মনের অন্দরমহলরিডিং রুম

ব্যর্থ হয়ে থাকে যদি প্রণয়ের এত আয়োজন, আগামীর মিছিলে এসো…

শেষটা মধুর হয়নি। শেষটায় কোথাও কেউ থাকেনি। হুমায়ূন আহমেদের রচনায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের দুই চরিত্রের কথা বলছি। বাকের ভাই এবং মুনা। বাকের ভাই গুন্ডা ছিলেন, তার ছিল দুই সঙ্গী সাথী বদি এবং মজনু। এই বাকের ভাই পছন্দ করে ফেললেন মুনাকে। মুনা যিনি ছিলেন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, থাকতেন মামার বাসায়।

বাকের ভাই মুনার সব কিছুতে আগ্রহ দেখাতেন, কিন্তু পাত্তা পেতেন না খুব একটা। কিন্তু একটা সময় ঘটনাপ্রবাহ গড়াতে গড়াতে বাকের ভাই মিথ্যা মামলায় ফেঁসে জেলে গেলেন। এইদিকে মুনার জীবনও গভীর নিঃসঙ্গতায় ছেয়ে গেল নানান ঘটনায়, সময়ের ব্যবধানে। যখন বাকের ভাই জেলে গেল, মুনা প্রায়ই দেখতে যেত তাকে। বাকের ভাই তখন জেলজীবনের কষ্ট ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করত। বলতো, জেলে খুব বেশি কষ্ট নাই, সিগারেটের কষ্ট বড় কষ্ট৷

মুনার মন আর্দ্র হতো কখনো। বলতো, একদিন তারা দুজন শহর থেকে অনেক দূরে বহুদূর চলে যাবে। যেখানে একটা ছোট্ট বাড়ি হবে একতলা বাড়ি , বৃষ্টি রাতে ঝমঝম করে শব্দ হবে টিনের ছাদে। বৃষ্টিতে ভিজবে মুনা ও বাকের ভাই, রচনা করবে তাদের স্বপ্নের সংসার। সেই স্বপ্ন নাটকেও আর সত্যি হলো না। বাকের ভাইয়ের মিথ্যা মামলায় ফাঁসি হলো। তার সহচর বদিই তাকে মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছিল। নাটকের শেষ দৃশ্যে যখন বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়ে গেল, কারাগারের এক পুলিশ মুনাকে জিজ্ঞেস করলো, উনি আপনার কি হয়? মুনা থমকে গেল। বললো, আমি?..আমি কেউ না।

নাটক শেষ কিন্তু রেষ রয়ে গেছে আজও। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি মেনে নিতে পারেনি দর্শকরা। আজও এই জুটিকে নিয়ে কথা হয়। পরবর্তীতে রেদোয়ান রনি এই জুটির ঘটনা নিয়ে একটি মিনি ধারাবাহিক নির্মান করেন সাত পর্বের। যেখানে হুমায়ূন আহমেদের আরেকটি চরিত্র মুনাকে কথা দেয়, সে বাকের ভাইকে খুঁজে দেবে। একদিন সত্যি সত্যি হিমুর সাথে দেখা হয়, বাকের ভাইয়ের।

যাই হোক, পর্দায় নয়, নাটকের স্ক্রিপ্টে নয়, উপন্যাসের পাতায় নয় এবার সত্যি সত্যি আবার একই বিন্দুতে অবস্থান হবে ‘বাকের ভাই’ এবং ‘মুনা’র। বাকের ভাইয়ের চরিত্রে ছিলেন আসাদুজ্জামান নূর, মুনা চরিত্রে ছিলেন সুবর্ণা মুস্তফা। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে প্রণয়ের এত আয়োজন ব্যর্থ হলেও এবার রাজনীতির ময়দানে, একই পথের মিছিলে তারা শামিল হবেন। আসাদুজ্জামান নূর তো আগেই সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হয়েছেন। এই সংসদেও তিনি সংসদ সদস্য। এবার সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেলেন সুবর্ণা মুস্তফা।

যদি এই নাটকের আরেকটি চরিত্রের কথা স্মরণ করি, বদি যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল বাকের ভাইয়ের সাথে, এই বদি নামেও বাস্তবে আওয়ামীলীগের এক সংসদ সদস্য ছিলেন। মাদকের অভিযোগে যার অবস্থা এখন শোচনীয়। হুমায়ূন আহমেদের আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র শুভ্র। দারুচিনি দ্বীপ সিনেমায় এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। এবং কাকতালীয়ভাবেই রিয়াজও সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষেই কাজ করেছেন।

নাটকের কথায় ফিরে যাই। রেদোয়ান রনির নাটকে হিমু কথা দিয়েছিল, বাকের ভাইকে খুঁজে দিবে মুনার কাছে। হিমুর এখন আর কোনো কাজ নেই। সময় আবার বাকের-মুনা দুইজনের গন্তব্য এনে ঠেকিয়েছে এক পথে। হিমু বেচারাটাই শুধু ভ্যাগাবন্ড হয়ে রইলো। সে পুরোপুরি মহাপুরুষ হয়েছে কিনা তা কি আর জানার উপায় আছে? রুপা এখনো নীল শাড়ি পড়ে অপেক্ষায় রয়ে গেল। বাস্তব জগতে তাদের মন্ত্রীত্ব নেই, সংসদে থাকে না ওরা। তবুও, বাকের ভাই, মুনা থাকুক। এই বাস্তব জগতটাকেও তো কাউকে না কাউকে আগলে রাখতে হবে, তাই না!

Comments
Tags

Related Articles

Back to top button