড়বে।
তবে এর মাঝামাঝি সময়েও কিছু প্রেমকাহিনী রয়েছে, যেগুলো পিলে চমকে দেবার মতো। কেন, কীভাবে, কী কারণে হয়েছিল সেইসব প্রেম, তাদের পরিণতি কী হয়েছিল, আজ সেইসব প্রেমকাহিনী নিয়েই লিখব।
ড্রিমগার্লের প্রেম:
সত্তরের দশকের শুরুতে রাজকাপুরের বিপরীতে “সাপনো কি সওদাগর ” মুভির মধ্য দিয়ে এক অভিনেত্রীর আগমন হয়। অল্প দিনেই তিনি হয়ে ওঠেন বলিউডের স্বপ্নসুন্দরী। সেই সময় হিন্দি ছবির সব নায়কই ছিলেন তার জন্য পাগল। তবে এগিয়ে যান সঞ্জীব কুমার। হেমার মনের কথা জানার জন্য তার নায়কদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সেখানে তিনি সঞ্জীব কুমার সম্পর্কে ইতিবাচক বক্তব্য দেন। “সীতা অউর গীতা” মুভির শুটিং চলাকালে তাদের প্রেম আরো গভীর হয়। সেই সময় বিয়ের প্রস্তাব দেন হেমাকে সঞ্জীব কুমার। কিন্তু হেমা এক সাক্ষাৎকার এ বলেন,”আমি সঞ্জীবকে খুব পছন্দ করি, কিন্তু প্রেম,বিয়ে সব সময় আসলেও সাফল্য, শীর্ষ স্থান সবার হাতে আসে না। আমি সাফল্য নিয়েই থাকতে চাই।”

এদিকে ধীরে ধীরে হেমার পরিবারের পারিবারিক বন্ধু হয়ে ওঠেন সঞ্জীব। একসময় হেমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। শর্ত দেন, বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু হেমার মা এ প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। তাই হেমা মালিনী তার মায়ের বিরুদ্ধে যাননি। আস্তে আস্তে হেমা-সঞ্জীবের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হলে সেই জায়গায় আসেন ধরমেন্দ্র। বিবাহিত ধরমের সাথে হেমার বাবা মা পছন্দ করতেন না। হেমার আরেক অন্ধপ্রেমিক জিতেন্দ্রকে তারা বেশি পছন্দ করতেন। তাই বাবা মায়ের জেদের কারনে জিতেন্দ্রকে বিয়ে করতে রাজি হন হেমা।

কিন্তু বিয়ের দিন ধরমেন্দ্র এসে হেমার কাছে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। হেমার মন গলে যায়। তিনি অতিথিদের এসে বলেন, “আমরা কি বিয়েটি কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে দিতে পারি?” জিতেন্দ্র বুঝতে পারেন তিনি হেমাকে হারিয়েছেন। তাই ছোটবেলার বন্ধু শোভাকে বিয়ে করেন। এদিকে ১৯৭৬ সালে সঞ্জীব কুমার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে,তাকে দেখতে হেমা হাসপাতালে যান। সঞ্জীবের মাকে নিজের বাড়িতে দাওয়াত করে খাওয়ান। এদিকে ধরমেন্দ্র পত্রিকায় হেমার প্রতি তার দুর্বলতার কথা জানান। ধরম, সঞ্জীব দুজনকে বাদ দিয়ে হেমার মা গিরিশ কারনাড এর সাথে মেয়ের রিলেশন গড়ার চেষ্টা করেন। আর হেমা-ধরমেন্দ্র স্টার-ডাস্ট ম্যাগাজিনের কভারে আসেন। হেমা ঘোষণা দেন, “আমার পক্ষ থেকে সারাজীবনের জন্য এ সম্পর্ক।”

১৯৮০ সালের মে মাসে ধরমেন্দ্র-হেমা বিয়ে করেন। এরজন্য তারা মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। তবে দর্শকরা তাদের এই বিয়ে মেনে নিলেও হেমার মা ও সঞ্জীব কুমার মেনে নিতে পারেননি।

তবে হেমা বিয়ের পর দেওল পরিবারে স্থান পাননি। ধরমেন্দ্র এর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ বলেন, “ধরমজি ভাল স্বামী না হলেও, সে ভাল একজন বাবা। আমি বুঝতে পারি হেমার মনে কী চলছে কারণ বিয়ে করেও সে পূর্ণাঙ্গ সংসার পাচ্ছে না”। এদিকে হঠাৎ করে ধরমেন্দ্র প্রথম সংসারের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠেন। এদিকে হেমার দুই মেয়ে মায়ের সান্নিধ্যে বড় হতে থাকে। হেমা মালিনী এক সাক্ষাৎকারে জানান তার জীবনের একমাত্র ভুল হল, একজন বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করা। নাহলে ফিল্ম,রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে সফল বলে মনে করেন।

