রকমারিরিডিং রুম

আয়মান সাদিকের যে বইগুলো সঙ্গী এখন সবার!

‘Great minds discuss ideas; average minds discuss events; small minds discuss people’! ‘এলেনুর রোজভেল্ট’-এর এই উক্তিটা মানুষটার অনেক প্রিয়। তিনি প্রথম যখন উক্তিটি শুনেছিলেন, তার কাছে মনে হলো কেউ যেন তাকে কষে থাপ্পড় মারলো। আসলেই তো, সারাদিন দশ ঘন্টা কথা বললে আমরা নয় ঘন্টা মানুষকে নিয়েই তো কথা বলি। কেউ ফর্সা হলে বলি, ময়দা মেখে আসছে। কালো হলে বলি, এহ আসছে একটা ক্ষেত! বাদামি হলে বলি, ও তো অন্য সবার মতো কমন, আলাদা কিছু নেই। আমরা যা করি কিংবা যেমনই হই না কেন, মানুষ কথা বলবেই! তিনি তখন ভাবলেন, যদি স্মল মাইন্ড না হয়ে গ্রেট মাইন্ড হতে পারেন তাহলে কত অসাধারণ ব্যাপার হতো। কত নতুন নতুন আইডিয়া বের হয়ে আসতো।

তিনি ভাবাভাবির মধ্যে ব্যাপারটা রাখলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষেই চিন্তা করলেন একটি আইডিয়া। ঢাকার মানুষজন অনেক সুবিধা পায়। ঘরের কাছে কোচিং, ঘরের কাছে সব। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামের একটা ছেলে জানে না কীভাবে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পড়বে। ফার্মগেটের মোড়ে এডমিশন সিজনে কত নতুন মুখ আসে প্রতি বছর। যারা অর্থের অভাবে আসতে পারে না তারা আবার ভালো গাইডলাইন থেকেও বঞ্চিত হয়। এই প্রতিবন্ধকতাটা দূর করা যায় খুব সহজেই। ইন্টারনেটের মাধ্যমে। তিনি নিজে সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্র হয়ে যখন হিসাববিজ্ঞান কোর্সের ১৭টা অধ্যায় নিজে নিজে ইন্টারনেট ঘেঁটে শিখে ফেলেছিলেন, তখনই ভাবলেন কেমন হয় যদি এই কাজটাই আমরা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের জন্য করি!

শুরু হলো বাংলা ভাষায় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের এক দুরন্ত আইডিয়া। শুরু হলো টেন মিনিট স্কুল। তাকে এখন সবাই এক নামে চেনে। তিনি আয়মান সাদিক। গ্রেট মাইন্ড কিছু তরুণদের সাথে নিয়ে বিনামূল্যে অনলাইনেই ১ম শ্রেণী থেকে বিসিএস , স্কিল ডেভেলপমেন্ট থেকে অনুপ্রেরণার ভিডিও ছড়িয়ে দেন। টেন মিনিট স্কুলের উদ্যোক্তা আয়মান সাদিকের এখন আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিচয় হলো, তিনি এখন লেখালেখির সাথেও যুক্ত হয়েছেন। নিজে যা কিছু শিখেছেন, সেসব আইডিয়া ছড়িয়ে দিতে পছন্দ করেন যদি এর মধ্যে থেকে কোনো আইডিয়া কারো কাজে লেগে যায় এর চেয়ে দারুণ আর কি হতে পারে! ভীষণ ‘ডাউন টু দ্যা আর্থ’ ধরণের এই মানুষটার লেখা বইগুলোও আলোচিত হচ্ছে, পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে। আয়মান সাদিক লিখিত যে বইগুলো এখন সবার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, সেই বইগুলো নিয়ে আজকের লেখাটি।

নেভার স্টপ লার্নিং

নেভার স্টপ লার্নিং’ বইটি গত বছর প্রকাশিত হয়েছিল। গত বইমেলায় বইটি সর্বাধিক বিক্রিত বইগুলোর একটি। এই বইটিতে দারুণ কিছু ট্রিক নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। স্টুডেন্টরা যে বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত থাকে, কনফিউশনে থাকে এই বিষয়গুলো নিয়ে লিখেছেন তিনি। যেমন ইংরেজি ভোকাবুলারিকে আয়ত্বে আনার পাঁচটা স্পেশাল উপায় আছে। ছাত্রজীবনে উপার্জন করতে চাইলে কী কী করা যেতে পারে সেই আইডিয়া আছে। সিভি লেখার কৌশল আছে। সিজিপিএর গুরুত্ব, টাইম ম্যানেজমেন্ট এসব নিয়েও বিশ্লেষণ আছে।

