তারুণ্যপিংক এন্ড ব্লু

শিশুদের হ্যাঁ বলার ম্যাজিক!

বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করেন। তাদের বিনা শর্তে ভালবাসেন। কিন্তু অনেক সময় নিজেদের অজ্ঞতার জন্য তাদের সাথে সঠিক আচরণ করেন না। অফিসের বা স্বামী/স্ত্রীর সাথে করা রাগ বাচ্চাদের উপর ঝাড়েন। বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেন না, ওই জিনিসকে আদৌ দরকারী মনে করেন না। বাচ্চাদেরও ব্যক্তিত্ববোধ আছে, আত্মসম্মানবোধ আছে, সেগুলোকে পাত্তা না দিয়ে আপনি তাদের জন্য যত টাকাই খরচ করুন না কেন, কখনো ভাল ফল পাবেন না। বাসার পরিবেশ নিরানন্দ একঘেয়ে করে রাখবেন, তাতে আপনার বাচ্চারা এডভেঞ্চারের খোঁজে বাইরে গিয়ে মাদকাসক্ত হবে। অথচ বাসাকে আনন্দময় করে তুলতে বেশি কিছু লাগে না, লাগে শুধু আপনার ইচ্ছা আর নিচে উল্লেখিত কিছু কৌশল।

১। প্রতিদিন কিছুটা সময় সম্পূর্ণভাবে শিশুর জন্য বরাদ্দ রাখুন, এই সময় অন্য কোন কাজ এমনকি ফোন রিসিভ করা থেকেও বিরত থাকুন । এই সময়টা শুধুই আপনার আর আপনার সন্তানের।

২। সব মানুষেরই কিছু নিজস্ব সময়ের দরকার পড়ে। কিন্তু খেয়াল রাখা উচিত এই সময়ের প্রয়োজনটাকে আপনি কিভাবে শিশুদের সামনে উপস্থাপন করছেন। এমন কিছু বলা উচিত না যাতে শিশুরা মনে করে যে আপনি তাদেরকে চাপ বা বোঝা মনে করছেন। যেমন “তোমার বাবার সাথে খেলো গিয়ে, আমাকে কিছুক্ষণ একা থাকতে দাও”, এইরকমভাবে না বলে বলতে পারেন, “আমি এখন চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ গান শুনতে চাই”– তাতে আপনার উদ্দেশ্যও পূরণ হলো, আবার বাচ্চারাও মাইন্ড করলো না।

৩। বাচ্চারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের বাবা-মাকে কাছে পেতে চায়। কিন্তু কোন বাবামায়ের পক্ষেই সম্ভব না সবসময় তাদের সঙ্গ দেয়া। তাই যখন আপনি বাইরে থাকবেন বা অফিসে থাকবেন, সেটার গুরুত্ব বাচ্চাদেরকে বুঝিয়ে বলা উচিত। আফটার অল মানুষ পরিশ্রম তো করে সন্তানের জন্যই, সেটা সন্তানকে জানানোই যায়।

৪। বাচ্চাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে এমন সব প্রশ্ন তাদের করা উচিত। বাচ্চাদের কাছে তাদের পছন্দ অপছন্দ, ডিসিশন ইত্যাদি জিজ্ঞেস করুন, এতে করে তার নিজস্বতাবোধ তৈরি হবে।

৫। আমাদের দেশের বাবা-মারা বাচ্চাদের প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন। এটা ঠিক না,ভালবাসলে সেটা জানাতে হয়। সুযোগ পেলেই বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরুন, কোলে নিন বা চুমু খান। বাচ্চারা আপনার সাথে সহজ হলে, বন্ধু হলে অন্তত কোনদিন বখাটে বা মাদকাসক্ত হবে না মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায়।

৬। শিশুদের সাথে কথা বলার সময় তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে, তাদের দিকে ফিরে কথা বলুন। এতে করে আপনি যে তাদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তা বোঝা যায়।

৭। দিনের শেষে বা বাচ্চা স্কুল থেকে ফেরার সাথেই আজ হোমওয়ার্ক ঠিকমত করেছে কিনা বা টিচার অভিযোগ দিয়েছে, এসব না বলাই ভাল। সে খুশি হবে এমন কিছু বলুন, তাতে করে বাসায় এক আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে, আপনার সাথে সন্তানের মানসিক বন্ধন শক্ত হবে।

৮। বাচ্চাদের কাজের রেজাল্টের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তাদের কাজের প্রক্রিয়ার দিকে নজর দিন। যেমন সে হয়তো একটি গান গেয়ে শোনাচ্ছে আপনাকে। গান শেষ হলে তাকে “দারুণ গান গেয়েছ” না বলে বলতে পারেন ”তোমাকে গান গাইতে দেখলে আমার ভাল লাগে”।

৯। মাঝে মাঝে বাচ্চাদেরকেই ঠিক করতে দিন আজকে রাতে কি রান্না হবে। বা তাদের নিয়ে বাজারে গেলে তাদের পছন্দমত জিনিস কিনতে দিন।

১০। মাঝে মাঝে ছুটির দিনটি কীভাবে কাটাবেন তা বাচ্চাদেরই ঠিক করতে দিন। যদি সেই আইডিয়া আপনার পছন্দ না হয় তবুও।

১১। যখন আপনি আপনার শিশুর সাথে থাকবেন না, যেমন- শিশু স্কুলে আছে বা আপনি অফিসে, তখনও এমন কিছু করুন যাতে সে আপনার সান্নিধ্য অনুভব করতে পারে। যেমন আপনি আগে অফিসে গেলে নাস্তার টেবিলে তার জন্য একটা নোট রাখতে পারেন বা তার প্রিয় খাবারটা টিফিন হিসেবে দিতে পারেন। তাছাড়া ফোনে মেসেজ দিয়ে খোঁজ-খবর নিতে পারেন।

১২। শিশু যখন বাইরে থেকে ফিরবে তখন আপনার হাতে যত জরুরী কাজই থাকুক না কেন হাসিমুখে তাকে স্বাগত জানান।

_

সৌজন্যে- অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স, 01847103102, অনলাইনে অর্ডার করুন এই লিংকে

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button