সুপারস্টারের প্রেম:

রাজেশ খান্নাকে বলা হয় হিন্দি মুভির প্রথম সুপারস্টার। তার জনপ্রিয়তা পরিমাপ করতে হিমশিম খেতে হত মুভি ক্রিটিকসদের। কুমারী কিংবা বিবাহিত, সব রকমের মেয়েদের ফ্যান্টাসি ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময় তার জীবনে কে ছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় এক ফিল্মি পত্রিকায়। সেখানে অঞ্জু মহেন্দ্রুর (ডারটি পিকচার মুভিতে যিনি বিদ্যার সমালোচনা করতেন সেই মহিলা সাংবাদিক) ছবি ছাপা হয়। ততদিনে তাদের রিলেশনের ৫ বছর পার হয়ে গেছে। কিছুদিন পর রাজেশ খান্না তার জন্মদিনে অঞ্জুর সাথে তোলা ছবি ছাপিয়ে বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানান। তার মেয়ে ভক্তরা ক্ষেপে গিয়ে হুমকি দেয় রাজেশকে। তাই তিনি বিয়ের প্ল্যান বাতিল করেন। এই সময় তাদের সম্পর্কে ভাঙন ধরায় রাজেশের দুই তিনটি ফ্লপ মুভি। রাজেশ খান্না সহজভাবে নিতে পারেননি এই বিষয়টি। খিটখিটে হয়ে যায় তার মেজাজ।
এই সময় সবাই বিস্মিত হন রাজেশ যখন ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে “ববি” খ্যাত কন্যা ডিম্পলকে বিয়ে করে চলে যান হানিমুনে। ব্যাপারটা ডিম্পলের জন্য রুপকথার মতো ছিল, কারণ দেশের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরুষ তাকে বিয়ে করেছেন।

কিন্তু এই রুপকথা বাস্তবে পরিণত হতে বেশি সময় নেয়নি। “রোটি ” ছবির শুটিং এ গিয়ে রাজেশ মুমতাজের প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। অবহেলা করতে শুরু করেন প্রেগন্যান্ট ডিম্পলকে। এ ব্যাপারে ডিম্পল জানান, “আমি ছিলাম চরম বোকা। হানিমুনে গিয়েই আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগে। আমাকে সে নাম ধরে ডাকতে দিত না। আর আমি বোকার মতো আবদার করতাম। সে ছিল এক পাথর পুরুষ।”

রাজেশ ডিম্পলের চলাফেরায় খবরদারী শুরু করেন। “ববি” ছবির প্রিমিয়ারে তাকে যেতে দেননি। এইসময় ডিম্পল দিনের ১২ ঘন্টা তাস খেলতেন। রাগ করে ডিম্পল বাড়ি ছেড়ে চলে যান। রাজেশ তাকে ফিরিয়ে আনলেও মনে স্থান দেননি।একদিকে দুই মেয়ে, আরেকদিকে স্বামী, এমন পরিস্থিতি তে ১৯৮০ সালের জুন মাসে ডিম্পল রাজেশের বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন। ডিভোর্সের আবেদন করেন। রাজেশ খান্না তাকে বাধা দেননি। এই সময় তার জীবনে আবার অঞ্জু মহেন্দ্রু ফিরে আসেন। তবে অঞ্জু বিয়ে করেন আমজাদ খানের ভাই ইমতিয়াজ খানকে। এরমধ্যে রাজেশ পেয়ে যান তার ভাষায় “দ্যা আলটিমেট উইমেন” টিনা মুনিমকে। মাদকাসক্তির কারনে সঞ্জয় দত্তের সাথে টিনার রিলেশনের ইতি ঘটে। সঞ্জয় চিকিৎসার জন্য আমেরিকা চলে গেলে মনে কষ্ট নিয়ে “সওতেন” মুভির শুটিংয়ে ফিলিপাইন যান টিনা। সাথে বয়স্ক নায়ক রাজেশ খান্না। ফিলিপাইনের মনোরম পরিবেশে দুজনের ভগ্নমনের মানুষের মনের মিলন হল।

