খেলা ও ধুলা

গতকালকের জয়: ৮টি জরুরী ব্যবচ্ছেদ!

১। গতকালের ম্যাচের বোলিং ইউনিটের প্রধানতম আশার জায়গা ছিলেন মুস্তাফিজ। ভারতের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি ফর্মে ফেরত আসার ঝলক দেখিয়েছিলেন। প্রথম স্পেলে রান চেক দিয়েছেন। কাল দ্বিতীয় স্পেলে মনে হলো পুরোপুরি ফিরে আসলেন। তাঁকে আনাই হয়েছিলো ব্রেক থ্রু দেয়ার জন্য। প্রথম ওভারে ক্যাচ উঠিয়েছিলেন। রিয়াদ ধরতে পারেন নি। পরের ওভারে আবার মিলারকে ক্যাচ বানালেন মিরাজের কাছে। এরপর কাটারে বল উঠে গিয়েছিলো। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটা কিন্তু রিভার্স সুইং হয়ে ভিতরে ঢুকেছে! ডুমিনিকে ব্যাকফুটে যেভাবে নিলেন, তাতে এলবিডাব্লিউ না হলেও ডুমিনির মাইন্ডসেট কাঁপিয়ে দিয়েছে অবশ্যই! শেষ স্পেলেও ডুমিনিকে ফেরানো, যখন সামান্য ভয়টা ছিল! ফিজের আজকের বোলিং পারফরম্যান্স অনেকদিন পরে তার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স! গোল্ডেন আর্ম ফর আস!

২। সাইফুদ্দীনের বোলিং ভারতের সাথে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে প্রথমে দেখে ভালো লেগেছিলো। কাল শুরুর স্পেলে সে সাধারণের চেয়েও সাধারণ ছিল। তার ব্যাপারে কথা সবসময়েই শুনেছি যে সে ডেথ বোলার। অনেস্টলি বললে, কাল তার ডেথ বোলিং ভালো হয়েছে। দুইটা উইকেটের প্রথমটা হিট এন্ড মিস। তবে দ্বিতীয় উইকেটটা অবশ্যই সেট আপের উইকেট। সে এর আগে ওভারের প্রথম বলটা ইয়োর্কার দিয়েছিলো, ব্যাড লাকে চার হয়ে গেছে। পরেরটা স্লোয়ার বাউন্সার। উইকেট টেকিং বলটা লো ফুলটসে ক্যাচ দেয়ানো! এরপরেও ইয়োর্কার ফেলতে পেরেছে। তার বোলিংয়ের যেটা সমস্যা সেটা হলো পেস একদমই কম। তাই ইরর অফ মার্জিনের কোনো জায়গা নেই। ডুমিনি যে দুইটা চার মারলো, সেই দুইটা চার হয়েছে কারণ সে লেংথ মিস করেছে। এজন্যেই তাঁকে নিয়ে রিস্ক থাকবেই।

৩। সাইফ, ফিজ থাকুক। কিন্তু প্রথমে অ্যাটাকে যাবার জন্য রুবেলকে লাগবেই। সে রান লিক করুক, সমস্যা নাই। রান চেক দেয়ার জন্য আমাদের স্পিনাররা আছেন।

৪। সাকিব আর মিরাজ দুইজনেই স্মার্টেস্ট স্পিনার। ব্যাটসম্যান বুঝে তাদের আটকে রেখে মাথা দিয়ে বল করতে জানেন। তারা তাদের বোলিং পারফরম্যান্স ধরে রাখুক।

৫। মাশরাফি বোলিংয়ে গতকাল কিছুটা চিন্তার কারণ ছিলেন। তিনি পরের ম্যাচে ব্যাক করবেন, সেটাই আশা। তার ক্যাপ্টেন্সি কেন সেরাদের সেরা সেটা তো বরাবরই প্রমাণিত।

৬। ফিল্ডিং বিশাল বড় একটা চিন্তা হয়ে রইলো। মুশির কিপিং মিস, ৩টা ফিল্ড ক্যাচ মিস, ওভারথ্রো, গ্রাউন্ড ফিল্ডিং মিস- সবমিলিয়ে ২৫-৩০ রান বেশি হয়েছে সাউথ আফ্রিকার। এই জিনিস পরের ম্যাচে চেক দিতে হবে।

৭। এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের বিভিন্ন এক্সপার্টের কাছে সাকিব আল হাসান সর্বকালের অন্যতম সেরার রিকগ্নিশন পাবার টুর্নামেন্ট হোক!

৮। আমরা মনের প্রত্যাশিতভাবেই ম্যাচ জয়ে শুরু করলাম। শেষ দুই ওভারে খেলা একটূ ছেড়ে না দিলে .২ বাড়তো রানরেট। এটা ভবিষ্যতে চিন্তায় রাখতে হবে।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button