সিনেমা হলের গলি

ফজলুর রহমান বাবু, শাকিব খান ও আমরা…

অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু-র শাকিব খান বিষয়ে কথাগুলো শোনার সময়ই ভেবেছিলাম তিনি হতে যাচ্ছেন নেক্সট টার্গেট।

কথাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি অল্প কথায় অনেক কথা বলেছেন। প্রশ্নকর্তা শাকিব খান বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন তার বিষয়ে কথা বলার আগ্রহ নাই। আগ্রহ না থাকতেই পারে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয় সবার কি আগ্রহ থাকতে হবে নাকি! চলচ্চিত্রে সংকট চলছে কিনা জানতে চাইলে তখন তিনি বলেন-‘সেটা তো চলচ্চিত্রের তৈরি দর্শককে নষ্ট করার ফলে হয়েছে। যখন ১৫০০ হল ছিল ঐ সময়ের তৈরি দর্শকটাকে চলচ্চিত্রের একটা শিক্ষিত শ্রেণির উচিত ছিল ধরে রাখা। চলচ্চিত্র তো একটা কমবাইন্ড আর্ট সো একসাথে সেটা করা উচিত ছিল। সেই সম্ভাবনার জায়গাটাকে সে নষ্ট করেছে।’

এই কথা বোঝার মতো ক্যাপাবিলিটি তো আগে থাকতে হবে। নব্বই দশকে যারা সিনেমাহলে রেগুলার যেত তাদের ৯০% দর্শক আর যায় না। কেন যায় না সেটা বিস্তারিত বলারও দরকার নেই কারণ তখনকার সাথে আজকের ছবি ও তারকার মান বিচার করলে বোঝা যায়। সো ঐ সময়ে যে তৈরি দর্শকরা ছিল তাদেরকে ধরে রাখতে শিক্ষিত মানুষজন লাগত আরো চলচ্চিত্রে।

এ পয়েন্টটা তিনি একদম গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। শিক্ষিত শ্রেণির অভাব বলেই আজকে চলচ্চিত্রে এত অনিয়ম, দখলদারিত্ব, কপিবাজি করে বড়গলায় সেটা বলা, মৌলিক গল্পের ছবির হল শূন্যতা এসব সমস্যা। পার্শ্ববর্তী কলকাতা ইন্ডাস্ট্রি কেন এত এগিয়ে গেল কারণ তাদের বাণিজ্যিক ছবির সাথে মৌলিক গল্পের অফট্র্যাক ছবিও সমানভাবে স্থান পায় এমনকি অফট্র্যাকই বেশি হিট হয় যেমন – বেলাশেষে। সেই পরিবেশ কি আমরা করতে পেরেছি!

আমাদের এখানে ‘অজ্ঞাতনামা’ ইউটিউবে দেখে দর্শক আফসোস করে কেন সিনেমাহলে দেখতে পেল না। সিনেমাহলে মুক্তির সময় সিন্ডিকেট বাণিজ্যে পেছনে পড়ে যায় এসব ছবি।

শাকিবভক্তদের কাছে এ ছবিগুলো স্রেফ নাটক। তো বোঝাই যাচ্ছে ফজলুর রহমান বাবু কি মিন করেছেন। চলচ্চিত্রকে মেইনটেইন করতে যদি শিক্ষিত শ্রেণির উত্থানটা বেশি থাকত নব্বই দশক থেকে তাহলে আজকে কলকাতার মতো কমবাইন্ড বন্ডিং আমাদেরও থাকত। তারা ভবিষ্যৎ চিন্তা করেছে আর আমরা ছেড়ে দিয়েছি একজনের হাতে যা পারো করো ভিত্তিতে। সো বাবু-র তো অভিমান থাকতেই পারে। এ অভিমানটা শাকিব খান-কেন্দ্রিকই শুধু না বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে ইন্ডিকেট করা। সো কথা বুঝে তারপর রিপ্লাই করা উচিত।

ভিডিওটি নিয়ে এক শাকিবভক্ত পোস্ট করেছে-‘আপনার মতো ২/৪টা ফজলুর রহমান বাবু না থাকলে কিছু হবে না শাকিব খান থাকলে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে।’ আফসোস হয় তার জন্য সে জানেও না ফজলুর রহমান বাবু কত বড় মাপের অভিনেতা। হুমায়ুন ফরীদির পর দর্শক তাঁকে স্থান দিয়েছে অনেকে।

তাদের মস্তিষ্কে এ চিন্তা কখনো আসে না যে বলবে-‘আসেন আমরা শাকিব খানের পাশাপাশি আরো যারা আছে সবাইকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাই।’ কারণ, একা ভোগদখল করতে করতে ক্ষুধা এত বেড়ে গেছে যে যাকে ইচ্ছা তাকে যা খুশি বলা যায় আর্টিস্টও চেনে না।

সত্যি তো এটাই ফজলুর রহমান বাবু-র মতো অভিনেতা-ই বাংলাদেশে বর্তমানে ২/৪ টা কেন একটাও নেই।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button