বাবা মায়ের আপত্তি উপেক্ষা করে টিনা হয়ে ওঠেন রাজেশ খান্নার বাড়িতে। তারা তাদের ভালবাসা কতটা খাটি তা প্রমাণ করার জন্য নিত্যনতুন ঘটনার বয়ান করতে থাকেন। তারা দুজনে একই টুথব্রাশ ব্যবহার করতেন। শোনা যায়, এই ৫ বছরের সম্পর্কে টিনা একাধিকবার এবোরশন করান। লিভ টুগেদার করলেও বিয়ের কথা তোলেন টিনা। ডিম্পল রাজেশকে ডিভোর্স দিতে অস্বীকার করেন। আর টিনা মুনিম দুই মাসের সময় বেধে দেন বিয়ের জন্য। রাজেশ তাকে এই সময়ের মধ্যে বিয়ে না করলে তিনি চলে যাবেন। এ বিষয়ে টিনা মুনিম বলেন, “আমি রাজেশকে সময় বেধে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার কথায় গুরুত্ব দেয়নি। সে ভেবেছিল যে মেয়ে আমার সাথে খোলাখুলিভাবে বিছানা শেয়ার করেছে, তাকে বিয়ে করি আর না করি, আমার কাছেই থাকতে হবে।” কিন্তু নির্দির্ষ্ট সময় পর টিনা চলে আসেন রাজেশের বাড়ি ছেড়ে। তাদের প্রেমকাহিনী সেখানেই শেষ হয়।

তবে শুরু হয় আরেক অধ্যায়। ভারতের বিখ্যাত ধনকুবের “রিলায়েন্স” কোম্পানির উত্তরসূরি অনিল আম্বানি টিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কয়েক বছর ডেটের পর তারা বিয়ে করেন। যে বিয়ের আসর হয় মুম্বাইয়ের একটা স্টেডিয়ামে। কয়েক কোটি রুপি খরচ করে এ বিয়েতে এতই জাঁকজমক করা হয় যে সমগ্র মুম্বাইবাসী অবাক হয়ে দেখতে থাকে। এই সময় রাজেশের পাশে এসে দাঁড়ান তার এক সময়ের বান্ধবী অঞ্জু। ততদিনে ইমতিয়াজ খানের সাথে তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। রাজেশ খান্নার জন্মদিনে তার বাংলো সাজাতেন অঞ্জু। কিন্তু তারা তাদের এই সম্পর্ককে অন্যদিকে নিয়ে যেতে নারাজ ছিলেন।

অন্যদিকে ডিম্পলের জীবনেও পানি কম গড়ায়নি। ডিম্পল রাজেশকে ছেড়ে আসার পর তার সম্পর্ক হয় বিজয়েন্দ্রর সাথে। কয়েক বছর টেকে সে সম্পর্ক। কিন্তু ডিম্পল তার মনের মানুষের সন্ধান পান সানি দেওলের মধ্যে। “মঞ্জিল মঞ্জিল” ছবি করতে গিয়েই তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছবির একটি দৃশ্যে সানিকে একটু বেশিই জোড়ে চড় মারেন ডিম্পল। সানি এরপর ডিম্পলের উপর চড়াও হতে থাকেন। আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিবাহিত সানির জীবনে স্ত্রী পূজার চেয়ে শক্ত আসন ছিল ডিম্পলের। তারা কখনো বিয়ের কথা ভাবেননি, অথচ সানি আউটডোরে শুটিংয়ে গেলে তার সঙ্গী হতেন ডিম্পল। অন্যদিকে ডিম্পল হোস্টেলে মেয়েদের সাথে দেখা করতে গেলে তার সাথে যেতেন সানি দেওল। সানির জীবনে প্রবলভাবে ডিম্পলের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলেনি তার পরিবার। কারণ তাদের পরিবারে এ নতুন ঘটনা নয়। তবে ডিম্পল কন্যা টুইংকেল খান্নার ভাগ্য মায়ের চেয়ে ভালই বলতে হয়। স্বামী অক্ষয় বিয়ের আগে যতই ক্যাসানোভা ইমেজের হোক না কেন, বিয়ের পর স্ত্রীর মতামতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

জয়া-অমিতাভ-রেখা:

হিন্দি ছবির কিংবদন্তী অভিনেতা অমিতাভের জীবনে নানা সময়ে নানাভাবে প্রেম এসেছে। আর এই প্রেমের জোয়ারে কখনো ভাসতে গিয়ে কখনো তার নিজের মন ভেঙেছে, কখনো তিনি নিজেই সরে এসেছেন প্রেমের পথ থেকে। অমিতাভের প্রথম প্রেম জয়া ভাদুরীর সাথে যার পরিনতি ছিল বিয়ে। এরপর জিনাত আমান, পারভিন ববির সাথে স্বল্বকালীন সম্পর্কের পর অমিতাভের জীবনে আসেন রেখা। তাদের প্রেম ছিল বলিউডের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

