খেলা ও ধুলা

স্পিন-সপ্তকের পরও সাকিবদের হতাশার এক দিন!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দেখিয়েছিল পেস কোয়াট্রেট, ভারত স্পিন কোয়াট্রেট। আমরা সম্ভবত সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেলাম, আমাদের নামলো ‘স্পিন-সপ্তক’। টি-ব্রেক পর্যন্ত মোসাদ্দেক ছাড়া বাকি ছয়জনই হাত ঘোরানোর সুযোগ পেয়ে গেলেন। মোসাদ্দেক পেলেন দিনের শেষে।

পার্কিং নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ, গাড়ি পার্কিং হবে নিশ্চিন্তে পার্কিং কই এর সাথে।

টসের পর থেকেই আলোচনা, সমালোচনার জন্ম দিল একাদশ। স্কোয়াডে তিন পেসার থাকার পরেও কেউ একাদশে জায়গা পেলোনা। পেসবিহীন এটাক, অতি স্পিন নির্ভরতার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকলো ১৯ বছর পরেও একজন পেসার আমরা পাইনি যে কিনা যেকোন কন্ডিশনে নিজের জায়গা পোক্ত করে রাখতে পারে। অথচ কামিন্স, ব্রড, বুমরা, রাবাদা, রোচ, বোল্টদের নাম আগে লিখে এরপর অন্য দেশের একাদশ সাজাতে হয়।

টেস্ট ক্রিকেটে কোয়ালিটি পেস বোলিং দেখা দারুণ আনন্দদায়ী অভিজ্ঞতা। অ্যাশেজে পেস, সুইং, এগ্রেশন খেলায় অন্য মাত্র যোগ করে দিচ্ছে। আমরা কবে রোমাঞ্চ ছড়ানো পেস বোলিং দেখব নতুন লাল বলে, কে জানে! ততদিন পর্যন্ত নিজেদের শক্তির জায়গা, স্পিনেই ভরসা করে যেতে হবে। আফগানিস্তানের সাথে অবশ্য এই স্ট্রাটেজি বুমেরাং হয়ে ফিরে আসার আশংকা রয়ে যায়। রশিদ, নবী, জহির, কায়েসে ওদের স্পিনবৈচিত্র‍্য নিঃসন্দেহে আমাদের চেয়ে বেশি। চারজন চার ঘরানার বোলার। মিডিয়াম একজন পেসার, রহমত শাহ’র লেগস্পিনও বাড়তি শক্তি যোগ করবে ওদের।

চট্টগ্রামে প্রথম আর চতুর্থ ইনিংসে গড় ব্যবধান প্রায় ২০০ রানের। টস জেতা এখানে তাই একরকম ম্যাচ জয়েরই পূর্বশর্ত।ইতিহাস কনিষ্ঠ টেস্ট কাপ্তান রশিদ খান সে শর্ত পূরণ করলেন। আফগানরা টস ভাগ্যকে সাথে নিয়ে, শুরুর ধাক্কা সামলে মাঝের সময়টা ভাল ব্যাটিং করলো। রহমত শাহ টেকনিক্যালি সাউন্ড, হাতে শটও অনেক, স্পিনেও স্বচ্ছন্দ। আফগানদের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি যোগ্য ব্যাটসম্যানের হাত থেকেই এলো। অভিবাদন পাবেন আলাদা করে সেজন্য। আসগর আফগানও সাহচর্য দিলেন তাকে। পরে আফসারকে সাথে গিয়ে গড়লেন আরেক জুটি। আফসারকে দেখে মনেই হয়নি আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় তার পদচারণা একেবারেই নতুন।

রহমত-আসগর জুটি জমে যাওয়ার সময়ে উইকেটের পেছনে মুশফিক ছাড়া বাকি সবার হাল ছেড়ে দেওয়া বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল খুব বেশি চোখে লাগার মত। চা বিরতির ঠিক আগে রান আউটের চমৎকার এক সুযোগও মিস করি আমরা। তাইজুলও কেন স্ট্যাম্পের কয়েক গজ পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল, বোধগম্য হয়নি। প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই নাথান লায়নের করা এক রান আউট গত অ্যাশেজেরই গতিপ্রকৃতি ঠিক করে দিয়েছিল। এই সুযোগগুলো নিতে জানতে হবে বড় দল হয়ে উঠতে। টি-২০ তে বেশি অভ্যস্ত আফগানদের টেকনিক, ধৈর্যের আরো পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ ছিল টাইট লাইন, লেংথে বোলিং করে। সাকিবসহ প্রায় সব বোলারই লং হপ, ফ্রি ডেলিভারি দিয়েছেন দিনভর।

তাইজুলের জন্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে দিনটা। দেশের হয়ে সবচে কম সময়ে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন দিনের শুরুতেই। মোহাম্মাদ রফিক, আর সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন ঠিক ৫ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ার সময়ে। ব্যক্তিগত এই অর্জন ছাড়া দিনটা আফগানদেরই। সৌম্যের করা এক ইননসুইংগার দেখে প্রথম দিনের কিছুটা ঘাস থাকা পিচে প্রোপার পেসার থাকলে কিছু করতে পারতেন কিনা, সেই চিন্তায় আরেকটু খোরাক দিল।

দেশের ক্রিকেটের ভেতরে বাইরে পালাবদলের সুর। মাঠের পারফরমেন্সও তথৈবচ। ক্যাপ্টেন সাকিব যেমন বললেন, পজিটিভ ক্রিকেট পজিটিভ রেজাল্ট এই সময়কে বদলে দিতে পারে। সাকিবে সেই আস্থাটা রাখতে চাই। প্রথম দিনে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া, চতুর্থ ইনিংসে চেজ করার কঠিন সমীকরণ ইত্যাদি পরীক্ষায় উতরে গিয়ে সে বদলের শুরু এই টেস্ট দিয়েই হোক। সহজ জয়ের চেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জয় দলকেও আরো একাট্টা করতে সহায়ক হবে।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button