এছাড়া, একজন স্টুডেন্টদের তার প্রতিদিনের রুটিনে কাজে লাগাতে পারবে এমন অনেকগুলো দারুণ আইডিয়া দেয়া আছে বইটাতে৷ আপনি হয়ত একেবারে নিজেকে বদলে ফেলতে পারবেন না, কিন্তু ছোট খাটো পরিবর্তনও কত বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে আপনার জীবনে সেই আইডিয়া পাওয়া যাবে এই বইটাতে৷ ৪৭ টি অধ্যায়, ৪৭ টি আইডিয়া। বইটা অবশ্যপাঠ্য এ কারণে যে, এই ৪৭টা অধ্যায়ের কোন একটা আইডিয়া হয়ত আপনার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে যেতেই পারে! নেভার স্টপ লার্নিং বইটি ঘরে বসেই অর্ডার করুন এই লিংক থেকে- http://bit.ly/2X9F1xx

ভাল্লাগে না

ভাল্লাগে না’ এটা যেন আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় রোগ। আমাদের অজুহাতের সীমা নেই। খুব দ্রুত আমরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। এই রোগটা যেন মনের মধ্যে শেকড় না গেড়ে বসে, সেজন্যে অসাধারণ কিছু আইডিয়া দেয়া হয়েছে বইটিতে।

আপনি নিজের জীবনের কাজকর্মগুলো ট্র‍্যাক করে দেখুন। এখানে একটা বড় অংশজুড়ে থাকে হতাশা। আপনি কখনো মেজাজ খারাপ করে বলে ফেলেন, এই দেশের কিছু হবে না। কিন্তু দেশটার জন্য আপনার অবদান কি, সমালোচনার বাইরে? যে দেশে আপনি আমি ঘুমিয়ে, অপ্রয়োজনীয় অজুহাত দেখিয়ে সময় কাটাচ্ছি সেই একই দেশের সন্তানরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে গিয়ে স্বর্ণ জয় করে আসছে। নাসার কম্পিটিশন জিতে আসছে। গুগলে চাকরি করছে। হার্ভার্ডে পড়ছে। একশটা দেশ ভ্রমণ করছে নিজের খরচে, একা একাই৷ এভারেস্ট জয় করছে। আমরা আসলে একটা চক্রের মধ্যে পড়ে গেছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা দেখি কতজনের কত সাফল্যের খবর। কিন্তু, এগুলোর পেছনে হাড়ভাঙ্গা খাটুনিটা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় না। ফলে, এসব সাফল্যকে ভাগ্যের অবদান মনে হয় আর নিজেকে মনে হয় আনলাকি। ব্যাপারগুলো এমন না। যে ভাল্লাগে না চক্রে আমরা পড়ে গেছি এটার দোষ শুধু আমাদের না, আজকের সমাজ ব্যবস্থা, অস্থিরতা, শর্ট টাইমে কিছু করে ফেলতে হবে এমন চিন্তা ভাবনা, সোশ্যাল প্রেশার সব মিলিয়ে এমন হচ্ছে।

নেভার স্টপ লার্নিং, স্টুডেন্ট হ্যাকস, ভাল্লাগে না, আয়মান সাদিক, টেন মিনিট স্কুল

আবার আমাদের দোষগুলোকেও একেবারে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু, এসব থেকে বেরুনো সম্ভব। মাইন্ডসেট ঠিকঠাক করা নিয়ে অনেক বই বেরিয়েছে। অনেক বই আছে নিজের ভাল্লাগে না রোগকে দমন করে কিভাবে মোটিভেটেড থাকা যায় সেসব আইডিয়া নিয়ে। বাংলায় লিখলেন, আয়মান সাদিক। আমাদের মতো করে, আমাদের সমস্যা অনুধাবন করে। সাথে ছিলেন অন্তিক মাহমুদ। বইয়ের মধ্যে যেসব কার্টুন আছে সেগুলো করেছেন অন্তিক মাহমুদ। ‘ভাল্লাগে না’ রোগীদের জন্য এই বইটি এক মহাঔষধ হিসেবে কাজ করবে বলেই মনে হয়। দারুণ এই বইটি অর্ডার করুন এই লিংকে- http://bit.ly/2X9eksU