যে রেখা জয়ার জীবনে এসেছিলেন দুঃস্বপ্নের মতো, সেই রেখা একসময় জয়ার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন। সত্তর দশকের শুরুর দিকে তারা ছিলেন প্রতিবেশী। পঁচাত্তর সালের মাঝামাঝি সময়ে অমিতাভ রেখার সম্পর্ক যখন গড়ে উঠেছে, তখন রেখা এক ইন্টার্ভিউতে বলেন, “একটা সময় জয়াকে আমি আমার বোনের মতো দেখতাম। প্রতিদিন তার কাছে ছুটে যেতাম নানা সমস্যা নিয়ে। সে আমাকে উপদেশ দিত। কিন্তু কিছুদিন পর জানতে পারলাম, সে হচ্ছে জেনারেল এডভাইসার। মানুষের সমস্যা শুনে উপদেশ দিতে তার ভাল লাগে। এর সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক নেই”। এই ঘটনার পর জয়া-রেখার বিচ্ছেদ হয়। আর অমিতাভ-রেখার সম্পর্ক এর সূচনা হয়।

স্টার ডাস্ট পত্রিকার কভারে আসেন তারা। অমিতাভ-রেখার ফটোসেশনের সময় জয়াও উপস্থিত ছিলেন। এই সময়ে রেখাকে আন্ডার এস্টিমেট করে জয়া কথা বলেন। শুনে রেখা কেঁদে ফেলেন সবার সামনে। আর সেখানেই তাকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন অমিতাভ। এই ঘটনায় সবার প্রতিক্রিয়া ছিল এমন, “রেখা? তার সাথে অমিতাভের রিলেশন? যে মেয়েটি জঘন্যভাবে সাজতে পছন্দ করে ও সস্তা কথা বলে পাবলিসিটি চায়?”

আশি সালের দিকে রেখা এক ইন্টার্ভিউতে জানান,”জয়া ভেবেছিল অমিত সাময়িকভাবে মোহগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু যখন দেখল অমিত আমার প্রতি ইমোশনালি ঝুকে পড়েছে, তখন সে সিরিয়াসলি নেয়। একদিন আমাকে সে দাওয়াত করে নিয়ে যায় তার বাড়িতে। সারা সন্ধ্যা আমরা কথা বললাম নানা বিষয়ে। শুধু অমিতের কথা একবারও বললাম না। শুধু চলে আসার সময় বলল জয়া, যত যাই কিছু ঘটুক না কেন, আমি অমিতকে ছেড়ে যাব না”

মুখে একথা বললেও জয়াকে সহ্য করতে হয়েছে অপরিসীম মানসিক যন্ত্রণা। শাশুড়ি তেজি বচ্চন যখন রেখার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করেছেন “মেরা ছোটি বহু ” বলে, সেখানে জয়া চুপ থেকেছেন। এয়ারপোর্টে স্বামীকে আনতে গিয়ে দেখেন অমিতাভ রেখার হাত ধরে অন্য গেইট দিয়ে বেরিয়ে গেছেন। ঋষি-নীতুর বিয়েতে রেখা সিঁথিতে সিঁদুর, গলায় মঙ্গল সূত্র পড়ে গেছেন, দেখে জয়া দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছেন অন্যদিকে। শুধু বলেছেন, “অমিত পৃথিবীর সেরা বাবাদের একজন। আমি চলে গিয়ে সন্তানদের পিতৃস্নেহ বঞ্চিত করতে পারি না”

যে সময়ে জয়া ছিলেন প্রচন্ড কষ্টে, সে সময়ে রেখার মনেও শান্তি ছিল না। তার মনে তখন ঘর বাঁধার স্বপ্ন, সন্তানের আকাংক্ষা। তাদের সম্পর্কটি এমন জায়গায় পৌছে, অমিতাভের পক্ষে রেখাকে ভুলে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। সিলসিলা মুভির প্রাক্কালে রেখা বলেছিলেন,”আমাদের সম্পর্কের শুরুতে অমিত যতটা স্ট্রং ছিলেন, এখন ততটা দুর্বল। অনেকেই আমাকে বলছে অমিতের সন্তানের মা হতে। কিন্তু আমি অপেক্ষায় আছি অমিত কখন নিজের মুখে আমাকে একথা বলবে।”

