খেলা ও ধুলা

পৃথিবীর সহজতম ব্যাটিং পিচেও চতুর্থ ইনিংসে এমন রান চেজ করাটা প্রায় অসম্ভব!

দুইটা ডেলিভারি পর পর, স্লোয়ার ইন দ্যা এয়ার, ব্যাটসম্যান ডিফেন্স করলেন একটু সামনে গিয়ে। তিন নম্বর বলটিও একই রকম, ব্যাটসম্যান সামনে গিয়েই বুঝলেন এই ডেলিভারিটা ঠিক পুরোপুরি আগের মত নয়। ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। আর্ম বল ভেতরে ঢুকে পেছনের পায়ে আঘাত করল। এলবিডব্লিউ। ক্ল্যাসিক সাকিব আল হাসান ডিসমিসাল। আসলে দেরি হয়ে গেল সাকিবের, বাংলাদেশের। লিড হয়ে গেছে ততক্ষণে ৩৭২ রানের।

পার্কিং নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ, গাড়ি পার্কিং হবে নিশ্চিন্তে পার্কিং কই এর সাথে।

পৃথিবীর সহজতম ব্যাটিং পিচেও চতুর্থ ইনিংসে এমন রান চেজ করা দুরূহ। চট্টগ্রামের পিচে তা একরকম ‘অসম্ভব’। টেস্টের তিন দিনের পুরোটা জুড়েই আফগান আধিপত্য। দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের নবীন সদস্য এভাবে ডমিনেট করে যাচ্ছে, এও যদি অশনী সংকেত হয়ে না আসে কর্তাদের কাছে, তো কিসে আর আসবে তা জানার উপায় নেই।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থেকে আপামর জনসাধারণ প্রতিটা মানুষ বুঝে এদেশের কাঠামো ঠিক নেই। এদেশে শক্ত কোন ডমেস্টিক পাইপ লাইন নেই। হুটহাট ‘প্রতিভা’ আসে, সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে খাবি খায় শুরুতে, আমরা ‘প্রতিভার’ উপরে ভরসা করতেই থাকি, কবে সে পরিণত হবে। এভাবে হয়না। বিচ্ছিন্ন সাফল্য আসে বড়জোর, ভিত্তিহীনতার কংকাল ঠিকই মাঝেমধ্যে বেরিয়ে পড়ে।

গত তিনদিনে যেমন হচ্ছে। হয়েছে গত শ্রীলংকা সফরে। হয়েছে বিশ্বকাপে। শুধু নীতিনির্ধারকেরাই তা ‘বুঝতে’ পারছেনা। ২০১৪’র পরের সাফল্য টিকিয়ে রাখতে যা যা করা উচিত ছিল, তার কিছুই হয়নি দেশের ক্রিকেটে। ব্যর্থতার দায় এড়াতে কোচ বদল করেই ঢেকুর তুলেছে বার বার।

পেশাদারিত্ব হচ্ছে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে যাওয়া। হোম এডভান্টেজ নিতে ক্যাপ্টেন যেভাবে চাইবে, পিচের চরিত্র তেমনই হওয়ার নিয়ম আধুনিক ক্রিকেটে। অথচ গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান ক্রমাগত নিজের পক্ষে বলে গেলেন, উলটো নিজেই যেন দায়িত্ব নিয়ে নিলেন কোচ কিংবা নির্বাচকের, বললেন ব্যাটসম্যানরা কেন ব্যর্থ হচ্ছে! ব্যাটিং ব্যর্থতা, নির্বিষ বোলিং নিয়ে প্রশ্ন তোলা যে যাবেনা তা নয়। সেটা আর যাই হোক গ্রাউন্ডস কমিটির সভাপতির নয়।

পিচ, একাদশ বিতর্কের আড়ালে যেটা আমরা যথেষ্ট এপ্রিশিয়েট করছি না তা হচ্ছে, আফগানিস্তান দারুণ ক্রিকেট খেলছে এই টেস্টে। দুই তরুণ ব্যাটসম্যানও যে টেম্পারামেন্ট দেখিয়েছে দুই ইনিংসে, তা প্রশংসনীয়। আজগর স্টানিকজাইও অভিজ্ঞতার ছাপ রেখেছেন। পারফেক্ট কন্ডিশন পেয়ে বোলাররাও উজ্জীবিত। পজিটিভ এটিচ্যুড, জিততে চাওয়ার ইচ্ছা, এত স্পিনার থাকার পরেও একজন অন্তত পেসার রাখা- সব কিছুতেই এগিয়ে থাকছে আফগানরা।

অথচ এই আফগানিস্তানকে নিয়েই বিশ্বকাপে সে কী হাসাহাসি আমাদের অনেকের! নিজেদের জয়ের চেয়েও অনেক সময় ওদের পরাজয়ে বেশি সরব থেকেছি সোশ্যাল মিডিয়ায়। অল্প সময়ে গুছিয়ে নিয়ে সবকিছুরই জবাব দিচ্ছে ওরা মাঠে।

অধিনায়ক সাকিবের বড় ভক্ত হয়েও এখন পর্যন্ত এ ম্যাচে তার ডিসিশন মেকিং টপ লেভেলের মনে হয়নি। মাঝে লম্বা সময় নিজে না এসে মুমিনুলকে ক্রমাগত বোলিং করানো, রিয়াদকে ইউজ না করা, ফিল্ড সেটিং ইত্যাদিতে সাকিবের এটাকিং মেন্টালিটি দেখতে চেয়েছি। দিনের শেষে বল হাতে ক্ল্যাসিক সাকিবকে যেমন পাওয়া গেল, ক্যাপ্টেন্সির মুন্সিয়ানাতেও সে সাকিবের দেখা যত দ্রুত দেখা যাবে, ততই মঙ্গল। নইলে এই দুঃসময় থেকে বের হওয়া বড় মুশকিল হয়ে যাবে।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button