খেলা ও ধুলা

স্টান্টবাজি করে বিসিবি, গালি খায় ক্রিকেটাররা!

স্টান্টবাজি করেন ক্রিকেট বোর্ডের বড় কর্তারা, গালি হজম করতে হয় ক্রিকেটারদের।

টেস্ট জয়ের পর মিডিয়া-টিডিয়া ডেকে ঘোষণা দেওয়া হলো, ৬ কোটি টাকা পুরস্কার। কোটির অঙ্ক শুনলেই আমাদের চোখ ছানাবড়া, এটা তো ৬ কোটি! অথচ এই ৬ কোটির ৪ কোটি ক্রিকেটারদের আগে থেকেই পাওনা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি। বিভিন্ন টুর্নামেন্টের প্রাইজমানির টাকা ক্রিকেটারদেরই দেওয়া হয়, এটা প্রায় সব দেশেই রীতি। কাজেই এটা কোনো পুরস্কার বা দয়া বা বাড়তি কিছু করা নয়। ক্রিকেটারদের প্রাপ্য। এটা ঘোষণা দিয়ে জানান দেওয়া মানে স্টান্টবাজি। তারপরও মনে করিয়ে দেওয়া যাক, ওই ৪ কোটি টাকা ভাগাভাগি হবে ওয়ানডে দলে থাকা ক্রিকেটারদের মাঝে। এই টেস্ট জয়ী দল নয়!

বাকি থাকল ২ কোটি। সেটি এই টেস্ট জয়ের পুরস্কার। আমাদের প্রতিটি জয়েই বোনাসের ব্যবস্থা ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই আছে। ওপরের সারির দলগুলির বিপক্ষে জয়ে বোনাসও বেশি। কাজেই এমনিতেই বড় বোনাস থাকত। স্রেফ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম জয় বলেই একটু বাড়িয়ে ২ কোটি টাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মানে একটু বেশি। সেটা পাবেন শুধু দলের ১৪ ক্রিকেটারই নয়, কোচিং স্টাফ-ফিজিও-ট্রেনারসহ আরও ৭-৮ জন। ২১-২২ জনে ২ কোটি টাকা ভাগ করলে কত আর হয়? ১০ লাখও নয়। ওদের জন্য কত টাকা এটা! প্রাপ্য বোনাসের চেয়ে খুব বেশি নয়…

স্টান্টবাজি এখানেই যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি মিলিয়ে একসঙ্গে ৬ কোটি বলে দেওয়া হলো। ওই প্রাইজমানির সঙ্গে এই টেস্ট জয়ের বোনাসের সম্পর্ক তো থাকা উচিত নয়! দল ভালো করেছে, বিসিবিও ভালো ফায়দা নিয়ে নিল। সিম্পল।

কিছু অতি উৎসাহীকে আবার দেখলাম, বিসিবিকে ধুয়ে দিচ্ছে বন্যার্তদের সাহায্য না করে ক্রিকেটারদের বোনাস দেওয়ায়… অথচ কদিন আগেই সিরাজগঞ্জে য়ে বিপুল ত্রান দিয়ে এসেছে বিসিবি। এর বাইরেও আরও ২ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে।

আর সবশেষে, কোটিবার বলা কথাটি আবারও বলি। ক্রিকেটারদের বেতন-বোনাস দেওয়া হয় আপনার-আমার ট্যাক্সের টাকা থেকে নয়। বেতন সরকার দেয় না। দেওয়া হয় ক্রিকেট বোর্ডের নিজস্ব আয় থেকে। ক্রিকেট বোর্ড আয় করে আবার ক্রিকেটারদের দিয়েই। তো সেই আয়ে ক্রিকেটারদেরই হক সবচেয়ে বেশি। বরং মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা বিশাল অঙ্কের ট্যাক্স দিয়ে সরকার থেকে ট্যাক্স কার্ড পায়। ক্রিকেট বোর্ডও বড় অঙ্কের ট্যাক্স দেয় সরকারকে। এটা অবশ্যই কোনো দয়া-টয়া নয়। স্রেফ বলছি যে, তারা নিজেদের কাজটুকু করে ঠিকঠাক…

আরেকটা কথা মনে করিয়ে দেই। ক্রিকেটারদের চুক্তি হয় প্রতি বছর। পারফরম্যান্স খারাপ হলেই বাদ যেতে হয়। আমরা চাকরি-বাকরি করি, খুব বাজে কিছু না হলে অবসর পর্যন্ত গ্যারান্টি হয়ত। অন্তত বছর বছর আমাদের চাকরি নবায়ন করতে হয় না। কিন্তু ক্রিকেটারদের নবায়ন করতে হয়। ক্রিকেটে ভালো-খারাপ সময় আসেই। তাই তাদের জীবন ভীষণ অনিশ্চয়তার। সেই অনিশ্চয়তারও একটা প্রাইজমানি থাকা দরকার না? তাই ভালো করলে তারা একটু বেশি বোনাস পেতেই পারে… আর সবকিছুর বাইরে, আপনার-আমার মুখে যে হাসি ফোটাচ্ছে,সেটার মূল্য নিশ্চয়ই টাকা দিয়েও শোধ করতে পারবেন না!

তো টাকার অঙ্ক দেখেই জ্বলুনী শুরু না হোক। একটু যুক্তি দিয়ে ভাবি, নাকি?

আরিফুল ইসলাম রনির ফেসবুক ওয়াল থেকে।
সিনিয়র ক্রিকেট করেসপন্ডেন্ট, বিডিনিউজ২৪.কম

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button