খেলা ও ধুলা

কেমন হলো বাংলাদেশের বোলিং প্রস্তুতি?

ফার্স্ট চেঞ্জার হিসেবে সাইফুদ্দীনের বোলিং মোটামুটি কনভিন্সিং। তার রোল সে ভালোভাবে প্লে করেছে। মিডল ওভারে উইকেট টু উইকেট স্টক বল করেই আটকে রাখতে হবে। রুবেলের বোলিংটাও আশা জাগানিয়া।

রুবেল নাকি সাইফুদ্দীন – এই অধুনা তর্কে জিততে চাওয়া দর্শকেরা এটা খেয়াল করলেন কিনা জানিনা যে তাদের বোলিং জুটি হিসেবে খুবই চমৎকার! ক্রিকেটে দুই প্রান্তে বোলিংয়ের ভ্যারিয়েশন লাগে। এই কাজটা দুইজনের ভিন্ন রকমের বোলিংয়ের কারণে ন্যাচারালি চলে এসেছে।

মুস্তাফিজের বোলিংয়ে হিট দ্যা ডেকের টেন্ডেন্সি খুবই বিরক্তিকর। ১৩০ কিমি গতিতে এই পদ্ধতি কাজে আসে না। সম্ভবত ওয়ালশের প্ল্যানে তার ডেকে বল করার প্রবণতা বেড়েছে। প্ল্যানটা ব্যাকফায়ার করবে। তবে এটা বাদ দিলে ফিজের বোলিংয়ে কিছুটা লেট সুইং হচ্ছে, লাইন-লেংথও আশা জাগানিয়া।

এই তিনজনের সাথে মাশরাফি মিলে চার পেসারের কম্বিনেশনটা খুব খারাপ না! স্মার্টলি ব্যবহার করাই মূলমন্ত্র।

আবু জায়েদ রাহী একটা ভালো বলও করেননি। সম্ভবত তার তিন নাম্বার বলটা মারার ছিল না। সলিড বল ছিল। তার বলের ন্যাচারাল সুইং আসলেই চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সুইংয়ের উপর তার কন্ট্রোল নেই। বল মিডল স্টাম্পে পড়ে আউট সুইং হচ্ছে, শর্টপিচ হয়ে যাচ্ছে- যেন ব্যাটসম্যান চাইলেই ড্রাইভ-কাট করার ফ্রি লাইসেন্স পাওয়া যায়! ওয়ানডেতে এই বোলিং মেরে ছাতু বানায় দেয়ার জন্য যথেষ্ট!

ভাগ্য ভালো যে প্রথম ২ ওভারে মাত্র ২০ রান খেয়েছেন। ব্যাটসম্যান মারার মুডে থাকলে ৩০ হতো! আয়ারল্যান্ডের সাথে তার ৫ উইকেট দলকে কীভাবে ভোগাবে সেটাই এখন দেখার। এই লেখা লিখতে লিখতে ডেথে তাঁর করা তিন নাম্বার ওভারে ২১ খেলেন। আপামর জনতার কাছে রাহীর ইনজুরির আশা মনে হয় পূর্ণতা পেলো। তাঁকে বাদ দিয়ে স্কোয়াডটাকে এখন ১৪ জনের ধরছি। তিনি আমাদের ভুল প্রমাণ করবেন- এটাই চাই।

সাইফুদ্দীনের ডেথ ওভারের বোলিং নিয়ে অনেক প্রশংসা শুনেছিলাম। খুব ভালো হতো ডেথে সাইফুদ্দীনের দুই-তিনটা ওভার দেখতে পারলে। মাশরাফি একদমই বল দিলো না!

শুধুমাত্র প্র‍্যাকটিসের জন্য সাব্বির, মোসাদ্দেক, মিরাজদের বল করিয়ে পরখ করে দেখার আইডিয়াটা খুবই ভালো লেগেছে। একটা প্র‍্যাকটিস ম্যাচ যে আসলেই গা গরমের ম্যাচ- এটা নিয়ে সিরিয়াস হয়ে সর্বশক্তি দেয়ার দল বাংলাদেশ আর নেই- এই মানসিক বার্তাটা দেবার খুব প্রয়োজন ছিল। বড় দলের আচরণটা মাঠে দিচ্ছি- এটা স্বস্তি দিচ্ছে।

তবে মাঠে বড় দল হবার সাথে সাথে সমর্থক হিসেবে বড় দল হয়ে ওঠার সময়ও হয়েছে। ক্রিকইনফো, ক্রিকবাজ- সবজায়গাতে দলের প্রিভিউ রিপোর্টে সমর্থকদের অতি আবেগ নিয়ে কিছুটা খোঁচাই দেয়া হয়েছে। আজকে সাইফুদ্দীন-রুবেল তর্কে হোমপেজে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া সেটা আবার দেখালো। সাইফুদ্দীনকে পছন্দ করা মানুষেরা যেন রুবেল মার খেলে খুশি হচ্ছে, কোহলির উইকেট পাবার কারণে সাইফুদ্দীনকে অপছন্দ করা মানুষদের যেভাবেই হোক পচিয়ে মজা পাচ্ছে। একই কথা সাইফুদ্দীনকে অপছন্দ করা ভক্তদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তারা যেন সাইফুদ্দীন খারাপ করলেই খুশি হচ্ছেন!

এই আজব ইগোইস্টিক, আবেগী সমর্থকেরা নিজেদের দলের মধ্যেই পছন্দ-অপছন্দ ভেদে নিজেদেরই খারাপ চাচ্ছেন! অন্যদলের সাথে অবস্থাটা কেমন হবে, আর বাইরের দেশের মানুষ, মিডিয়া কেন এটা নিয়ে আমাদের পঁচাবে সেটা সহজেই অনুমেয়। মাঠে বড় দল হবার সাথে সাথে সমর্থক হিসেবে ম্যাচিউর হবার এটাই গোল্ডেন টাইম! প্লিজ বি ওয়াইজ, প্লিজ!

পার্টটাইম বোলারদের দিয়ে ১১ ওভার করানোর পরেও (এর মধ্যে রাহীর ৩ ওভার ধরছি)- ৩৫৯ খুব খারাপ না।

এখন ব্যাটিং প্র‍্যাকটিসটা মনমতো হোক।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button