খেলা ও ধুলা

স্পিন-বধের পরিকল্পনা বুমেরাং হয়ে আসছে…

আফগানিস্তান নিজেদের দেশে খেলতে পারেনা। কখনো আমিরাত, কখনো ইন্ডিয়ায় ওদের অস্থায়ী ক্রিকেট ঘাটি। ওদেরকে দায়িত্ব দিলেও নিজেদের ‘পছন্দসই’ এত ভাল পিচ ওরা বানাতে পারতো কিনা কে জানে। আতিথেয়তার এমন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত আর কিভাবে দেখাতে পারতাম আমরা! ব্যাটিং এর জন্যে কিছুটা সুবিধাজনক দিন ছিল কাল, টসে হয়ত ‘ইচ্ছে’ করেই হেরে গেলাম অতিথিদের সুবিধার কথা ভেবে। বোলিংটাও ছিলনা আপ টু দ্যা মার্ক। ক্রমাগত জায়গায় বল ফেলে টি-২০ তে বেশি অভ্যস্ত আফগানদের ক্রিজে আটকে রাখলে, আরো কম রানেই আটকে ফেলার সুযোগ ছিল। আজ সকালে তরুণ অধিনায়ক রশিদ খানকেও রান করতে দিলাম বেশ সহজেই।

পার্কিং নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ, গাড়ি পার্কিং হবে নিশ্চিন্তে পার্কিং কই এর সাথে।

আমাদের শক্তির জায়গা স্পিন, দেশের মাটিতে আমরা এই সূত্র মেনেই সাফল্য পাচ্ছি কয়েক বছর ধরে, বিশেষত উপমহাদেশের বাইরের টিমের সাথে। আফগানদের স্পিন এটাক এখন ওয়ান অফ দ্য বেস্ট। প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার জন্যে স্পিনেই ভরসা করতে গিয়ে আমাদের নিজেদেরও যে টপ লেভেলের স্পিন সামলাতে হবে, সেটা নিয়ে সম্ভবত আমরা খুব ভালভাবে প্ল্যান করিনি। সৌম্যর ডিসমিসাল, রিয়াদ, শুরুতে মোসাদ্দেকের গুগলি লেগ ব্রেকের পার্থক্য বুঝতে গলদঘর্ম হওয়া, মুমিনুল লিটনের উচ্চাভিলাষী শট খেলতে যাওয়া- কোনকিছুই প্ল্যানিং এর অংশ বলে মনে হয়নি। স্টিভ স্মিথকে এখন টেস্ট ক্রিকেটের সেরা মানা হচ্ছে। স্মিথ নেটে প্রচুর সময় কাটায়, নিজের প্রতিটা স্কিল নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করে। কখনো কখনো এক সেশনে ওকে কয়েকশ ডেলিভারিও ছুড়তে হয় বোলার কিংবা বোলিং মেশিনকে। যতক্ষণ পর্যন্ত ও নিজে সন্তুষ্ট না হয় যে স্পেসিফিক শট সে পারফেক্টলি খেলতে পারছে, ওর অনুশীলন চলতেই থাকে। আমাদের ব্যাটসম্যানরাও এভাবে অথবা নিজেদের মত করে প্রিপারেশন নিয়ে আরো ভাল করা যায় কিনা, সে চেষ্টা করেন কিংবা করবেন বলেই বিশ্বাস করতে চাই।

আমরা টেস্ট খেলি মোটে দুইটা মাঠকে কেন্দ্র করে। সামনে ব্যস্ত টেস্ট শিডিউল, যারা আমাদের দেশে আসবে খেলতে, ওদের সাথে স্পিনিং ট্র‍্যাকের বিকল্পও নাই। হুট করে এখানে পেস নির্ভর পিচ বানানো সম্ভব না হলেও সিলেট, খুলনার মত একটা স্টেডিয়ামে আমরা একটা অন্তত সিমিং পিচ তৈরি করে রাখতেই পারি। আফগানরা বরাবরই কোয়ালিটি পেস বোলিং এ স্ট্রাগল করে। এই সুযোগটা আমরা নিতে পারতাম। সাথে ওদের স্পিনারদেরও আরো ভালভাবে সামলানো সম্ভব হতে পারতো।

যদিও এসবই আপদকালীন সমাধান। আদর্শ টেস্ট প্লেয়িং নেশন হতে হলে আমাদের সুইং বোলার লাগবে। লাগবে স্পিনার। এ দুইয়ের ভারসাম্য না হলে কনসিস্টেন্ট ভাল রেজাল্ট আশা করাই বোকামি। টিমে টেস্ট মেজাজের ব্যাটসম্যান আরো বেশি জরুরী। নিজেরাই যদি স্পিন সামলাতে না জানি, তাহলে এভাবেই খুব আয়োজন করে পাতা ফাঁদ বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে বার বার। মাত্রই তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা আফগানিস্তান এভাবে নাজেহাল করে ছাড়ছে সাদা পোশাকেও, এ দৃশ্য খুব দৃষ্টিসুখকর নয়। তাইজুলের অসীম ধৈর্য, মোসাদ্দেকের লড়াই করা শেষ বিকেলের জুটি ছিল দিনের একমাত্র স্বস্তি হয়ে।

টেস্টের অনেক সময় বাকি। অনিশ্চয়তার চূড়ান্ত মাথায় রেখেও বলতে হচ্ছে, এই ম্যাচের ফলাফল পক্ষে আনতে হলে আমাদের একটা মিরাকল লাগবে। মিলতে হবে প্রায় অসম্ভব কিছু যদি কিন্তুর হিসেব। অনুপ্রেরণা খুঁজতে বেশিদূর যেতে হচ্ছেনা অবশ্য। বেঞ্জামিন এন্ড্রিউ স্টোকসের হেডিংলি-রূপকথা হতে পারে আমাদের জন্যে পারফেক্ট ইনস্পাইরেশন। সোনালী একটা তৃতীয় দিন নেমে আসুক কাল চট্টগ্রামে।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button