খেলা ও ধুলা

‘মহাপরাক্রমশালী’ জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হৃদয় জিতে নেয়ার দিনে…

আগেরদিন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা বলেছিলেন, বাংলাদেশকে ভয়ের কিছু নেই। মাঠের খেলায় দেখা গেল, জিম্বাবুয়ের ভয়েই বরং তটস্থ হয়ে ছিল বাংলাদেশ। ১৮ ওভারে ১৪৫ রান তাড়া করতে গিয়ে বরাবরের মতোই বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের হতচ্ছাড়া দশা, লিটন-সৌম্য থেকে সাকিব-মুশফিক কিংবা রিয়াদ-সাব্বির, প্রত্যেকেই ফিরেছেন চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে। আফিফ হোসাইন রুখে দাঁড়িয়ে তার ছোট কাঁধে বড় দায়িত্বটা তুলে না নিলে গতকাল আরও একটা লজ্জার দেখা পেতে হতো বাংলাদেশ দলকে।

তবে সেই লজ্জাটা পেতে হয়নি। টি-২০ র‍্যাঙ্কিঙের এক নম্বর দল (!) জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে দারুণ এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিঙের ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না তো? খেলার হাইলাইটসটা আরেকবার দেখুন গিয়ে, ব্যাটসম্যানদের থর থর কম্পন দেখলেই বোঝার কথা, জিম্বাবুয়ে নয়, তারা আসলে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে! জিম্বাবুয়ের মতো দল আবার বাংলাদেশকে এত নাকানি-চুবানি খাওয়াতে পারে নাকি?

ম্যাচের পরে আফিফকে পাশে নিয়ে ছবিটবিতুলে ফেলেছেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। ফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী- আগে এসব দেখা যেতো ভারত-পাকিস্তানকে হারাতে পারলে। এখন জিম্বাবুয়েকে হারালেও প্রধানমন্ত্রীর ফোন চলে আসে, হ্যামিল্টন মাসাকাদজাদের দলটা যে কতটা মহাপরাক্রমশালী, সেটা তো এই ঘটনাতেই বোঝা যায়। এমন একটা দলের বিপক্ষে জেতাটা কি চাট্টেখানি কথা?

লক্ষ্যমাত্রা বিশাল ছিল না, ধুন্ধুমার নয়, দরকার ছিল শুধু সেন্সিবল ব্যাটিং। শত শত আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যানেরা এটুকুই করতে পারলেন না। উল্টোদিকে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাট হাতে নেমে আফিফ দেখিয়ে দিলেন, ব্যাটটা কিভাবে চালাতে হয়। নির্ভিক ব্যাটিং কাকে বলে, সেটাও আফিফকে দেখেই শেখা যায়।

লিটন বরাবরের মতোই ভালো খেলতে খেলতে বলের লাইন-লেংথ মিস করে বসলেন। চাতারার স্লো পেসের ইয়র্কারটা বিষাক্ত ছিল না, কিন্ত লিটন স্ট্যাম্পের লাইন থেকে সরে গেছেন অনেক আগেই। ব্যর্থতার উপন্যাসটা ক্রমেই লম্বা করছেন সৌম্য, আরও একবার বল তুলে দিয়েছেন আকাশে, সেটা পেরুতে পারেনি ত্রিশ গজের সীমারেখাও। কে জানে, আফিফের ইনিংসটার নিচে এসব ব্যর্থতার গল্প হয়তো চাপা পড়ে যাবে আরও একবার!

জার্ভিসের লাফিয়ে ওঠা বলে পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক, সাকিব ফিরেছেন অফ স্ট্যাম্পের বাইরের একটা ডেলিভারিকে ক্রসব্যাটে খেলতে গিয়ে। আম্পায়ার্স কলে আউট হওয়া রিয়াদ খানিকটা দুর্ভাগা, সাব্বির ধরা পড়েছেন উড়িয়ে মারতে গিয়ে- কিন্ত এসব আউটের কোনটার পেছনেই শুধু দুর্ভাগ্যকে দায়ী করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দলবেঁধে আত্মাহুতি দিতে নেমেছিলেন, ৬০/৬ স্কোরলাইনটাই তার প্রমাণ।

উইকেট বৃষ্টিভেজা হলেও, বাড়তি তেমন কোন সুবিধা পাননি পেসারেরা। অথচ সাকিব-মুশফিকদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিলো জার্ভিস-চাতারা নয়, তারা যেন গ্লেন ম্যাকগ্রা বা ডেল স্টেইনকে খেলছেন! জিম্বাবুয়ের সাথেই বাংলাদেশের এমন দশা, একটু ভেজা উইকেটে স্টার্ক-কামিন্সরা কখনও বাংলাদেশকে পেলে যে কি তাণ্ডবটা চালাতেন, সেটা ভেবেই গায়ে কাঁটা দেয়ার কথা!

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা আনকোরা এক তরুণ রুখে না দাঁড়ালে আরও একবার লজ্জা গায়ে মেখেই ড্রেসিংরুমে ফিরতে হতো বাংলাদেশকে, ‘ওয়েল ডান’ বলে আফিফের পিঠ তাই চাপড়ে দেয়াই যায়। তবে সেই পিঠ চাপড়ানোটা বাংলাদেশ দল ডিজার্ভ করে না, আফিফের সতীর্থদের সবাই ডিজার্ভ করেন না…

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button