অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্য

আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকেই বিয়ের খরচ!

অনুষ্ঠান করে ঢাক-ঢোলক পিটিয়ে অনেক মানুষ নিমন্ত্রণ করে বিয়ে করাটা একটা ভেজাল! শুধু আমাদের দেশে নয় পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা একটা বড় সমস্যা। আমাদের মত স্বল্প আয়ের দেশে তো তাও একটা লিমিট আছে কোন কোন দেশে তো বিয়ের খরচ এত বেশি যে সে টাকা জোগাড় করতে পারে না বলে অনেক ছেলেমেয়েরা ঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারে না।

বেশিরভাগ মানুষেরই স্বপ্ন থাকে বিয়েটা ধুমধাম করে করার। বিয়েতে কত কিছু করার যে সাধ থাকে। কিন্তু সাধ থাকলেও সবার সাধ্যটা থাকে না। তেমনই একজন ইংল্যান্ডের বেন ফারিনা। ফারিনা তার বন্ধু ক্লেয়ার মোরানের সাথে প্রায় ছয় বছর ধরে আছেন। এই জুটির একটি সন্তানও আছে। কিন্তু বিয়েটা তাদের করা হয়ে ওঠেনি। কি করে করা হবে! ফারিনার শখ ধুম-ধাম করে বিয়ে করার। কিন্তু, সেভাবে বিয়ে করা যে অনেক খরচের ব্যাপার!

বেন ফারিনা কিন্তু হাল ছাড়লেন না। বুদ্ধি করে তিনি, যেভাবে আয়োজন করে বিয়ের অনুষ্ঠানের স্বপ্ন দেখেন সেভাবেই অনুষ্ঠান করার এক ‘বিজনেস মডেল’ পরিকল্পনা দাঁড় করিয়ে ফেললেন। তিনি বিয়েতে যেসব অতিথিদের উপস্থিতি চান তাদের কাছে নিমন্ত্রণ পৌঁছে দিলেন এবং সাথে একটা অভিনব প্রস্তাবও দিলেন। অতিথিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ১৫০ পাউন্ড করে দিতে বললেন।

ফারিনা তাদের বিয়ের ভেন্যু ঠিক করেছেন ডার্বিশায়ারে, যে বাড়িটিতে অনুষ্ঠান হবে সেখানে পুল আছে এবং স্পা-এরও ব্যবস্থা আছে। ভেন্যুতে তিনদিন থাকবেন বিয়ের বর-কনে ও অতিথিরা। বিয়েতে যে ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও ২০ জন শিশু উপস্থিত থাকবে তা ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। যারা আসবেন তারাও ফারিনার চাহিদা মত ১৫০ পাউন্ড তাদের দিয়ে দিয়েছেন।

বিয়ে, অনুষ্ঠান, অতিথি

এ পরিকল্পনার জন্য ফারিনা কিছুটা সমালোচনার মধ্যে পরলেও তিনি অতিথিদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে উভয়পক্ষের জন্যই ব্যাপারটা লাভজনক।

বেন ফারিনা ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করেছেন অনেকটা এভাবে, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে খরচ তো এমনিতেও কম হয় না। শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ীকে টাকা না দিয়ে সত্যিকারের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে টাকা খরচ করা ভালো। এ অনুষ্ঠান অতিথিদের জন্য অবসর যাপনের একটা প্যাকেজ,  সবকিছু সম্বলিত ছুটির দিন হতে পারে। মাত্র ১৫০ পাউন্ড খরচ করে অতিথিরা ভালো ভাবে একটি ছুটি উপভোগ করতে পারবে। থাকা, খাওয়া তো আছেই তাছাড়াও বিয়ের ভেন্যুতে স্পা’র ব্যবস্থা আছে, ইনডোর সুইমিং পুল, গেমস রুম সবই আছে। এমনকি স্থানীয় সুবিধাগুলোও হাতের কাছে। একটা লেকও আছে, এটা আসলে ছুটি কাটানোর জন্য ছোট্ট একটা রিসোর্ট বলা যেতে পারে।

ফারিনা জানান, তিনি ও তাঁর সঙ্গী এক বন্ধুর বিয়েতে গ্রিসে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচশো পাউন্ড খরচ হয়েছিল এবং সেখানে থাকতে তাদের বারোশো পাউন্ড খরচ হয়েছিল। তাঁর মতে, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চাইলে সাধারণত একশো পাউন্ড খরচ হয় আর বারে বসলেতো ৫০ পাউন্ড খরচ হবেই। তাই অতিথিদেরও কোন লস নেই, মাঝখান থেকে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের শখও পূরণ হলো।

এভাবেই বেন ফারিনা পরিকল্পনা করে তার বিয়েতে উৎসব করার শখ পুরণ করছেণ। খারাপ কি, পরিকল্পনা থেকে যদি ভালো কিছু হয়!

আমাদের দেশেও তো ভাই-ব্রাদাররা অনেকে আছেন যারা টাকার অভাবে বিয়েতে অনুষ্ঠান করতে পারছেন না। ট্রাই করে দেখতে পারেন বেন ফারিনার এই বিসনেস কাম বিয়ের পরিকল্পনা।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button