জয়ার কষ্ট হওয়া সত্তেও মায়ের সমর্থনের রেখার সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন অমিতাভ। কিন্তু “মুকাদ্দার কা সিকান্দার” মুভি মুক্তির পর অমিতাভ তার পরিচালকদের জানিয়ে দেন তিনি আর রেখার সাথে ছবি করবেন না। তবে রেখা বলেছিলেন, “মুকাদ্দার কা সিকান্দার ” ছবির প্রিমিয়ার হচ্ছে। প্রথম সারিতে জয়া বসে আছেন। পেছনে বাবা-মার সাথে অমিত। আমি সেই সময় প্রজেকশন রুম থেকে সবাইকে দেখছি। অমিত আর আমার রোমান্টিক দৃশ্যের সময় জয়ার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। এরপর অমিত আমার সাথে অভিনয় না করার ঘোষণা দেয়। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দেয়নি। আপসেট হয়ে যাই আমি। কথা বন্ধ করে দেই আমরা। তখন “খুবসুরৎ” মুভির শুটিং চলছিল। দর্শক খেয়াল করলেই দেখবে, ছবির শুরুতে আমার হাতে আংটি ছিল, যা শেষের দিকে ছিল না। আংটি দুটি অমিত আমাকে দিয়েছিল। এই আংটিগুলো আমি এক মুহুর্তের জন্য খুলিনি। কিন্তু এ ঘটনার পর আমি তাকে আংটিগুলো ফিরিয়ে দেই। আমাদের মাঝে কথা বন্ধ হলেও অমিত সবার মাঝে আমার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিত, যা বুঝিয়ে দিত আমার প্রতি তার ভালবাসা।এতে জয়া আরও বেশি কষ্ট পেত।”

রেখা জানতেন ওদের এই সম্পর্ক কোনদিন বিয়ে পর্যন্ত গড়াবেনা। কারণ হিসেবে বলেন, ”যেদিন অমিত তার স্ত্রীকে ছেড়ে আমার কাছে আসত, সেদিনই তার প্রতি আমার সকল শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে যেত। কারণ যে স্ত্রী অমিতের জন্য সব ছেড়েছে,তাকে যদি অমিত ছেড়ে আসতে পারে, তাহলে আমাকে ছেড়ে যাওয়া তো এক মিনিটের ব্যাপার।”

আর এই সময়ে অমিতাভ এক্সিডেন্ট করলেন “কুলি” ছবির শুটিংয়ে। রেখার জন্য বন্ধ হয়ে গেল সব যোগাযোগ এর রাস্তা।জয়া যখন স্বামীর সেবা করছেন হাসপাতালে, তখন রেখা দূরে মন্দিরে অমিতাভের জন্য পূজা দিচ্ছেন। আর অমিতাভ সুস্থ হয়ে প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, তাতেই এই প্রেমের পরিনতি লুকিয়ে ছিল। অমিতাভ বলেছিলেন, “যদি আবার কোনো মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে বলা হয়, তবে আমি তোমাকেই চাইব।”

জয়া বুঝতে পারেন তার স্বামী ফিরে এসেছে, আর রেখা বুঝতে পারেন তার প্রেম শেষ হয়েছে। তবে ১৯৮৭ সালে রেখা খুব নাটকীয়ভাবে বলেছিলেন, “জয়া নিজে জেতেনি। বরং আমি তার স্বামীকে ফিরিয়ে দিয়েছি সোনার থালা করে।”

রেখা অমিতাভের সম্পর্ক সেই যে ভেঙে গেল, আর জোড়া লাগেনি। ২০০৪ সালে যশ চোপড়া চেয়েছিলেন “বীর-জারা” মুভিতে তাদের একসাথে কাস্ট করতে কিন্তু পুত্র অভিষেক বচ্চন চাননি যে নারীর কারণে তার মা জয়া বচ্চনকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে, সে নারী আবার তার বাবার জীবনে ফিরে আসুক। হোক সেটা পর্দায়।

তবে বলিউডের একসময়কার সুপারস্টারদের প্রেমের ইতিহাস পড়লে এটা বোঝা যায়, প্রেম আসলে বলে কয়ে আসে না। মানুষ নিজেও বলতে পারেনা সে কয়বার প্রেমে পড়বে কিংবা আর প্রেমে পড়বে না। “কুছ কুছ হোতা হ্যায়” মুভির রাহুলের ভাষায়, “এক জিন্দেগী, এক লাড়কি” এই সূত্র বলিউডের এসব তারকাদের বেলায় খাটে না। তারা প্রেমে পড়বেন, কষ্ট পাবেন, কষ্ট কষ্ট সুখ অনুভব করেই বাকি জীবন পার করে দেবেন।

কৃতজ্ঞতা- জাস্ট বলিউড ফেসবুক গ্রুপ

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button