স্টুডেন্ট হ্যাকস

দুই ভাই মিলে লিখেছেন এই বইটি। আয়মান সাদিক, সাদমান সাদিক দুইজনই দারুণ মেধাবী মানুষ। তাদের সবচেয়ে ভাল দিক হলো, এরা দুইজনই কোনো বিদ্যা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন না। যা করেন, যা শিখেন সব কিছু শেয়ার করতে পছন্দ করেন। ভিডিও বানানো থেকে কিভাবে তারা নিজেদের জীবনের শিডিউল ঠিক করেন সব কিছুই তারা শেয়ার করেন তাদের ভিডিওতে। তাদের আরেকটা দারুণ গুণ হলো, পড়ালেখা নিয়ে কাজকারবার হলেও তারা ক্রিয়েটিভ কাজের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন, স্কিল শেখান। আউট বইয়ের প্রচার করেন৷ মোটকথা আপনি একজন মানুষ হিসেবে এই একুশ শতকের সারভাইভালের জন্য আপনার যা জানা দরকার, চেষ্টা করা দরকার তার সবকিছুই আসলে এই দুই ভাই জানানোর চেষ্টা করেন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক কিছুই আমাদের জানানো হয় না সময়মতো, যা তারা জানাতে চান।

স্টুডেন্ট হ্যাকস বইটিতে তেমন কিছু ট্রিকস, টিপস নিয়ে তারা লিখেছেন। বইটিতে আপনার নোটবুক হিসেবেও কাজ করতে পারে। আপনি আপনার গোল সেটিং করে লিখে রাখতে পারেন। বইয়ে ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে অনেক জায়গায়। পড়ালেখার একঘেয়েমি চক্র থেকে বেরিয়ে আনন্দদায়ক উপায়ে যারা কিছু শিখতে চান, তাদের সঙ্গী হওয়া উচিত এই বইটি! ঘরে বসেই অর্ডার করুন বইটি এখান থেকে- http://bit.ly/2Xildbs

ট্রাভেল বাংলাদেশ Challenge Book

আয়মান সাদিকের সর্বশেষ বই এটি। আমি নিজে ট্যুরিজম এন্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র বলে বুঝতে পারি, এই ধরণের একটি বই কতটা দরকারি ছিল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। আমাদের দেশে ট্যুরিজমের যেটুকু সম্ভাবনা ততটুকু নিয়ে মুখে মুখে যতটুকু কথা হয়, কাগজে কলমে আসলে আমাদের ওতটুকু খুঁটির জোর নেই। অল্প কয়েকটি মুখচেনা পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া বাকি জেলা সম্পর্কে একদমই আমাদের জ্ঞ্যানশূণ্য। আমাদের দেশে অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে ট্রাভেল নিয়ে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কোনো তথ্যভাণ্ডার নেই যেখান থেকে গোটা দেশের একটা চিত্র পাওয়া যায়৷ 

এরকম একটি সময়ে এই বইটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলেই মনে হচ্ছে। বইটিতে প্রত্যেকটি জেলায় গিয়ে আপনি কি কি করতে পারেন, কি কি খেতে পারেন, কোথায় যেতে পারেন সেরকম একটি তালিকা দেয়া আছে। আছে বাকেট লিস্ট। আপনি একটি জেলা ঘুরবার সময় হাতে রাখতে পারেন বইটি। যা কিছু এক্সপিরিয়েন্স করা হয়ে যাবে, সেগুলোতে টিক চিহ্ন দিয়ে রাখতে পারেন। আপনার ট্রাভেল জার্নাল হিসেবে যেমন কাজ করবে, বইটি আপনার গাইড হিসেবেও কাজ করবে। ভ্রমণপ্রিয়দের সঙ্গী হোক এই বইটি! বইটি সংগ্রহ করুন এই লিংক থেকে- http://bit.ly/2X8mHEZ

২৫% ছাড়ে আয়মান সাদিকের সকল বই কিনুন এই লিংক থেকে- http://bit.ly/2Xa89ov

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Back to top button